kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

মৌমাছির জীবন থেকে শিক্ষা

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মৌমাছির জীবন থেকে শিক্ষা

৬৮. তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে (তার অন্তরে ইঙ্গিত করে) নির্দেশ দিয়েছেন, গৃহনির্মাণ করো পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে, তাতেও। [সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৮ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে মৌমাছির প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। মৌমাছি ছোট একটি প্রাণী। কিন্তু পবিত্র কোরআনে সে প্রাণীকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মৌমাছির আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘নাহল’। মহান আল্লাহ এ নামে একটি সুরা অবতীর্ণ করেছেন। হাজার বছর আগেই আল্লাহ মৌমাছিদের জীবন সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন। এর অন্যতম কারণ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও মৌমাছি থেকে তাদের শেখার আছে অনেক কিছু। এ আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ নির্দিষ্ট কাজের নির্দেশনা দিয়ে মৌমাছি সৃষ্টি করেছেন। অনুরূপ প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করে মহান আল্লাহ নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন। সে দায়িত্ব ও নিয়ম উপেক্ষা করার এখতিয়ার ও শক্তি কারো নেই। কিন্তু মানুষকে মহান আল্লাহ ভালো-মন্দ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তাঁর ইবাদত করে না। মানুষ আল্লাহর দেওয়া সীমিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে।

মৌমাছি মানুষকে পবিত্র রিজিক গ্রহণের শিক্ষা দেয়। মৌমাছি নষ্ট ফুল থেকে মধু আহরণ করে না। তারা পরিষ্কার ও অব্যবহৃত ফুল থেকেই মধুর উপাদান সংগ্রহ করে থাকে। মানুষের উচিত পবিত্র রিজিক গ্রহণ করা। হারাম রিজিক ভক্ষণের মধ্যে কোনো বরকত থাকে না।

মৌমাছি খুবই পরিশ্রমী পতঙ্গ। ফুলের রস মুখে নিয়ে, সেটা থেকে জলীয় অংশ দূর করে শতভাগ ভেজালমুক্ত এক ফোঁটা মধু তৈরি করতে যে শ্রম ও সময় ব্যয় করে সেটা বিস্ময়কর! এক পাউন্ড মধু বানাতে ৫৫০ মৌমাছিকে প্রায় ২০ লাখ ফুলে ভ্রমণ করতে হয়! আবার এক পাউন্ড মধু সংগ্রহ করতে একটি কর্মী মৌমাছিকে প্রায় ১৪.৫ লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়! যা দিয়ে পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করা সম্ভব! ফুলের সন্ধানে প্রতিটি মৌমাছি, মৌচাকের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসের পুরো এলাকা তারা তন্ন তন্ন করে ঘুরে বেড়ায়! তাদের ওড়ার গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার। একটি সক্ষম মৌমাছি দৈনিক ১০ কিলোমিটারের মতো পথ পাড়ি দিতে পারে। মানবসন্তান যখন চামচে ভরে মধু পান করে তৃপ্ত বোধ হয়, তখন সে ভাবে না যে এই এক চামচ মধু সৃষ্টিতে কত শত মৌমাছির রক্তক্ষয়ী অবদান লুকিয়ে আছে!

একটি কর্মী মৌমাছির ৪২ দিনের ছোট্ট জীবনে নিজেদের সঞ্চিত মধু পান করার সৌভাগ্য খুব কমই হয়!

মৌমাছির এই ত্যাগের শিক্ষা মানুষ ধারণ করলে পৃথিবীর চেহারা বদলে যেত। ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব পতঙ্গের মজুদ করা মধু বিভিন্ন প্রাণী চুরি করে পান করে। মানবজাতিও পরম তৃপ্তিতে মধু পান করে। মধু পানের সময় মৌমাছির ত্যাগের কথা তারা ভুলে যায়। ভুলে যায় মৌমাছির স্রষ্টাকেও!

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য