kalerkantho


বেতন বাড়েনি ক্রিকেটারদের

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় সাব্বির রহমানের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার খবর অনেক পুরনো। নতুন খবর হলো, সবশেষ চুক্তির ১৬ জন থেকে কাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের তৃতীয় সভায় ছাঁটাই হয়েছেন আরো পাঁচজন। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বোর্ডের বেতনভুক ক্রিকেটারের সংখ্যা নেমে এলো ১০-এ। অবশ্য এঁদের সঙ্গে আরো তিনজন নবাগত ক্রিকেটারকেও চুক্তির (রুকি কন্ট্রাক্ট) আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। সেই নতুন তিনজনের নাম প্রস্তাব করবে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি। প্রস্তাবনা ছিল চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধিরও। কিন্তু কাল ঠিক হয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের বেতন আগে যা ছিল, তা-ই থাকছে। বাড়ছে না এক কানাকড়িও।

কেন? এর ব্যাখ্যায় নাজমুল বলছিলেন, ‘কয়েক মাস আগেই না ওদের বেতন বাড়ানো হলো?’ সম্ভবত ২০১৭ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির কথাই বলতে চেয়েছেন তিনি। যে চুক্তিতে আগের চেয়ে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ বেতন বেড়েছিল মাশরাফি বিন মর্তুজা-সাকিব আল হাসানদের। বেড়ে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের বেতন গিয়ে ঠেকেছিল মাসিক চার লাখ টাকায়। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা পেতেন মাসে তিন লাখ টাকা। পরের তিন ক্যাটাগরির (বি, সি এবং ডি) ক্রিকেটাররা পেতেন যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা করে। সেই অঙ্ক এবার না বাড়লেও কমেছে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা। যাতে আছেন দশজন—তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ, মমিনুল হক, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। সাব্বিরসহ বাদ পড়া অন্য পাঁচজন হলেন সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ এবং কামরুল ইসলাম রাব্বি।

পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত না হওয়াতেই তাঁরা চুক্তি থেকে ছিটকে পড়েছেন বলে বোর্ডসভার পর জানিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস, ‘বোর্ড মনে করে ওদের পারফরম্যান্স চুক্তিতে থাকার মতো নয়।’ শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের চুক্তির ব্যাপারটি সুরাহা হলেও হয়নি প্রথম শ্রেণির খেলোয়াড়দের। বোর্ডসভার পর সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি জানালেন, সে জন্য বিসিবির অর্থ কমিটির কাছে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারসহ অন্যদের (বিসিবির চাকুরে) ক্ষেত্রে বোর্ডের বার্ষিক বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কেমন বাড়ানো যায়, তা অর্থ কমিটিকে পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হয়েছে।’ এটার নিষ্পত্তি না হলেও ঠিক হয়েছে জুনে ভারতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজই খেলবে বাংলাদেশ। আফগানরা চার ম্যাচের সিরিজ চাইলেও বিসিবি চায় তিন ম্যাচের। দেরাদুনেই সিরিজটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি জানিয়ে নাজমুল টি-টোয়েন্টি খেলতে চাওয়ার একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, যা অনেকের কাছেই অদ্ভুত লেগেছে, ‘সামনে আমাদের টেস্ট আর ওয়ানডেই বেশি। টি-টোয়েন্টি কম। কিন্তু বিশ্বকাপ সামনে রেখে এটাও তো খেলতে হবে। যদিও বিশ্বকাপ আরো পরে।’ আরো পরে মানে সেই ২০২০ সালে। তার আগে দেশের ক্রিকেটারদের আরো দু-দুটি বিপিএলও (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) খেলা হবে। এর প্রথমটি এবার একটু আগেভাগেই শুরু হচ্ছে। নভেম্বরের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরের কথা মাথায় রেখে এবার সেটি ৫ অক্টোবর শুরু করে ১৬ নভেম্বর শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে কালকের সভায়। নাজমুল অবশ্য সেটি ১ অক্টোবর থেকে শুরুর সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। গত আসরে এক ম্যাচে পাঁচজন বিদেশি খেলানোর বিতর্কিত নিয়ম থেকেও এবার সরে এসেছে বিসিবি। এবার এক ম্যাচে সর্বোচ্চ খেলতে পারবেন চার বিদেশি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর হয়ে আগের আসরে খেলা ক্রিকেটারদের ধরে রাখার (রিটেইন) নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক স্থানীয় ক্রিকেটারকেই ধরে রাখা যেত। এখন থেকে সেই চারজনই হতে পারেন স্থানীয় অথবা বিদেশি। আবার কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইলে দেশি-বিদেশি মিলিয়েও চারজনকে ধরে রাখতে পারবে। এই বিপিএলের আগেই বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে বলে মনে হলো কাল নাজমুলের কথায়, ‘ওরা (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) যে সমস্যার কথা বলেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। ওদের টেস্ট খেলা নিয়ে সমস্যা। আমরা অন্য ফরম্যাট খেলার প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি।’ আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে আঞ্চলিক ক্রিকেট একাডেমি জুড়ে দেওয়ার প্রস্তাবনাও কাল চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। সেটি পেলেই এক মাসের মধ্যে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হবে বলেও কাল জানিয়েছেন ১ জুলাই থেকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি হতে যাওয়া নাজমুল। রোটেশন পলিসি অনুযায়ী এবার বাংলাদেশ থেকেই সভাপতি হওয়ার কথা। সেই পদে পরিচালনা পর্ষদ কাল তাঁকেই মনোনীত করেছে বলে নিজমুখেই জানিয়েছেন নাজমুল। যদিও এই পদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি নন। এর আগে এসিসি সভাপতির পদে বসেছেন আলী আসগার এবং আ হ ম মোস্তফা কামালও।


মন্তব্য