kalerkantho


নতুন শুরুর প্রস্তুতি জার্মানির

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



গত বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে দল থেকে ছিটকে গেলেন মার্কো রয়েস। তবে সতীর্থরা তাঁর অভাব বুঝতে দেননি। যদিও নিজেরা রয়েসকে কতটা মিস করেছেন তা বোঝা গেছে ফাইনাল শেষে মারিও গোেজর হাতে ডর্টমুন্ড তারকার জার্সি দেখে। দেশে ফিরে শিরোপা উদ্যাপনেও না থেকেও ছিলেন রয়েস। সেই রয়েস এবার বিশ্বকাপে তাঁর সতীর্থদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন তো!

মেক্সিকো বিপর্যয়ের পর দলের অনেক কিছু নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কাউকে দেখা যায়নি—সাবেকদের কাছে এটাই ছিল সবচেয়ে হতাশার। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা মার্কো রয়েস সেখানে ব্যতিক্রম। তিনি নামার পরই ম্যাচে কিছুটা ধারালো মনে হয়েছে জার্মানদের। শনিবার সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে সম্ভাব্য অনেক বদলের মধ্যে এই রয়েসের শুরুর একাদশে ঢোকার দাবিটাই তাই সবচেয়ে জোরালো। এই ম্যাচের জন্য সোচিতে মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্প শুরু করেছে ডাই ম্যানশেফটরা। কাল অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে রয়েসের সামনে সে প্রসঙ্গ তুলতেই বিনীত জবাব জার্মান উইঙ্গারের, ‘এটা আমার বিষয় না। কোচই জানেন আমি কোথায় কী করতে পারি। আমি যা পারি তা হলো আরো বেশি পরিশ্রম করা, যাতে করে দলকে সাহায্য করতে পারি।’ রয়েস দলে ঢুকলে ইউলিয়ান ড্রেক্সলার জায়গা হারাতে পারেন। ওদিকে যাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে সেই মেসুত ওয়েজিলের ব্যাপারে এখনো অবশ্য কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে সামি খেদিরা জায়গা হারাতে পারেন ইকেই গুন্দোগান অথবা লিওন গোরেত্জার কাছে। সোচিতে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আগে টিম মিটিং ছিল জার্মানির। সেটা এতই দীর্ঘ হয়েছে যে সংবাদ সম্মেলনে মানুয়েল নয়াররা এসেছেন অনেক দেরি করে।

মেক্সিকো ম্যাচের পর থেকেই গুঞ্জন দলে অন্তর্দ্বন্দ্বের। তার একটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল ম্যাটস হামেলস ও জশুয়া কিমিচের কথায়। প্রতিপক্ষের আক্রমণের মুখে হামেলস ও জেরোমে বোয়েটেং বেশির ভাগ সময়ই একা পড়ে যাচ্ছিলেন, ম্যাচ শেষে হামেলস তা নিয়ে অভিযোগ করতে দ্বিধা করেননি। তরুণ কিমিচ প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের মানসিকতা নিয়ে। টিম মিটিংয়ে সেসবই নাকি আলোচনা হয়েছে বিস্তারিত। দলের ম্যানেজার অলিভিয়ের বিয়েরহফ তাতে নতুনত্ব দেখছেন, ‘আগে এই কথাগুলোই এত স্পষ্ট ও উচ্চস্বরে বলা হতো না কখনো। তবে আমাদের মানতে হবে এটা নতুন প্রজন্ম। তারা যা বলছে তাতে কোনো রাখঢাক রাখছে না, যা সঠিক মনে করছে তা-ই বলছে।’ তাতে অন্তর্দ্বন্দ্ব নয়, বরং খেলোয়াড়দের মধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের শীর্ষে ফেরার প্রবল তাড়নাটাই প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক মানুয়েল নয়ার তেমনটাই বলেছেন, ‘জার্মানির টিম মিটিংয়ে এমন বিস্তারিত, খোলাখুলি আলোচনা কখনো হয়নি। আমরা কোনো বিষয়ই এড়িয়ে যাইনি। কারণ সুইডেনের বিপক্ষে সামনের ম্যাচে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এর জন্য প্রবলভাবে আমরা আমাদের নিজেদের সমালোচনা করেছি, যাতে সত্যিকার অর্থেই জেগে উঠতে পারে সবাই।’

গত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা তারকা থমাস মুলার আত্মসমালোচনার কিছুটা প্রকাশও করেছেন, ‘ওয়ার্মআপ ম্যাচগুলোর ভুলত্রুটি অতটা গুরুত্বের সঙ্গে আমরা নিইনি। ভেবেছি কঠোর অনুশীলনের মধ্যে থাকার কারণেই হয়তো সমস্যাটা হচ্ছে। বিশ্বকাপে এটা কেটে যাবে। কিন্তু কাটেনি। এখন তাই আমাদের আবার শূন্য থেকে সব শুরু করতে হচ্ছে, প্রতিটি ভুলত্রুটি ধরে ধরে ঠিক করতে সেই বাড়তি পরিশ্রমের জন্যও আমরা তৈরি।’ এই মুহূর্তে গ্রুপ পর্ব পেরোনোটাই দলের সবচেয়ে বড় ভাবনা বলে জানিয়েছেন মুলার। নয়ার তো আগেই বলেছিলেন, গ্রুপে পরের দুটি ম্যাচই এখন তাঁদের কাছে ফাইনালের মতো।

সোচি থেকে জার্মানির সেই নতুন শুরুর অপেক্ষা। মস্কোতে দলের বেসক্যাম্পটা নিয়েও খেলোয়াড়দের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। ভাতুতিংকির থ্রি স্টার হোটেলটাকে মনে হয় যেন বোর্ডিং স্কুল। সেই অস্বস্তিকর পরিবেশ পেছনে ফেলে কৃষ্ণ সাগরের পারে সোচিতে খেলোয়াড়রাও প্রাণভরে দম নিচ্ছেন। নিজেদের ভুলত্রুটি সারিয়ে  ফাইনালের আগেই ‘ফাইনালের’ জন্য তৈরি হওয়ার মনোবলটাও যে এর মধ্যে সংগ্রহ করে ফেলেছেন, মুলারের কথাতেও তা স্পষ্ট। এএফপি

 



মন্তব্য