kalerkantho


রোনালদোর জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



রোনালদোর জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো

এবার আর গুজব নয়। সত্যি সত্যি রিয়াল ছাড়লেন প্রাণভোমরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পেছনে পড়ে রইল ৯ বছর, ৪৫১ গোল, চারটি করে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ব্যালন ডি’অর। আবেগঘন খোলা চিঠিতে রোনালদো বিদায়বেলায় স্মরণ করেছেন প্রিয় দলকে। তেমনি ক্লাব ও সতীর্থরাও শুভ কামনা জানিয়েছেন তাঁকে। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে রোনালদোর জুভেন্টাসে আসা নিয়ে ইতালির বিখ্যাত একটি দৈনিকের শিরোনাম ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’। কারণ তাঁর পেছনে সব মিলিয়ে আগামী চার বছরে জুভেন্টাসের খরচ হবে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো।

সাদা চোখে ৩৩ বছর ৬ মাস ছাড়ানো রোনালদোর ট্রান্সফার ফি ১০০ মিলিয়ন ইউরো। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ফি ১২ মিলিয়ন। এই ১২ মিলিয়ন ‘ট্রেনিং রাইটস’। ফিফার আইন অনুযায়ী এটা ভাগাভাগি হবে স্পোর্টিং লিসবন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যে। আগামী চার বছরে রোনালদো বেতন হিসেবে পাবেন ট্যাক্স ছাড়া ১২০ মিলিয়ন ইউরো বা ১৪০ মিলিয়ন ডলার। মানে প্রতিবছর ৩০ মিলিয়ন ইউরো বা ৩৫ মিলিয়ন ডলার। রিয়াল মাদ্রিদে তিনি পেতেন ২৩ মিলিয়ন ইউরো সেখানে পিএসজিতে নেইমারের বেতন ৩৫ মিলিয়ন ইউরো আর বার্সায় মেসির আরো বেশি। বেতনে এত পিছিয়ে থাকাটা পোড়াচ্ছিল রোনালদোকে।

জুভেন্টাসে বয়স অনুযায়ী বছরে ৩০ মিলিয়ন ইউরো রোনালদোর জন্য সম্মানের। প্রতি মাসে রোনালদো পাবেন ২.৫ মিলিয়ন ইউরো, সপ্তাহে ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৩ ইউরো, দিনে ৮২ হাজার ৪১৭ ইউরো, ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪৩৪ ইউরো আর মিনিটে ৫৭.২৩ ইউরো। ‘ফোর্বসের’ হিসাবে ট্যাক্সসহ চার বছরে বেতন ২০০ মিলিয়ন ডলার। এই খরচ মেটাতে হবে জুভেন্টাসকেই।

আলোচিত ট্রান্সফারটা হয়েছে ‘সুপার এজেন্ট’ হোর্হে মেন্দেসের মধ্যস্থতায়। ডেইলি মেইল জানাচ্ছে, এ জন্য কমিশন হিসেবে ১১ মিলিয়ন ইউরোর বেশি পাবেন মেন্দেস। ফুটবলের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গোল ডটকমের হিসাবে ট্রান্সফার ফি, গ্রস সেলারি, বোনাস, কমিশনসহ সব মিলিয়ে আগামী চার বছরে রোনালদোর জন্য প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো খরচ হবে জুভেন্টাসের, যা নেইমারের পরই ক্লাব ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এত বেশি ইউরো ঢেলে জুভেন্টাস বিনিময়ে কি পাবে?

সিরি ‘এ’তে টানা সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েও ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে আয়ে জুভেন্টাস সেরা সাতে নেই। কারণ চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের পর শিরোপা নেই ‘ওল্ড লেডিদের’। রোনালদো ২২ বছরের খরা কাটাতে পারবেন কি না বলা কঠিন। তবে তিনি আসার পর বাজির দরে এখনই এগিয়ে গেছে জুভেন্টাস। ক্লাবের শেয়ারের দর বেড়েছে ৭.৫ শতাংশ। ক্লাবের স্পন্সরশিপ থেকে আয় বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ। রোনালদোর জার্সি বিক্রি তো আছেই। রোনালদো আসায় ঝিমিয়ে পড়া ইতালিয়ান ফুটবলও জেগে উঠতে পারে নতুন করে। এ জন্য হয়তো বিদায় নিতে হতে পারে গনসালো হিগুয়েইন এমনকি পাউলো দিবালাকেও। জুভেন্টাসে সবচেয়ে বেশি বেতন পান হিগুয়েইন। রোনালদোর বেতনের জন্যই তাঁকে রেখে দেওয়ার সম্ভাবনা কম। এমনকি পাউলো দিবালার জন্যও প্রস্তাব পাঠিয়েছে কয়েকটি ক্লাব। জুভেন্টাস দিবালাকে ধরে রাখবে কি না সেটাও দেখার। তবে রোনালদোকে পেয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন জুভেন্টাস কিংবদন্তি দেল পিয়েরো, ‘জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চায়। হতে চায় সেরা ক্লাবও। রোনালদো সেই স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবে।’

রিয়াল মাদ্রিদের কি খুব ক্ষতি হলো রোনালদোকে ছেড়ে? এল পেইস জানাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৪ বছরে পা রাখতে চলা রোনালদোকে ছেড়ে দেওয়াটা লাভেরই হবে রিয়ালের। গত মৌসুমে ৪৪ গোল করলেও ৩৪ বছর বয়সে তাঁর ফিটনেস ও ফর্ম আগের মতো না থাকার শঙ্কাই এর কারণ। ৯ বছর আগে ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৯৪ মিলিয়ন ইউরোয় তাঁকে কিনেছিল রিয়াল। চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি লা লিগা, তিনটি ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জেতানো এই তারকাটিকে এত দিন পর বিক্রি করেও লাভ ৮ মিলিয়ন পাউন্ড! এমনি তো রোনালদোর ট্রান্সফার নিয়ে বলা হচ্ছে না ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’। গোলডটকম



মন্তব্য