kalerkantho


জ্যামাইকায় দুঃস্বপ্ন ভোলার লক্ষ্য

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জ্যামাইকায় দুঃস্বপ্ন ভোলার লক্ষ্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ পর্যায়ে ক্যারিবীয় ক্রিকেট গৌরবের সূর্য অস্তাচলে যাচ্ছিল। সেই থেকে ধীরে ধীরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দানবীয় পেস আক্রমণের শক্তির সঙ্গে উইকেটে সবুজ ঘাসের গতিময় ও বাউন্সি চরিত্রও হারিয়েছে। অ্যান্টিগা টেস্টে সেই চরিত্র ফিরতে দেখে কোর্টনি ওয়ালশের একটু আফসোসই হলো যেন। যদিও হাসতে হাসতেই বললেন, ‘মনে হচ্ছে, একটু তাড়াতাড়িই অবসর নিয়ে ফেলেছি আমি।’

গতিময় উইকেট দেখে তিনি রোমাঞ্চিত হলেও তাঁর এখনকার শিষ্যরা অ্যান্টিগায় কিছুই করতে পারেননি। বাংলাদেশের পেসাররা অনুকূল উইকেটেও নিষ্প্রভ ছিলেন। অথচ একই উইকেটে ক্যারিবীয় পেসাররা ঠিকই দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছেন সফরকারী ব্যাটসম্যানদের। সাকিব আল হাসানের দলকে ফেলেছেন ৪৩ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জায়। এই প্রথম দুই ইনিংস মিলিয়ে দুই শর নিচে রান করা বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হারতে সময়ে লেগেছে দুই দিন আর এক সেশন মাত্র। সবুজ উইকেটে তাদের খাবি খেতে দেখে নিশ্চিত যে আজ থেকে জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও উইকেটের একই সজ্জা রাখছে ক্যারিবীয়রা। নিজের দেশ জ্যামাইকায় গিয়ে বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ ওয়ালশেরও তাই মনে হয়েছে, ‘অ্যান্টিগার মতো সবুজ ও বাউন্সি উইকেটই এখানেও আশা করছি।’

কিন্তু তেমন কিছু হলে যে বাংলাদেশের জন্য তা আবারও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ওয়ালশ অবশ্য আশার বাণীই শোনাতে চাইলেন, ‘প্রথম টেস্টে আমরা অবশ্যই ভালো করিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব ভালো খেলেই জিতেছে। তবে আরেকটি টেস্ট যেহেতু আছে, আমাদের সুযোগ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। আশা করছি আমরা উন্নতি করতে পারব। এটি অনেক বড় এক পরীক্ষা আমাদের জন্য।’

যে পরীক্ষায় ভালো করতে পারলেই অ্যান্টিগা টেস্টের দুঃস্বপ্ন ভোলার মতো কিছু একটা পাওয়া যাবে। নিশ্চিত যে বাংলাদেশ দলও জ্যামাইকায় নামবে সেই লক্ষ্য নিয়েই। উইকেট অ্যান্টিগার মতো হলে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বড় এক পরীক্ষা হয়ে যাবে বাংলাদেশের পেসারদেরও। এ রকম উইকেটে ওয়ালশও তাঁর দলের পেসারদের বাড়তি কিছু করার দেখছেন, ‘আমাদের আরো মনোযোগী হতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করতে হবে। আমাদের ফাস্ট বোলারদের জন্য এটি আরেকটি ভালো সুযোগ। স্যাবাইনা পার্কে কিভাবে বল করতে হয় বা এখানকার যতটুকু আমি জানি, অবশ্যই ওদেরকে সেগুলো জানাব। আশা করি, ওরা সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে পারবে।’ পাশাপাশি ব্যাটসম্যানদেরও বিরুদ্ধ উইকেটের ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জটি নিতে হবে সবার আগে। যে চ্যালেঞ্জে অ্যান্টিগায় তাঁরা চরমভাবে ব্যর্থ। তাই সেখানে বাংলাদেশকে মনে হয়েছে পথ হারানো একটি দলই। পথে ফিরতে হলে জ্যামাইকায় অ্যান্টিগার ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়ে জ্বলে ওঠা পারফরম্যান্স চাই।



মন্তব্য