kalerkantho


হেড কোচ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কারস্টেনও

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



হেড কোচ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কারস্টেনও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রথমে একটু রহস্যই রেখে দিতে চাইলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। চন্দিকা হাতুরাসিংহের উত্তরসূরি নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানাতে গিয়ে বললেন, ‘আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে যদি ওলটপালট না হয়, তাহলে ২০ বা ২১ তারিখের (মে) মধ্যেই আমাদের উপদেষ্টা চলে আসছেন।’

সেই উপদেষ্টা কে? গত পরশু রাতে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফিজয়ী দল এবং ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ দলের কোচ গর্ডন গ্রিনিজকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অবশ্য প্রশ্নে প্রশ্নে নামটি বলেই দিলেন নাজমুল। সেই নামটি অনেক আগে থেকে শোনা যাওয়া নামই। আগে থেকেই জানা যে পূর্ণকালীন চাকরিতে আগ্রহী না হলেও পরামর্শক হিসেবে কাজ করায় কোনো আপত্তি নেই ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ গ্যারি কারস্টেনের। এ ভূমিকাতেই দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এ ব্যাটসম্যানকে লুফে নিয়েছে বিসিবি। এ মুহূর্তে তিনি কাজ করছেন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ব্যাটিং কোচ হিসেবে। যদিও তাঁর দলের অবস্থা সুবিধার নয়। আট দলের প্রতিযোগিতায় পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ৭ নম্বরে। এ অবস্থায় দলটির সেরা চারে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে। যেটি আবার বাংলাদেশের জন্য সুবিধার। তাহলে যে দ্রুতই ঢাকায় চলে আসতে পারবেন কারস্টেন! সে জন্যই তো নাজমুল পয়েন্ট টেবিলে ‘ওলটপালট’ প্রসঙ্গ আনলেন!

কিন্তু কারস্টেন তো উপদেষ্টা, হেড কোচ নন। ২০১৯-এর বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ নিয়োগপ্রক্রিয়াই এখন থমকে আছে। এ অবস্থায় সেটি তুলে রেখে কারস্টেনের আসার অপেক্ষা কেন? এ প্রশ্নের জবাবেই নাজমুল জানালেন যে হেড কোচ নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কারস্টেনের শরণাপন্ন হয়েছে বিসিবি। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে একজন উপযুক্ত হেড কোচ খুঁজে দেওয়ার কাজে যুক্ত করা হয়েছে এই দক্ষিণ আফ্রিকানকে। তিনি এরই মধ্যে সেই কাজ শুরুও করে দিয়েছেন। ঢাকায় এসেই নিজের বাছাই করা কোচদের তালিকাটা বিসিবিকে দেবেন বলে জানালেন সভাপতি, ‘‘কারস্টেন এর মধ্যেই আমাদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের ‘নিড অ্যানালিসিস’ করে কোচ খুঁজছেন। এরই মধ্যে তিনি অনেকের সাক্ষাৎকারও নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্য থেকেই আমাদের জন্য যথার্থ হয়, এমন কোচদের একটি তালিকা কারস্টেন ঢাকায় এসে দেবেন।’’

তাহলে কি কারস্টেনের পছন্দ থেকেই হেড কোচ বেছে নেবে বিসিবি? নাজমুল যা বললেন, তাতে ওই দক্ষিণ আফ্রিকানের পছন্দের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে বিসিবির একটি তালিকাও। দুইয়ে মিলে যে তালিকা দাঁড়াবে, বাংলাদেশের পরবর্তী হেড কোচ নির্বাচিত হবেন সেখান থেকেই, ‘আমরাও একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করে রেখেছি। ওই তালিকায় আছেন তিনজন কোচ। কারস্টেনকে আমরা সেই তালিকাও দেব। এটার সঙ্গে নিজেরটা মিলিয়ে উনি আমাদের জন্য একজন সবচেয়ে উপযুক্ত কোচের নাম সুপারিশ করবেন।’ কোচ নিয়োগ করতে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া বিসিবি এবার অবস্থান বদল করেছে বলেও জানালেন সভাপতি, ‘আমরা এবার যে তালিকাটা করেছি, তাতে নামি কেউ নেই। হাতুরাসিংহে এখানে আসার সময় যে রকম ছিলেন, সেই রকম কেউ একজন হবেন।’

তাঁদের প্রত্যেকেই যেহেতু এখন কোনো না কোনো জায়গায় আছেন, তাই নাজমুল কারো নাম বলতে চাইবেন না, স্বাভাবিক। এটুকুই শুধু বললেন, ‘আমাদের তালিকার তিনজনের একজন দক্ষিণ আফ্রিকান, একজন অস্ট্রেলিয়ান এবং আরেকজন ইংল্যান্ডের।’ তবে শুধু জাতীয় দলের হেড কোচই নয়, অন্যান্য দলের কোচ বাছতে গিয়েও কারস্টেনের পরামর্শ নিচ্ছে বিসিবি, ‘‘অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও ‘নিড অ্যানালিসিস’ করছেন কারস্টেন। যেমন আমাদের ‘এ’ দলের জন্য কেমন কোচ দরকার বা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য কেমন।’’ এ মুহূর্তে জরুরি অবশ্য জাতীয় দলের হেড কোচ নিয়োগই। সেই প্রক্রিয়া গতিশীল করার জন্য কারস্টেনের আসার অপেক্ষা। তবে এসে গেলেই যে চটজলদি কোচ খুঁজে পাওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তাও দিচ্ছেন না নাজমুল। বলছেন আরো সময় লাগবে, ‘আফগানিস্তান সিরিজের আগে হেড কোচ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। আশা করি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে নিয়োগ দেওয়া যাবে। আমরা কারস্টেনের অপেক্ষায় আছি। আশা করি জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আপনারা কোচ নিয়োগের বিষয়টি দৃশ্যমান হতে দেখবেন।’

যদিও দৃশ্যপটে এসেও অনেক কোচই হারিয়ে গেছেন। এমনিতেই সিংহভাগ কোচেরই এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে অল্প সময়ে বেশি রোজগারের দিকে ঝোঁক। সেই সঙ্গে কেউ কেউ আবার রাজি হয়েও পরিবারের অসম্মতিতে শেষ মুহূর্তে না করে দিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পল ফারব্রেসকে চূড়ান্ত করেও তাই থমকে যেতে হয় বিসিবিকে। এ জন্যই এবার অন্যভাবে চেষ্টা করে দেখছেন তাঁরা। সেই চেষ্টায় খুব ভালোভাবেই সম্পৃক্ত হয়েছেন কারস্টেনও!


মন্তব্য