kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস

বিষণ শহরের গল্প

সেলিনা হোসেন

৮ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বিষণ শহরের গল্প

অঙ্কন : বিপ্লব

কতটা সময় পেরিয়ে গেলে সুফিয়া খাতুনের মনে হয় ও নিজের ভেতর ডুবে যাচ্ছে। এটাও নিজের সঙ্গে ওর এক রকম খেলা। নিজেকে উল্টেপাল্টে দেখার মধ্যে কৌতুক আছে, বাস্তব আছে। হাসি-আনন্দের সূত্র আছে। আকস্মিকভাবে ওর মনে হয়, সময় বয়ে যাচ্ছে দ্রুত। যেন নদীর স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে সময়।

ক্লান্তিহীনভাবে সে নিজেও নিজের ভেতরে ছোটার গতি ধারণ করেছে। ছোটার ভেতরে জীবনের দর্শন আছে। তার নানামুখী ব্যাখ্যা হতে পারে। নিজেকেই প্রশ্ন করে, কোথায় পৌঁছাতে চাও তুমি?

সুফিয়া থমকে দাঁড়িয়ে বলে, জানি না।

—জানো না মানে? তোমার ঠিকানা নেই? গন্তব্য স্থান নেই?

—থাকবে না কেন? আছে। ঠিকানা না থাকা মানে তো আমি একজন ভুতুড়ে মানুষ। আমার তো ঠিকানা আছেই। আমি ভুতুড়ে মানুষ না। তোমরা আমাকে যেখানে খুঁজবে সেখানেই পাবে।

—বুঝেছি, তোমার ঠিকানা অপরাধীর মোকাবেলায় নিজেকে খাড়া রাখা।

—হ্যাঁ, তাই। আমি ঘটনার বিচার চাই।

—এখনকার ঠিকানা কোথায়?

—সালমার কাছে যাব। ও লারা ফাউন্ডেশনে কাজ করে। দালালদের ধরে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বানিয়েছে।

—ওর কাছে যাওয়ার তোমার দরকার কী? এমন তো শত শত মেয়ে যাচ্ছে।

—যাকে চিনি তাকে শেষ দেখা দেখতে চাই। ও যখন দেশে ফিরবে তখন দেখা না-ও হতে পারে।

—তোমার মুখ থেকে মনে হচ্ছে তুমি ওকে কিছু উপদেশ দেওয়ার জন্য যাবে।

—হ্যাঁ, তাও করতে পারি। আর কথা বলবে না আমার সঙ্গে।

—ঠিক আছে, তুমি তোমার ঠিকানায় যাও।

সুফিয়া খাতুন কোনো দিকে না তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করে। শ্যামলীর ফ্লাইওভারের ওপর দাঁড়িয়ে দম ফেলে। এ পথে যাওয়া খুব কঠিন। যে লারা ফাউন্ডেশন এখন নানা কাজ করছে, সে লারার সঙ্গে তো ওর পরিচয় হয়েছিল নিজের গ্রামে। বিদেশিদের সঙ্গে গিয়েছিল। ওদের সঙ্গে বাংলা কথা বলে বিদেশিদের তা ইংরেজিতে বোঝাত। সেই লারার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবরও শুনেছিল। গাঁয়ের রজত মিয়ার দোকানে পত্রিকার পৃষ্ঠায় লারার ছবি দেখেছিল। বড় বড় করে লেখা হয়েছিল দুর্ঘটনার খবর। সেই ছবি-ছাপানো কাগজটি বুকের ওপর রেখে অনেকক্ষণ কেঁদেছিল ও। নদীর ধারে গিয়ে বসে বলেছিল, তুই এত পানি নিয়ে বয়ে যাস, তুই কি ওর প্লেনের আগুন নিভিয়ে দিতে পারিসনি। নদী বলেছিল, কাজটা অত সহজ ছিল না রে, সুফিয়া। ওরা তো ওপর থেকে পড়ে গিয়ে পুড়েছে। আগুন লেগেছে আকাশে। আমিও ওর জন্য কেঁদেছি রে, সুফিয়া। ও নদী খুব ভালোবাসত। বলত, নদী রে, তুই আমায় ভালোবাসায় ডুবিয়ে রাখিস। আমার ভালোবাসার নদী যেন ভালোবাসার মানুষকে ডুবিয়ে রাখে। স্মৃতি থেকে ভেসে আসা কথা সুফিয়া খাতুন শ্যামলীর রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুনতে পায়। ওর বুক তোলপাড় করে উঠলে ও আঁচল দিয়ে চোখ মোছে। চোখ মুছে বলে, লারা, তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই। কোথায় পাব তোমাকে? তোমার ঠিকানাটা আমাকে জানাও, লারা। আমি তো ঠিকানা খোঁজার মানুষ। আমাদের গ্রামে সেদিন তুমি নারীদের কম মজুরি পাওয়ার ব্যাপারটি বিদেশিদের বলেছিলে। পরে এনজিও থেকে আমাদের পুরুষের সমান মজুরি দিয়েছিল। আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম। আল্লাহর কাছে তোমার হায়াত চেয়েছিলাম, লারা। তুমি আমাদের কাঁদিয়ে চলে গেলে!

