kalerkantho


এবার ভ্রমণ হবে আগুনের মুখে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৮:৫২



এবার ভ্রমণ হবে আগুনের মুখে

হাওয়াইয়ের সর্বোচ্চ চূড়া থেকে আইসল্যান্ডের উচ্চভূমি যেখানেই যান না কেন, ওরা হতে পারে জ্বলন্ত কিংবা সুপ্ত। যুগে যুগে আগ্নেয়গিরি মানুষের রোমাঞ্চকর কল্পনায় স্থান করে নিয়েছে। বিশ্ব পর্যটকদের কাছে অন্যতম এক আকর্ষণ এই আগ্নেয়গিরি। তাই পরের ভ্রমণের জন্য আগ্নেয়গিরি হতে পারে যেকোনো রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণবিলাসীর জীবনের সেরা গন্তব্যের একটি। ভয়ের কিছু নেই। পর্যটনবান্ধব আগ্নেয়গিরিগুলো কিন্তু ভয়ংকর নয়। এটা মানেই যে সব সময় অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বেরোতে থাকে তা নয়। তবে চোখের সামনে দেখাটা কিন্তু দারুণ অভিজ্ঞতা দেবে আপনাকে।  

আগ্নেয়গিরি দেখার জন্য বিশ্বের সেরা দশটি স্থানের একটি হলো আইল্যান্ড অব রিউনিয়ন। ভারত সাগরের একটি দ্বীপ। আরেকটি আছে পিটন ডি লা ফোর্নাইজ।

এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬৩১ মিটার উঁচুতে। এটাই সবচেয়ে বিখ্যাত। গোটা দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ দখল করে রয়েছে এটি। বিশাল এক আগ্নেয়গিরি। তিরিশ লাভ বছর আগে ভারতীয় সাগর থেকে এটি উঠে আসে। পৃথিবীতে যে কয়টি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে তাদের মধ্যে বিখ্যাত। এটাতে মাঝে মাঝেই অগ্ন্যুতপাত ঘটে। এ বছরের প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত ইতিমধ্য তিনবার অগ্ন্যুতপাতের ঘটনা ঘটেছে।  

যখন পিটন ডি লা ফোর্নাইজ উত্তেজিত নয়, তখন পর্যটকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন এটাকে দেখার জন্য। একে ঘিরে দারুণ কিছু হাইকিং ট্রেইল রয়েছে। তবে এখানে হাইকিং করার উৎসাহ সবাইকে দেওয়া হয় না। যারা শারীরিকভাবে ফিট নয়, তাদের এসব পথে অভিযান খুব কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।  

তবে যেসব লাভা টিউবে ঢোকার মতো পরিবেশ থাকবে, সেখানে না যাওয়াটা জীবনের বড় ভুলগুলোর একটি হবে। অবশ্য এখানেও সুস্থ দৈহিক অবস্থা জরুরি। একটা শ্বাস নিতে ঝামেলা হতে পারে। নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরতে হয়। পায়ে থাকতে হয় হাইকিং বুট। সঙ্গে যথেষ্ট খাবার পানিও থাকতে হবে। চলাফেরায় একটু পরিশ্রান্ত বোধ করেন সবাই।  

তবে ভয়ের কিছু নেই। বড়দের সঙ্গে ৭ বছরের কম নয় এমন যেকোনো শিশুও এসব জায়গায় ঘুরে আসতে পারে অনায়াসে। লাভা টিউবগুলোতে ঢোকার জন্য পর্যটকদের সরু গুহামুখ নিয়ে প্রবেশ করতে হয়।  

এসব টিউবের অভ্যন্তরে অসাধারণ। ঢোকামাত্রই কোনো থ্রিলার ছবির কথা মনে পড়বে। কিংবা মনে হবে, সিনেমার কোনো স্থানে চলে এসেছেন। এগুলো তৈরি হয়েছে ২০০০ এর সময়ে অগ্ন্যুতপাতের কারণে।  

এগুলোতে প্রবেশের জন্য অবশ্যই অভিজ্ঞ গাইডের পেছন পেছন থাকতে হবে। একবার সেখানে গেলে মনে হবে দ্বীপটির গোটাটাকেই আবিষ্কার করে তবেই বাড়ি ফিরতে হয়। নইলে জীবনটাই তো বৃথা।  
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস 


মন্তব্য