kalerkantho


মারাস সল্ট পন্ডস : পৃথিবীর বাইরের কোনো জগত!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ আগস্ট, ২০১৭ ১৬:৩৭



মারাস সল্ট পন্ডস : পৃথিবীর বাইরের কোনো জগত!

এই পৃথিবীতে এমন সব সুন্দর স্থান রয়েছে যা দেখলে কল্পনার জগত বলেই মনে হয়। প্রকৃতি যেখানে উদার, সেখানে অপার বিস্ময় ছাড়া আর কিছুই নেই। আবার এমন কিছু স্থান আছে যেখানে মানুষের হাত পড়েছে। সেখানেও যে বিস্ময় অপেক্ষা করে তার প্রমাণ রেখেছে পেরুর একটি স্থান। এটা পেরুর সেই প্রাচীন ইনকা সভ্যতার পবিত্র এক গ্রাম। ইনকা স্যাকরেড ভ্যালি নামেই পরিচিত। আর এই গ্রামের 'মারাস সল্ট পন্ডস'  এর সৌন্দর্যের বর্ণনা প্রায় অসম্ভব বিষয়।  

এক পর্যটক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বয়ানে বলেছেন, গত আড়াই বছরে আমি পৃথিবীর ৪১টি দেশে ঘুরেছি। কিন্তু ইনকাদের এই পবিত্র এলাকায় এসে আমার মুখ কিছু সময়ের জন্য হা হয়েছিল। আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমার অস্তিত্বের কথা। নামিবিয়ায় ভ্রমণের কথা মনে পড়ে।

আইসল্যান্ডের জলপ্রপাতটাকে কোনো সুন্দর স্বপ্ন বলেই মনে হয়। পর্তুগালের বেনাগিল গুহাটি আমার কল্পনাশক্তিকে হারিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইনকা ভ্যালির লবনের পুকুরগুলোর তুলনা আর কোন কিছুর সঙ্গে মেলে না। আপনি আধুনিক শহর-গ্রাম পেরিয়ে যখন হঠাৎ করেই সেখানে উপস্থিত হবেন, তখনই বিস্ময়! 

স্থলের এই অপূর্ব দৃশ্যায়ন আর কোথাও মিলতে পারে বলেও মনে করেন না অনেকে, যারা গিয়ে নিজের চোখে দেখেছেন মারাস সল্ট পন্ডস। সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি পুকুর। এগুলো সব লবণের পুকুর। স্থানীয় পরিবারগুলো একটি বা একাধিক পুকুরের মালিক।  

আপনি যখন ওই গ্রামে যাবেন এবং ক্রমেই পুকুরগুলোর দিকে এগোতে থাকবেন, ততই এক অপার্থিব দৃশ্য স্পষ্ট হতে থাকবে। ভূগর্ভস্থ কোনো প্রবাহ এই পুকুরগুলোকে রসদ জুগিয়ে চলছে। লবণের প্রস্তুত প্রক্রিয়া এমনিতেই সহজ কাজ। এসব পুকুরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে 'পবিত্র পানি'। এগুলো খুব গভীর নয়। আসলে এত দূরের পথ পেরিয়ে লবণের পুকুর দেখাটা আসল বিষয় নয়। সেখানে গিয়ে আপনি দেখবেন হাজার হাজার লবণের পুকুর একযোগে কিভাবে এক অসাধারণ ছবি ফুটিয়ে তুলেছে।  

ওই পর্যটক বলছেন, পুকুরের সরু পাড়গুলো দিয়ে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো হেঁটেছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় আপনি কেবল এদের দেখেই ব্যয় করতে পারেবন। একটুও বিরক্তি আসবে না।  


সূত্র : ইন্টারনেট 


মন্তব্য