kalerkantho


শেষ হওয়া অ্যাশেজের কিছু খুঁটিনাটি দিক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:৫০



শেষ হওয়া অ্যাশেজের কিছু খুঁটিনাটি দিক

শেষ হলো সাত সপ্তাহের অ্যাশেজ লড়াই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে দাপট দেখিয়ে ৪-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া। সেই সাথে আবারো অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করলো অসিরা। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পাশাপাশি এবারের পুরো অ্যাশেজ ছিলো উত্তেজনায় ভরপুর। মাঠ ও মাঠের বাইরের ঘটনায় ভরপুর ছিলো এবারের অ্যাশেজ। 

এবারের অ্যাশেজে দ্বিতীয় টেস্টটি ছিলো দিবা-রাত্রির। অ্যাশেজের ইতিহাসে এবারই প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। অ্যাডিলেড ওভালের ঐ টেস্টে ১২০ রানে জিতে সিরিজে ডাবল-লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ব্রিজবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে জিতেছিলো অসিরা।

দল হিসেবে ইংল্যান্ড পুরো সিরিজে খারাপ খেললেও ক্রিকেট ভক্তরা মাঠের বাইরে ছিলো সক্রিয়। পুরো সিরিজে পাঁচ ভেন্যুতে ৮ লাখ ৫০ হাজার ইংল্যান্ড সমর্থক প্রবেশ করে। তাদের প্রত্যাশা ছিলো ইংলিশরা অন্তত সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে এবং ট্রফি অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হবে।

সিরিজের প্রথম তিন টেস্ট জিতে আগেভাগেই অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। তাই চতুর্থ টেস্টের আগের সিরিজটি হয়ে পড়ে নিয়ম রক্ষার। তবে চতুর্থ টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর প্রথমবারের মতো প্রাধান্য বিস্তার করে খেলার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের দুর্দান্ত ডাবল- সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। আগের তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে কুকের স্কোর ছিলো এমন ২,৭, ৩৭, ১৬, ৭ ও ১৪। চতুর্থ ম্যাচে অপরাজিত ২৪৪ রান করেন তিনি।

শুধুমাত্র দু’দলের অধিনায়করাই নন, মেলবোর্নের পিচকে ‘বাজে’ মন্তব্য করতে বাধ্য হয় ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এরপরই টনক নড়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। আইসিসি পরামর্শ নিয়ে আরো উন্নত মানের পিচ তৈরি করার আশা ব্যক্ত করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

চতুর্থ টেস্টের স্মৃতি ভুলে সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেতে মরিয়া ছিলো ইংল্যান্ড। কিন্তু এখানেও ব্যর্থ হয় তারা। ব্যাটসম্যান-বোলারদের ব্যর্থতায় ইনিংস ও ১২৩ রানে হারের স্বাদ নেয় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে হারে ইংল্যান্ড। তারপরও এই সিরিজ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই দল অর্জন করেছে বলে জানান ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টো। তিনি বলেন, এমন পারফরমেন্সে আমরা হতাশ। তবে আমাদের মধ্যে একতা আছে। আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। অ্যাশেজের হতাশা ভুলে ওয়ানডেতে ভালো পারফরমেন্স করতে মুখিয়ে আছে দল।

এবারের অ্যাশেজে সেরা খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার দলপতি স্মিথ। ২টি সেঞ্চুরি ও ১টি ডাবল-সেঞ্চুরির সাথে ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৫ ম্যাচের ৭ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৮৭ রান করেন তিনি। অ্যাশেজের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রানে ষষ্ঠ স্থানে তিনি। তবে প্রথম তিনটিস্থানেই রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি খেলোয়াড় স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। 

স্মিথের পরই আছেন তারই সতীর্থ শন মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার। মার্শ ৪৪৫ ও ওয়ার্নার ৪৪১ রান করেন। রান সংগ্রহে সেরা তিন স্থানে যেখানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তিনজন, সেখানে চতুর্থ স্থানে জায়গা হয় ইংল্যান্ডের ডেভিড মালানের। ৫ ম্যাচের ৯ ইনিংসে ৩৮৩ রান করেন মালান।

ব্যাটসম্যানদের মত বোলারদের তালিকাতেও অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য। শীর্ষ চারটি স্থান দখল করে রেখেছেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লিঁও। চার জনের উইকেট শিকার যথাক্রমে ২৩, ২২, ২১ ও ২১। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের আধিপত্যের পর পঞ্চম স্থানে থাকতে পারেন ইংল্যান্ডের সেরা পেসার জেমস এন্ডারসন। ১৭ উইকেট শিকার করেন তিনি। 

তাই ব্যাটিং-বোলিং-এর এমন সব পারফরমেন্সও প্রমান করে পুরো সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কতটা উজ্জ্বল ছিলো অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা।


মন্তব্য