kalerkantho


সিনাই দায়রা ক্যাম্প, যেখানে ঢেউয়ে মেশে শিল্প আর সংগীত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:২৮



সিনাই দায়রা ক্যাম্প, যেখানে ঢেউয়ে মেশে শিল্প আর সংগীত

তিন জায়গার তিন মানুষ একযোগে বড় ঘটনা ঘটিয়ে দিলেন। তাদের ক্যারিয়ারও ভিন্ন।

যার যার অবস্থান থেকে একদিন কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেলেন চেনা শহর ছেড়ে। তাদের উদ্দেশ্য, মিসরের সিনাইয়ের সৈকতটাকে অপরূপ করে তুলবেন। সেখানেই থাকবেন তারা। চলে গেলেন তিনজন। তবে সেখানেই গল্পের শেষ নয়।    

মোহামেদ সেরাগ একজন প্রকৌশলী। তার স্ত্রী রানডা মিডিয়ায় কাজ করেন। আরেকজন হলেন আবো এল সিউদ। তিনি মার্কেটিং পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

প্রায় এক যুগ আগে থেকেই সিনাইয়ে যাওয়া-আসা করতেন। সিনাইয়ের প্রতি দারুণ ভালোবাসা জন্মে এই তিনজনের। সেখানা থেকে জন্ম নেয় স্বপ্ন। নতুন করে দায়রা ক্যাম্পে বসতি গড়েন তারা। স্থানটিকে তিনজন মিলে শিল্প আর সংগীত চর্চার লীলাভূমিতে পরিণত করেছেন। একটা মেসেজ দিতে চান তার বিশ্ববাসীকে। হালো- গ্রহটার খেয়াল রাখো তোমরা।  

অতীতে ফিরে যান সেরাগ। বলেন, সেই প্রথম থেকেই, যখন এই পবিত্র ভূমিতে প্রথম পা রেখেছিলাম, স্বপ্ন দেখতাম কায়রো ছেড়ে এই ভূস্বর্গে চলে যাবো।  

বছর দুয়েক আগে এরা সবাই মিলে সৈকতের কিছু অংশকে সবুজ করার উদ্যোগ নেন। এমন একটা ক্যাম্প হবে যেটা অন্য কারো সঙ্গে মিলবে না। এ প্রজেক্টের মূল স্তম্ভ হবে শিল্প, সংগীত আর পরিবেশ। যার যার চাকরি ছেড়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জন্য লেগে পড়েন তারা।  

যে স্থানটিতে কোনো ইলেকট্রিসিটি ছিল না, যেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছিল, যেখানে খাবার পানির সরবরাহ ছিল না, সেই স্থানটিকেই বেছে নিলেন তারা। ছয় মাস ধরে একাই কাজ করে গেলেন। হাতের কাজ সারারও মানুষ ছিল না কোনো! তারাই ময়লা পরিষ্কার করেছেন, তারাই রান্না করেছেন আর তারাই বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন।  

দেখতে দেখতে ৩ বছর পেরিয়ে গেল। তারা এর পেছনে কিছু বিনিয়োগের চেষ্টা করলেন। ৫০০টি গাছ লাগালেন। ইতিমধ্যে মেহমানরা আসতে শুরু করেছে। তিন আয়োজকের কাজ দেখে মেহমানরাও হাত লাগাতেন সহায়তার জন্য। ধীরে ধীরে জমে উঠেছে স্থানটি। দেশের বাইরে থেকেও পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। তাদের এই ক্যাম্পটি বহু প্রকৃতিপ্রেমী, শিল্পী আর সংগীতজ্ঞের সময় কাটানোর স্থান হয়ে উঠেছে। চলছে গান-বাজনা আর শিল্পের আড্ডা।  

ধীরে ধীরে গোটা পরিবেশকে বাসযোগ্য করে তুলছেন তারা। যেখানে প্রকৃতিও যত্ন পাবে। পানির নিচের পরিবেশটাকেও সুন্দর করে তোলার উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন।  

আগামী মাসেই বিশাল এক মেলার আয়োজন করা হয়েছে এখানে। এর মাধ্যমে অপূর্ব সুন্দর একটি স্থান নিজেকে মেলে ধরবে। অসংখ্য মানুষ আসবে এখানে। যদি সময়, সুযোগ ও ইচ্ছে থাকে, তো চলে যেতে পারেন মিসরের সিনাইয়ের দায়রা ক্যাম্পে।  
সূত্র : ইজিপশিয়ান স্ট্রিট 


মন্তব্য