kalerkantho


তাঁদের অন্য রকম ‘ঘরে ফেরা’

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



তাঁদের অন্য রকম ‘ঘরে ফেরা’

বেশির ভাগ পেশাদার ফুটবলারের কাছে ক্লাবই তো ঘরবাড়ি! বছরের বেশির ভাগ সময় খেলা হয় ক্লাবেই। জাতীয় দলই বরং ‘অতিথিশালা’র মতো! আইসল্যান্ডের তিন ফুটবলার—র‌্যাগনার সিগুর্ডসন, স্ফেরির ইনগাসন আর বিয়োর্ন সিগুর্ডসনের জন্য রাশিয়ায় খেলতে আসাটা যে ঘরে ফেরার মতোই। কারণ তিনজনই খেলেন রুশ লিগের দল এফসি রোস্তভে। এই ক্লাবেরই মাঠ রোস্তভ অ্যারেনাতেই আইসল্যান্ড তাদের গ্রুপ পর্বের সবশেষ ম্যাচটা খেলবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

মাত্র সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যার দেশ আইসল্যান্ড। বিশ্বকাপে এবারই তারা খেলছে প্রথমবারের মতো। ২০১৬ ইউরোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চমকজাগানো জয়ের পর আইসল্যান্ডকে দেখা হচ্ছে ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ হিসেবেই। আইসল্যান্ডে তীব্র শীতের কারণে লিগের স্থায়িত্ব মাত্র কয়েক মাসের—মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দলও মাত্র ১২টি। তাই বেশির ভাগ ফুটবলারই খেলেন ইউরোপের অন্যান্য দেশে। রাশিয়াতেই লম্বা সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা আছে তিনজনের। ইনগাসন ২০১৭ থেকে খেলছেন রোস্তভে। র‌্যাগনার সিগুর্ডসন এই বছরই রোস্তভে আসলেও রুবিন কাজান, ক্রাসনোদরে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। বিয়োর্ন সিগুর্ডসনও এই বছরই এসেছেন রোস্টভে। কৃষ্ণ সাগরের পাড়ে আইসল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্পে অনুশীলনের পর এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমাদের জন্য বিশ্বকাপটা আসলে অনেকটাই ঘরে ফেরার মতো।’ ২৬ জুন এখানেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে আইসল্যান্ড। সিগুর্ডসন মনে করেন, এই ম্যাচটায় খানিকটা হলেও হোম অ্যাডভান্টেজ পাবেন তাঁরা, ‘ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটায় আমরা অনেকটা স্বাগতিকদের মতো সুবিধাই বোধ হয় পাব। ওই শহর আর স্টেডিয়ামটা আমরা খুব ভালো করে চিনি।’ ইনগাসনও যোগ করলেন, ‘আইসল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের পর থেকেই রোস্তভের লোকজন আমাদের বলতে শুরু করেছে যে বিশ্বকাপে তারা আমাদের সমর্থন করবে।’ র‌্যাগনার সিগুর্ডসন ও ইনগাসন দুজনেই রোস্টভের রক্ষণ সামলানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। এবার একই মাঠে সামলাবেন আইসল্যান্ডের রক্ষণ, ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করবেন বলেই জানালেন সিগুর্ডসন, ‘তিনজন একসঙ্গে থাকাটা একা থাকার চেয়ে তো ভালো! তিনজনই পরস্পরকে চিনি, একসঙ্গে থাকলে একে অন্যকে সাহায্য করতে পারে।’

আইসল্যান্ডের ‘ভাইকিং ক্ল্যাপ’, তাদের ভক্তদের প্রচণ্ড উৎসাহ ও উদ্দীপনা গ্যালারি মাতিয়েছিল ইউরো ২০১৬-তে। এবারও সেই ভক্তরা আসবে রাশিয়াতে, দ্বিগুণ রোমাঞ্চ নিয়ে। তাদের এই দিকটাই অনেককে বানিয়ে ফেলেছে আইসল্যান্ড দলের ভক্ত, তেমনি একজন স্থানীয় শুল্ক কর্মকর্তা দিমিত্রি, ‘তারা একটা ছোট দেশ হতে পারে, তবে তাদের হৃদয় অনেক বড়।’ এএফপি

 


মন্তব্য