kalerkantho


সৃষ্টিশীলতা বাড়াতে হবে স্পেনের

সালাম মুর্শেদী, লিখছেন কালের কণ্ঠে   

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেও স্পেন কোনো রকমে জিতেছে ইরানের বিপক্ষে। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা ও সুন্দর ফুটবল খেলাটা তাদের ব্র্যান্ড। অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে আক্রমণগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছে বলেই সুন্দর খেলাটা ঠিক পূর্ণতা পাচ্ছে না। আমার মনে হয়, খেলায় আরেকটু গতি এবং একজন ‘পারফেক্ট’ ফিনিশারের অভাব আছে। এই দুটি থাকলে স্পেনকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারতাম।

তাদের সঙ্গে ইরানের এমনই খেলার কথা। যাদের বল নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য এত ভালো তাদের বিপক্ষে ছোট দল রক্ষণাত্মক কৌশলেই খেলবে। গত বিশ্বকাপেও ইরান এমন খেলেছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। আসলে রক্ষণাত্মক দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করাটা মাঝে মাঝে কঠিন হয়ে পড়ে। তারা খেলার জন্য আপনাকে পুরো মাঠ ছেড়ে দেবে, সেখানে সুন্দর পাসিং ফুটবল খেললেন। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে সর্বোচ্চ মানের সৃষ্টিশীলতা দেখাতে না পারলে ওই রক্ষণ ভাঙতে পারবেন না।

স্পেনের ক্ষেত্রেও হয়েছে তা-ই। গোলের আগ পর্যন্ত ইরানের ডিফেন্স লাইন চমৎকার ছিল। স্পেন অনেক খেলে-টেলে আটকে গেছে ইরানি ডিফেন্সে গিয়ে। এটা ভাঙতে মুভমেন্টগুলো খুব দ্রুত হওয়া উচিত ছিল, সেটা হয়নি। সৃষ্টিশীলতাও তেমন চোখে পড়েনি। তবে ইনিয়েস্তা দুইবার চেষ্টা করেছিলেন বাঁ দিক ধরে দ্রুত ওঠা আলবার পায়ে লং বল ফেলতে। দুইবারই টাইমিংয়ে ভুল হয়ে গেছে বলে রক্ষা পেয়েছে ইরান। মুভমেন্টগুলো যখন পূর্ণতা পায় না তখন সাধারণত বাইরে থেকে শট নেয়। সেটাও করেনি স্প্যানিশরা। ইরানি গোলরক্ষককে তারা সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এর পরও গোল হজম করতে হয়েছে তাকে শুধু দুর্ভাগ্যের কারণে। ইরানি ডিফেন্ডারের শট কোস্তার পায়ে লেগে পৌঁছে যায় পোস্টে। সুবাদে স্পেন দ্বিতীয় রাউন্ডের কাছাকাছি। তবে বড় স্বপ্ন দেখতে তাদের গোল-অভ্যাস বাড়াতে হবে। গোল খাওয়ার পর ইরানের আক্রমণগুলো খুব ভালো লেগেছে। একটা গোল তো অফসাইডে বাতিল হয়ে গেছে এবং ভিএআরের প্রয়োজনীয়তা বোঝা গেছে আরেকবার। এ প্রযুক্তি না থাকলে স্পেনের ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। এ ছাড়া ইরানের আরেকটি হেড অল্পের জন্য ক্রসবার উঁচিয়ে গেছে। আর কিছু সময় পেলে হয়তো-বা গোল শোধ করে ফেলত ইরান।

এই গ্রুপে একটা মজার ফুটবল প্রদর্শনী হচ্ছে। এগারোজনে মিলে স্পেন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে কোনো রকমে গোল বের করছে। আর পর্তুগালের নিয়ন্ত্রণহীন ম্যাচ জেতাচ্ছেন একা রোনালদো। একটা স্ট্রাইকারের ওপর ভর করেই এগোচ্ছে একটি দল! মরক্কো মোটেও খারাপ খেলেনি, সুযোগও পেয়েছে। কিন্তু পার্থক্য ওই রোনালদো, হাফ-চান্সকে গোলে রূপ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত দলের সবগুলো গোলই তাঁর করা। গত বিশ্বকাপটা ভালো না কাটলেও ক্যারিয়ারে শেষ বিশ্বকাপটা রাঙিয়ে দিচ্ছেন গোলে গোলে। চার গোল করেছেন মাত্র দুই ম্যাচে, বাকি আছে ইরানের ম্যাচ। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার আগেই হয়ে যেতে পারে তাঁর আরেক গোল।

♦ জাতীয় দলের সাবেক তারকা



মন্তব্য