তখন সুফিয়া খাতুন দেখতে পায় উল্টোদিক থেকে সালমা আসছে। ওকে দেখে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়।

—তুমি কেমন আছ, সুফিয়া বুবু?

—আমি ভালো আছি। কোথায় গিয়েছিলি?

—অফিসের ম্যাডামদের জন্য বিস্কুট আর কোক কিনতে এসেছিলাম।

—তোর সৌদি যাওয়ার সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে?

—হ্যাঁ, সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে। আগামী পাঁচ তারিখে সকাল আটটায় আমাদের সবাইকে নিয়ে একটা বাস এয়ারপোর্টে যাবে।

—কয়জন যাচ্ছিস?

—আমরা তিরিশজন।

—তোর সঙ্গে আমার কথা আছে।

—আমার অফিসে চলেন। ম্যাডামদের নাশতা দিয়ে আমি আপনার সঙ্গে কথা বলব।

—চল যাই।

দুজনে ফাউন্ডেশনের অফিসে আসে। সুফিয়া খাতুন দরজার মুখে দাঁড়িয়ে লারার বড় আকারের ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকে। ও শিক্ষানবিশি প্লেনের যন্ত্রের ওপর দুহাত রেখেছে। ওর বাম হাত দেখা যাচ্ছে। ছবিতে ডান হাত নেই। কালো রঙের কোট পরে আছে। চোখে চশমা। গম্ভীরভাবে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকে। দেখে মনে হচ্ছে, নিজেকে শেখার গভীরতায় ডুবিয়েছে। চারপাশের কোনো দিকে তাকানোর সুযোগ নেই। প্রগাঢ় নিমগ্নতা ওকে আবিষ্ট করে রেখেছে। সুফিয়া খাতুন ছবিতে হাত রেখে বলে, তুমি আমার সঙ্গে থাকবে। তোমাকে আমি কখনো ভুলব না।

সালমা এসে কাছে দাঁড়ায়।

—এই ছবি দেখে তুমি শেষ করতে পারবে না, সুফিয়া বুবু। এটা দেখে শেষ করার ছবি না।

—তা আমি জানি। বারবার এই ছবির সামনে এসে দাঁড়াতে হবে।

—চলো আমরা সিঁড়িতে গিয়ে বসি।

—লোকজন ওঠা-নামা করবে না?

—অফিস টাইমে বেশি লোকজন ওঠা-নামা করে না। আর কেউ এলে আমরা সরে যাব।

—আয়, বসি। সুফিয়া খাতুন সিঁড়িতে বসে পাশের রেলিংয়ে হেলান দেয়। সালমার হাত ধরে বলে, তুই যে সৌদি আরবের রিয়াদে যাবি কাজ করতে, দালালরা তোকে সব খবর ঠিকমতো বলেছে তো?

—বলেছে। আরবি ভাষায় কিভাবে কথা বলতে হবে তার কিছু কিছু শিখিয়েছে। আদবকায়দা শিখিয়েছে—

—হয়েছে, এসব রাখ। এসব শোনার আমার দরকার নাই।

—নির্যাতন করলে যে গর্ভ হবে, সেসব কিছু বলে নাই?

—বলেছে। আমাদের হাসপাতালে নিয়ে ইনজেকশন দিয়েছে। বলেছে, তিন বছরের মধ্যে কোনো গর্ভ হবে না।

—দালালরা তোদের বুঝিয়ে দিয়েছে, ধর্ষণ হবেই। সেটা মানতে হবে। টুঁ শব্দ করা চলবে না। তাই তো?

—হ্যাঁ, সে রকমই। বলেছে, টাকা কামাই করতে গেলে এসব মানতে হবে।

—তার পরও তুই যাচ্ছিস?

—যাচ্ছি তো।

—এখানে তো একটা চাকরিতে তুই আছিস। না খেয়ে তো রাস্তায় গড়াতে হচ্ছে না। তার পরও কেন যাবি?

