kalerkantho


আজ তাঁর চলে যাওয়ার এক বছর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:২৫



আজ তাঁর চলে যাওয়ার এক বছর

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ২০১৬ সালের এপ্রিলে সৈয়দ শামসুল হকের ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নেওয়া হয় লন্ডনে। সেখানের রয়াল মার্সডেন হাসপাতালে পাঁচ মাস চিকিৎসা চলে। একপর্যায়ে লন্ডনের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, তেমন কিছুই করার নেই। এরপরই তিনি ফিরে আসেন নিজ মাতৃভূমিতে। ভর্তি হন ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর ইচ্ছানুসারে তাঁকে জন্মভূমি কুড়িগ্রামে সরকারি কলেজের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

সৃজনশীলতার সব শাখায় সৈয়দ শামসুল হকের অবাধ চলন ছিল। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, চিত্রকলা, সংগীত, অনুবাদ, সমালোচনাসহ সৃজনশীলতার প্রতিটি শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন।

কাব্যনাট্য রচনায় ঈর্ষণীয় সফলতা পাওয়া সৈয়দ হক 'নূরলদীনের সারা জীবন', 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়', 'গণনায়ক', 'ঈর্ষা' ইত্যাদি নাটকে রেখেছেন মুন্সিয়ানার স্বাক্ষর। 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' ও 'নূরলদীনের সারা জীবন' বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ষাট, সত্তর ও আশির দশকে অনেক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের জন্য গানও লিখেছেন তিনি। তাঁর 'হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস', 'অনেক সাধের ময়না আমার', 'তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া', 'চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা'র মতো বহু গান মানুষের মুখে মুখে। তাঁর 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস নিয়ে কয়েক বছর আগে 'গেরিলা' নামে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। তিনি যখন নিজে লেখার শক্তি হারিয়ে ফেলেন, তখন স্ত্রী কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক করেছেন অনুলিখন। চিকিৎসার ছয় মাসে তিনি প্রায় দুই শ কবিতা, উইলিয়াম শেকসপিয়ারের 'হ্যামলেট' এর পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও আটটি ছোটগল্প রচনা করেন।

অগণিত পাঠকের ভালোবাসার পাশাপাশি দেশের প্রায় সব প্রধান পুরস্কারই নিজের অর্জনের খাতায় জমা করেছেন সৈয়দ শামসুল হক। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, পদাবলী কবিতা পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক প্রভৃতি।


মন্তব্য