kalerkantho


ভিএআর যুগেরযাত্রা শুরু

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ভিএআর যুগেরযাত্রা শুরু

দারুণ একটা আক্রমণ শাণিয়ে তুলছে দল, প্রতিপক্ষ পেতেছে অফসাইডের ফাঁদ। আপনার মনে হচ্ছে এটা অফসাইডই হবে, কিন্তু সহকারী রেফারি নির্বিকার। কাছে থেকে দেখেও পতাকা তুলছেন না তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখতে পেলে অবাক হবেন না! আসলে এটা মোটেই বেচারার দুর্বলতা নয়, বরং এইটাই তাঁর শক্তি—ফিফার আদেশ অনুসারেই এমন নিষ্ক্রিয়তা দেখাবেন সহকারী রেফারিরা।

এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হতে যাচ্ছে টেলিভিশন রিপ্লে। মাঠের রেফারিদের সাহায্য করতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার এই পদ্ধতিটির নাম দেওয়া হয়েছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা সংক্ষেপে ভিএআর। ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অতিপরিচিত পদ্ধতির মতোই কাজ করবে ফুটবলেও, মাঠের বাইরে টেলিভিশনের সামনে থাকবেন একজন রেফারি, আর তাঁকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য পুরো একটা দল। মাঠের রেফারিরা প্রয়োজন মনে করলে কোনো বিষয়ে তাঁদের মতামত চাইতে পারবেন, কানে লাগানো শব্দযন্ত্রের মাধ্যমে ভিএআরও চাইলে দিতে পারবেন পরামর্শ। যে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, মাঠের জায়ান্ট স্ক্রিনে দর্শকরাও দেখতে পাবে সেটা।

এক বছর ধরে ইউরোপের দুটি বড় লিগ—জার্মানির বুন্দেসলিগা আর ইতালির সিরিএতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহূত হয়েছে, তবে ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে এই প্রথম ব্যবহূত হতে যাচ্ছে ভিডিও রিপ্লের সহায়তা। ফিফার রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান, ২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, সহকারী রেফারিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অফসাইডের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে পতাকা নামিয়ে রাখতে, ‘সহকারী রেফারিকে পতাকা তুলতে না দেখলে ভাববেন না তিনি ভুল করছেন। এর কারণ আসলে তিনি পতাকা নামিয়ে রাখার নির্দেশটাকে সম্মান দেখাচ্ছেন। অফসাইডের সূক্ষ্ম কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের পতাকা নামিয়ে রাখতে বলা হয়েছে, কারণ হয়তো খুব সম্ভাবনাময় একটা আক্রমণ গড়ে উঠছে, এমন সময় তিনি পতাকা তুললেই তো সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমাদের কাছে প্রযুক্তি আছে। সহকারী রেফারি পতাকা না তুললে আক্রমণটা পরিণতি পেয়ে হয়তো গোল হয়ে যাবে; কিন্তু আমরা রিপ্লে দেখে দরকার হলে সেটার ব্যাপারে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

ফিফার ডিরেক্টর অফ রেফারিং মাসিমো বুসাচ্চা অবশ্য সাবধান করিয়ে দিয়েছেন, ভিএআর একেবারে শতভাগ নির্ভুল করে তুলতে পারবে না রেফারিং সিদ্ধান্তকে, ‘আমরা যখন এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার মানে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে এটা একেবারে শতভাগ নির্ভুল কাজ করবে।  তবে আমি নিশ্চিত, এবার বড় কোনো ভুল হবে না।’ বিবিসি, রয়টার্স


মন্তব্য