—গ্রামের বাড়িতে ঘর ওঠাব। সে জন্য টাকা দরকার। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার জন্য টাকা দরকার। আমার ছেলেটা পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়। ওকে আমি ডাক্তার বানাব।

—অনেক স্বপ্ন তোর। ঠিক আছে যা। বেটাদের সঙ্গে শুয়ে ভালো থাক। তবে মার খাস না যেন।

—গতকাল যে চারজন সৌদিতে কাজ করতে গিয়ে খালি হাতে ফিরে এসেছে, আমি সে খবরও জানি। তিন মাসে এক টাকাও বেতন দেয়নি। উল্টো বলেছে, বেতনের টাকা নাকি দালালরা নিয়েছে। ওরা অনেক কেঁদেছে।

—আরেকজন বলেছে একসঙ্গে তিন পরিবার থাকে। লোকসংখ্যা বাইশজন। আমি একাই রান্নাবান্না করি। শুধু রান্না না, ঘরের সব কাজ করতে হয়। দম ফেলার সময় পাই না। তার ওপর পান থেকে চুন খসলে গায়ে হাত তোলে। মারের কোনো হিসাব থাকে না। আরো অনেক কথা বলেছে সেই মহিলা। তারপর কাজের ধকল সহ্য করতে না পেরে চলে এসেছে।

—টাকা আনতে পেরেছে?

—না, তেমন কিছু টাকা আনতে পারেনি। উল্টো খাটনি খেটে অসুস্থ হয়ে এসেছে।

সালমা ওড়নায় চোখ মুছতে মুছতে বলে, আল্লাহ জানে আমার ভাগ্যে কী আছে!

—যাচ্ছিস তো মনের জোরে। গায়ের জোরও লাগবে রে।

—হ্যাঁ, ওদের কথা শুনে তা বুঝতে পারছি। আরেকজন কি বলেছে তা কি তুমি শুনেছ সুফিয়া বুবু?

—খবরের কাগজে পড়েছি যে একজন বলেছে নবী-রসুলের দেশে কত যে অরাজকতা। রাইতে বাপে বিছানায় নেয়, আবার দিনে নেয় পুতে। কেউ ছাড়ে না। এরা কি মুসলমান না? এরা কোন শয়তান?

—ওহ্, আল্লাহরে—

চেঁচিয়ে ওঠে সালমা। জোরে জোরে বলে, আমার সঙ্গে এমন করলে আমি একজনকে খুন করব। বঁটি দিয়ে, না হয় ছুরি দিয়ে গলা কাটব।

—নিজের বিপদ নিজে ডাকবি না। এমন অবস্থা দেখলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসবি। দেশে ফিরে আসবি।

—হ্যাঁ, আমি তাই করব সুফিয়া বুবু। মুসলমানের দেশে এত ধর্ষণ কেমনে হয়?

সুফিয়া খাতুন কথা না বলে উঠে দাঁড়ায়।

—ধর্ষণের বিরুদ্ধে ওই দেশে শাস্তি নাই?

—আমি জানি না। যাক, তোর সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো হলো। তুই টাকা কামাই করে ঠিকঠাকমতো ফিরে আয়, এই দোয়া করি। লারার আর একটা ছবি দেখতে চাই।

—আসো, ভেতরে আসো। লারা আপুর অনেক ছবি আছে। আপুর হাসি দেখলে তোমার পরান জুড়িয়ে যাবে।

সুফিয়া খাতুন অফিসের ভেতরে ঢুকে লারার ছবির সামনে দাঁড়ালে ওর বুকের ভেতর শীতল হয়ে যায়। নিজেকে বলে, যেসব যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আছি, তোমাকে দেখে যন্ত্রণার গায়ে ঝরনার পানি পড়ছে আপুমণি। তোমার হাসি আমার কাছে গলগলিয়ে ঝরে পড়া শান্তি। আহ শান্তি! কিন্তু আমি জানি তোমার সামনে থেকে সরে গেলে এই শান্তি আমি হারাব। আমার চারপাশে আগুন। আমি যখন হাঁটি, আমার মনে হয় অগ্নিকুণ্ডের ভেতরে হেঁটে যাচ্ছি।

ভেসে আসে লারার কণ্ঠস্বর। বলছে, আমাদের অনেক ভালোবাসার দিক আছে, সুফিয়া। সাহস করে লড়তে হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। দেখবে, সঙ্গে থাকবে অনেকে, যারা সুস্থ-সুন্দর জীবন চায়। তুমি ধৈর্য হারাবে না।

