kalerkantho


বিশ্বকাপে মডরিচের ক্রোয়েশিয়াও

ভাগ্যদেবীও তাহলে সুইজারল্যান্ডের!

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভাগ্যদেবীও তাহলে সুইজারল্যান্ডের!

দুই লেগ মিলিয়ে ১৮০ মিনিটের লড়াই। অতিরিক্ত সময় ধরে আরো না হয় মিনিট ১০-১২।

এই প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টার ফুটবলীয় দ্বৈরথে ‘ছোট্ট’ দুটি ঘটনাই হয়ে উঠল মহাগুরুত্বপূর্ণ। যেখানে ভাগ্য পক্ষে থাকায় ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলার টিকিট পায় সুইজারল্যান্ড। আর ১৯৮৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সুযোগটা ফসকে যায় উত্তর আয়ারল্যান্ডের।

ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বের প্লে-অফের প্রথম লেগ ছিল দিন কয়েক আগে। বেলফাস্টের সেই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় সুইসদের। উত্তর আয়ারল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের পিঠে বল লাগলেও রেফারি রায় দেন তা হাতে লাগার। ফলে পেনাল্টি। তা থেকে করা গোলেই জয় সুইজারল্যান্ডের। ম্যাচের পর থেকেই তো তাই ফুঁসছিল মার্টিন ও’নিলের দল।

সুযোগ ছিল পরশু দ্বিতীয় লেগে প্রত্যাবর্তনের। কিন্তু ওই যে, দুর্ভাগ্যের ছায়া পিছু ছাড়েনি! যে কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়েও গোল পায়নি। জনি এভান্সের হেড নিশ্চিতভাবেই ছিল গোলমুখী, সেটি জালে জড়ালেই ১-০ ব্যবধানে জিতে যায় উত্তর আয়ারল্যান্ড। বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার লড়াইটা তখন গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। কিন্তু এভান্সের হেডের বলটি গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন রিকার্দো রদ্রিগেজ। যিনি প্রথম লেগে পেনাল্টি থেকে করেন গোল। সেই গোলই হয়ে যায় নির্ণায়ক। পরশু দ্বিতীয় লেগ গোলশূন্য থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানে জিতে রাশিয়া বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড। এটি হবে সুইসদের টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ।

ম্যাচশেষে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক ইয়ান সমারের কণ্ঠে প্রত্যাশিত উচ্ছ্বাস, ‘সবাই বলছিল যে আমাদের বিশ্বকাপে যাওয়ার কাজটি প্রায় হয়ে গেছে। কিন্তু উত্তর আয়ারল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সব সময় লড়াই করতে হয়। এটি ছিল ভীষণ কঠিন; খুব চাপের। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি বলে আমরা রোমাঞ্চিত। ’ আর ভীষণ হতাশা উত্তর আয়ারল্যান্ড কোচ ও’নিলের, ‘প্রথম লেগের ওই বাজে সিদ্ধান্তের কারণেই আমাদের বিশ্বকাপ খেলা হলো না। পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল; লাল কার্ড না দেখানোরও (সুইজারল্যান্ডের ফাবিয়ান সারকে)। এভাবে বিদায় নেওয়া কষ্টদায়ক। আমরা স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি ৯৪তম মিনিট পর্যন্ত। অন্তত অতিরিক্ত সময়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় ছেলেরা একেবারে বিধ্বস্ত। তবে ওদের নিয়ে এর চেয়ে বেশি গর্বিত আমি হতে পারতাম না। ’

ইউরোপিয়ান অঞ্চলের প্লে-অফে পরশুর অন্য দ্বৈরথটি এত জমজমাট ছিল না। গ্রিসকে প্রথম লেগে ৪-১ গোলে হারিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ একরকম নিশ্চিত করে রাখে ক্রোয়েশিয়া। পরশুর দ্বিতীয় লেগে স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি গ্রিস। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যায় ক্রোয়াটদের।

শেষটা সহজ মনে হলেও মাসখানেক আগেই অবস্থা ছিল ভিন্নরকম। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের দিন দুয়েক আগে কোচ আনেত চাচিচকে বরখাস্ত করে ফেডারেশন দায়িত্ব দেয় জ্লাতকো দালিচকে। নতুন ওই কোচের অধীনে প্লে-অফ পেরিয়ে এখন বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া। রাশিয়াতেও তাঁকে নিজেদের কোচ হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছার কথা খোলাখুলি জানান অধিনায়ক লুকা মডরিচ, ‘বিশ্বকাপে দালিচ আমাদের কোচ না থাকাটা হবে স্রেফ পাগলামি। কেননা অসাধারণ কাজ করেছেন তিনি। আমি আগের কোচ চাচিচকেও ধন্যবাদ দিতে চাই। আসলে সব কিছুর ওপরে ক্রোয়েশিয়া। এখন সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হলো, আমরা বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছি। ’ এএফপি, বিসিসি


মন্তব্য