kalerkantho


ভ্রমণ : গন্তব্য 'ঈশ্বরের সরোবর'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৫:১২



ভ্রমণ : গন্তব্য 'ঈশ্বরের সরোবর'

এখানেই আছে 'ঈশ্বরের সরোবর'

একটা সময় আর গাড়ি যাওয়ার পথ থাকবে না। জিপ থেকে নেমেই মনে হবে- হঠাৎ করেই যেন খুলে গেল 'আকাশের সুনীল ঢাকনা'।

ঠিক যে ছবি ক্যালেন্ডারে দেখা যায়, তেমনই উপত্যকা। ঝকঝকে আকাশ। দিগন্ত জুড়ে ঘন সবুজ পাহাড়। আর তার মাঝখান দিয়ে বইছে ঝিরঝিরে স্বতোয়া নদী তমসা। ভারতে এসে একেই আলেকজান্ডার ডাকতেন ‘ট্রংসা ’৷

নদীকে বাঁয়ে রেখে হাঁটতে হবে। পাশে পাহাড়। হইচই পেছনে পড়ে থাকবে। মোবাইলের নেটওয়ার্ক দুর্বল হবে। আর ক্রমেই প্রকট হবে প্রকৃতি।

চারপাশটা সবুজ থেকে সবুজতর হবে। রোদে গা ধুয়ে যাবে। মাঝে মাঝে মহীরুহ ছায়া দেবে। নদীর শব্দ আরও স্পষ্টভাবে কানে বাজবে। মোটা লেজওলা লোমশ কুকুর সঙ্গী হবে। পাথরে পা হঠাৎ পিছলে যেতে যেতে কানে আসবে অচেনা কোনো পাখির ডাক। এভাবে চলতে চলতে নদীর পাড় ঘেঁষে হঠাৎ একটা পাহাড়ি ছাদ। প্রাথমিক ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতি বিছিয়েছে উঠোন। এখানে জিরিয়ে নিয়ে আবারো শুরু হবে হাঁটা। প্রথম দিনে বেশি হেঁটে নিলে ভালো হয়। শুরুর দিকে এনার্জি বেশি থাকে। লক্ষ্য ওসলা গ্রাম।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের ওসলা যাওয়ার মূল রাস্তাটা শুরু একটা ছোট্ট সেতু পেরোনোর পর। একটা পর্যায়ে আর সোজা হয়ে হাঁটা যাবে না। এবার প্রায় খাড়াই পাহাড় উঠে গিয়েছে। ঘোড়ায় করে যারা উঠে আসছিলেন, তাদেরও এখানে খানিক হাঁটতে হবে। কারণ, এমন কিছু বাঁক আছে যেখানে খাদের ধার ঘেঁষে সরু পথ চলে গেছে। ঘোড়ায় বসেও নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হতে পারে। অতএব থেমে থেমে হেঁটে যাওয়াই উচিত। হাঁটতে অবশ্য তেমন কষ্ট হবে না। কারণ, বেশিরভাগ পথই গাছের ছায়ায় ঢাকা। পথের মাঝে পড়বে চমৎকার এক ঝর্ণা। বাঁদরের লাফালাফিও সঙ্গী হবে। বিকেলের দিকে পৌঁছানো যাবে ওসলা।

কারো বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে থাকা ছাড়া থাকার অন্য বন্দোবস্ত নেই। গরম খিচুরি অমৃতের মতো লাগবে। ভালো একটা ঘুম খুব জরুরি। কারণ, পরদিন ভোরে উঠেই তো আবার হাঁটতে হবে। ভোরে উঁচু পাহাড়ে হিমালয়ের মহা ঈগলদের উড়তে দেখা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। পথ ক্রমেই আরও সরু আর দুর্গম হবে। কিছু কিছু জায়গা পাশাপাশি দু’জন হাঁটা অসম্ভব। একটা অদ্ভুত ভিউপয়েন্ট পড়বে যেখান থেকে দেখা যাবে যমধা গ্লেসিয়ার। সন্ধ্যায় প্রকাণ্ড ভ্যালিতে পৌঁছে তাঁবুতে থাকতে হবে। দিনের আলো থাকবে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত৷ তার মধ্যেই ডিনার শেষ করে নিন। আলো নেই, আর সন্ধ্যায় নিয়ম করে মারাত্মক ঝড়ও হয়। ভ্যালি থেকে মূল গ্লেসিয়ারের দূরত্ব বেশি নয়। কিন্ত ভোরে বেরিয়ে পড়াই ভালো। নতুন আলোয় চোখ জুড়িয়ে যাবে বরফ শীতল সৌন্দর্যে। ফিরতে ইচ্ছে করবে না! উত্তরাখণ্ডের এই গন্তব্যের নাম ঈশ্বরের সরোবর।  

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকেই যাত্রা শুরু করুন। ট্রেনে দেরাদুন বা বিমানে জলিগ্রান্ট বিমানবন্দর পৌঁছে, সেখান থেকে গাড়িতে সাঁকড়ি। তারপর জিপে তালুকা। তারপর থেকে আর কোনও যান চলার রাস্তা নেই। হাঁটা শুরু।  

কোথায় থাকবেন
দেরাদুনে তো আছেই, সাঁকড়িতেও হোটেল পাবেন। তবে তালুকা থেকে হোটেল নেই। ওসলা গ্রামে কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে। অন্য জায়গা থাকতে হলে তাঁবুই ভরসা। তাঁবু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। ভাড়াও পাবেন।

কখন যাবেন
হিমালয়ের ট্রেকিং -এর আদর্শ সময় এপ্রিল -মে মাস৷ তখন যাওয়াই নিরাপদ৷ বেশি শীতে বরফ থাকে৷

মনে রাখবেন
অনেকে বলেন, বর্ষাকালেও এই ট্রেক করা যায়। কিন্ত রাস্তা ভয়ানক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। সে বিষয়ে খেয়াল রেখে তবেই যাওয়া ভালো।

সঙ্গে রাখুন
টর্চ, তাঁবু, শুকনো খাবার, পানীয় এবং পানি। পেশাদার পোর্টার নিলে ভালো।  
সূত্র : এই সময় 


মন্তব্য