—কষ্টে ধৈর্য হারিয়ে যায় আপু। সহ্য করতে পারি না।

—বেঁচে থাকা এমনই। সুফিয়া, তোমাকে অনেক হাঁটতে হবে। যেতে হবে দীর্ঘপথ। ভেবে দেখো, আইয়ামে জাহিলির যুগে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের কবর দেওয়া হতো। সে সময়ের পুরুষরা এখন আবার অন্য খেলায় মেতে উঠেছে। আমাদের অনেক পথ হাঁটতে হবে, সুফিয়া। তুমি যাও। শ্যামলীর ফ্লাই ওভারের ওপরে বসে একজন কাঁদছে। তাকে তুমি এই অফিসে নিয়ে আসো। একটা ব্যবস্থা করো। যাও।

—তোমাকে সালাম আপু। যাই।

সালমাকে মাথায় হাত দিয়ে আদর করে সিঁড়ি দিয়ে নামে সুফিয়া খাতুন। সঙ্গে সঙ্গে সালমাও নিচে নেমে আসে। ওড়নায় চোখ মুছে বলে, আমার যাওয়া কি খুব কষ্টের হবে?

—যা হয় হবে। বুদ্ধি করে সামাল দিবি। যা, অফিসে যা। তোকে আবার খোঁজাখুঁজি হতে পারে।

—হ্যাঁ, আমি যাই। আমার কিছু হলে আপনি আমার খবর রাখবেন।

—খবর তো তোকে দিতে হবে। আমি কী করে খবর পাব? দেখলি না কদিন আগে যারা ফেরত এসেছে, তারা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। মোবাইল নাই। অনেকের বাড়িতে যাওয়ার টাকা নাই। অনেকে বলেছে, বেতন চাইলে মারধর করত। ঠিকমতো খাবারও দিত না। থাক, এসব কথা আর বলব না। শুধু তোর মনে জোর রাখার জন্য বলেছি। তা ছাড়া দালালরা তো তোকে ইনজেকশন দিয়ে তৈরি করে দিয়েছে। গিয়ে দেখ কী হয়। আমি যাচ্ছি।

সালমা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সুফিয়া খাতুনের চলে যাওয়া দেখে। ওর মনে হয় এটা কোনো চলে যাওয়া নয়; সুফিয়া খাতুন নিমেষে উধাও হয়ে গেছে। উড়ে গেছে দূরে বা কাছে কোথাও।

সুফিয়া খাতুন তখন গিয়ে দাঁড়িয়েছে গুলবানুর কাছে। শ্যামলী ফ্লাইওভারের ওপর রেলিংয়ে হেলান দিয়ে বসে আছে ও। কখনো মাথা ঠেকায় রেলিংয়ে, কখনো মাথা সোজা করে দূরে তাকিয়ে থাকে। সুফিয়া ওর পাশে বসে বলে, এখানে বসে আছ কেন? বাড়িতে যাবে না?

—সাত দিন আগে সৌদি থেকে চলে এসেছি। মা-বাবা বেড়িবাঁধের কুঁড়েতে থাকে। থাকার জায়গা নেই। মা থাকতেও দেয়নি। উল্টা বকাবকি করেছে। বলেছে, আমার মুখ আর কোনো দিন দেখবে না।

—তোমার গর্ভ হয়েছে, সে জন্য?

—হ্যাঁ। আমি কী করব? আমার কিছু করার ছিল না। বাপ-পুতের নির্যাতনে কাহিল হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর পালিয়ে চলে আসি। দেশের লোকেরা আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

—আমার সঙ্গে আয়, তোর কাজের ব্যবস্থা করে দেব। থাকার জায়গায়ও পাবি।

নবী-রসুলের দেশে যে আমাদের এমন ধর্ষণ করা হয়, তার শাস্তি নাই? ওই দেশে কি এসব কাজকে বিরিয়ানি খাওয়ার মতো করে দেখা হয়? খুবই সহজ। ইচ্ছা করলেই যা খুশি তাই—

ভেসে আসে শহরের কণ্ঠস্বর—সুফিয়া খাতুন, কিছুদিন আগে সৌদিতে একটি আইন পাস করেছে মন্ত্রিসভা। সৌদি মন্ত্রিসভাকে পরামর্শ দিয়েছে শুরা কাউন্সিল। এই কাউন্সিল যৌন নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করে একটি খসড়া আইন পাস করেছে। বলা হয়েছে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল আর তিন লাখ রিয়াল জরিমানা হবে।

—তোমার কি মনে হয়, শহর? এতে ধর্ষণের ঘটনা কমবে?

—কিছু তো কমবে। জেল আর জরিমানার ভয় পাবে কেউ।

—যাক, তুমি আর সাফাই গেয়ো না। আমি গুলবানুকে নিয়ে যাই। শোন, ও কাঁদছে।

স্তব্ধ হয়ে যায় শহর। চারদিকে ছড়াতে থাকে গুলবানুর কান্নার ধ্বনি।



মন্তব্য