kalerkantho


এক রোমান্টিক ভ্রমণের হাতছানি 'দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ আগস্ট, ২০১৭ ১৬:৪৫



এক রোমান্টিক ভ্রমণের হাতছানি 'দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে'

দার্জিলিং স্টেশন (এ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো নিজের ভ্রমণের সময় তুলেছিলেন মাহতাব হোসেন। তাঁর সেই সংগ্রহ থেকে ৪টি ধার নেওয়া হয়েছে)

এটাকে বলা হয় 'আনন্দ ভ্রমণ'। চলে যেতে হবে সরাসরি দার্জিলিং রেলওয়ে স্টেশনে।

মনে রাখবেন, ওখানে দাঁড়ানোমাত্র আপনি কিন্তু ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে অবস্থান করছেন। সাইনবোর্ডটি চোখে পড়বে এদিক-ওদিক চোখ বুলালেই। বলা হয়, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে ভ্রমণ দারুণ রোমান্টিক ভ্রমণের একটি। প্রাচীন ঐতিহ্যের এক স্টেশন থেকে যার শুরু।  

এখানে রয়েছে দুই ধরনের ইঞ্জিনের রেলওয়ে। সেই আগেকার স্টিম ইঞ্জিন মিলবে। আরো আছে ডিজেল ইঞ্জিন। সেই পুরনো হাতে লেখা টিকেট ধরিয়ে দেবে হাতে। স্টিমম ইঞ্জিনের ভ্রমণে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ গুনতে হবে।

স্টেশনেই দেখা মিলবে সেই প্রাচীনের চেহারা। এখনও কিছু প্রাচীন ঐতিহ্যকে তেমনই ধরে রাখা হয়েছে যত্নের সাথে। এটি পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটি স্টেশনের একটি যেখানে 'ন্যারো গজ লোকোমোটিভ' রয়েছে। হিমালয়ের বন্ধুর রাস্তায় চলার জন্য ব্যবহৃত হয় 'লুপস অ্যান্ড জিগজ্যাগ' প্রযুক্তি। আপনি নিঃসন্দেহে ১৯ শো শতকের দার্জিলিংয়ের দেখা পাবেন এখানে।  

এটা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ, জানান দিচ্ছে এই সাইনবোর্ডটি

লোকোমোটিভ অংশটি মুগ্ধ হয়ে দেখতে হয়। সেখানে যারাই নতু্ন যান, তাদের মুখ বিস্ময়ে হা হয়ে থাকে। মনে হবে, টাইম মেশিনের মাধ্যমে অতীতে চলে গেছেন। সব ঘুরে ঘুরে দেখছেন।  

ন্যারো গজ পথে ভ্রমণটা সত্যিকার অর্থেই আনন্দময় হয়ে উঠবে। এটা দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত যায়। দুই শহরের মাঝে দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। গোটা পথেই ঐতিহ্যবাহী রেল, গাদি, মোটরসাইকেলের দেখা মিলবে। স্থানীয়দের আগ্রহভরা চোখগুলোও স্পষ্ট দেখতে পারবেন মাঝে মাঝে।  

ছবি তুলে শেষ করতে পারেন না পর্যটকরা

রেলের বাম পাশটা পাহাড়ঘেঁষা পথ। আর ডান পাশে ভ্যালিসহ নানা দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। ভাবতে অবাক লাগবে, সেই সময় ইঞ্জিনিয়াররা কিভাবে হিমালয়ের পথে রেললাইন স্থাপন করেছিলেন! 

এক কুয়াশা ঢাকা রেলস্টেশন

এই ভ্রমণে আপনি শুধু  ছবি তোলা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে পারবেন। কিন্তু ছবির তোলার নেশায় দুচোখ ভরে দৃশ্য দেখতে ভুলবেন না। গোটা পথের চিত্র মন থেকে মুছে যাবে না কখনই। যখন ঘুমে পৌঁছবেন, তখন এক দারুণ রং চংয়ে স্টেশনের দেখা মিলবে। সেখানে আছে একটি জাদুঘর। ওই স্টেশনের নিচ তলালেই রয়েছে জাদুঘর। পুরনো রেলওয়ের কিছু চিহ্ন, যেমন- সেই সময়ের টিকেট, লোগো ইত্যাদি সংরক্ষিত রয়েছে এখানে।  

পাহাড়ের মধ্য দিয়ে এই রেলভ্রমণের অভিজ্ঞতা সারাজীবন এক স্বপ্নের মতো হয়ে থাকবে। বিশেষ করে বিখ্যাত বাতাসি লুপ এক বিস্ময়। যদি ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়েই থাকেন, তো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের রোমান্স থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। সূত্র : হ্যাপি ট্রিপস 


মন্তব্য