kalerkantho


অনুমোদন নেই, নির্মাণেও ত্রুটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ আগস্ট, ২০১৭ ১১:০৯



অনুমোদন নেই, নির্মাণেও ত্রুটি

নির্মাণ ত্রুটির কারণেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের বাহাদুরপুরে নির্মাণাধীন ফিলিং স্টেশনের শেডের ছাদ ধসে পড়ে। কারিগরি সমস্যা ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে কৃচ্ছ্রের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া স্টেশনটি নির্মাণে যথাযথ অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শাহনূর আলম গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কমিটিতে থাকা কারিগরি সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

এদিকে ছাদ ধসে নিহত চারজন নির্মাণ শ্রমিকের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আহতদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাদধসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলায় স্টেশনটির মালিক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনকে আসামি করা হতে পারে।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় সায়রা ফিলিং স্টেশনের শেডের ছাদ ধসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার তেরাকান্দা গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৩০), আশুগঞ্জের যাত্রাপুর গ্রামের আওয়াল মিয়ার ছেলে মো. নাজমুল (২২), একই এলাকার রহিজ মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৫৫) ও সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের তাজু মিয়া ছেলে আবু ছায়েদ (৩০) নামের চার নির্মাণ শ্রমিক নিহত হন।

আহত হন আরো তিন শ্রমিক। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।    

তদন্ত কমিটির প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শাহনূর আলম জানান, গতকাল থেকে তদন্তকাজ শুরু করা হয়েছে। শেডের জন্য যে পিলার নির্মাণ করা হয়েছে এর সঠিক গাঁথুনি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া প্রতিটি পিলারে লম্বা আকারে ১২টি করে রড দেওয়ার কথা থাকলেও চারটি করে দেওয়া হয়। ছাদের নিচে স্টিলের পাইপ দিয়ে ঠেকা দেয়ার বদলে ছোট ছোট বাঁশ দেওয়া হয়। আর এসব কারণেই ঢালাইয়ের পর পর পিলার ভেঙে ছাদ ধসে যায়। স্টেশনটির ভবন তথা শেড নির্মাণে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভবনটি নির্মাণে দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল করিম খান। কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, নিয়ম অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমতি নিতে হয়। আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম তালুকদার জানান, বিকেলে নিহতদের লাশ নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 


মন্তব্য