kalerkantho

ডিসকভার জাকারান্ডা

হীরার খনিতে

জুবায়ের আহমেদ খান   

৮ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:৪৫



হীরার খনিতে

দুয়ারে প্রস্তুত গাড়ি, বেলা এক প্রহর। সকাল ৭টা বাজার পাঁচ মিনিট পূর্বে ফোনে কল আসল, পাঁচ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি। দেখা গেল কাঁটায় কাঁটায় ৭টায় হিজ এক্সিলেন্সি হাইকমিশনার শাব্বির আহমদ চৌধুরী তার মার্সিডিজ নিয়ে উপস্থিত। আমরাও তৈরি ছিলাম, দুই মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে পড়লাম। উজ্জ্বল রোদ। না শীত না গরম। মন ভালো করে দেয়। আমাদের গেস্ট হাউসের সামনেই বিরাট একটি মাঠ। তাতে কেউ একলা, কেউ দোকলা, কেউ বাচ্চা-কাচ্চাসহ বসে রোদ পোহায়। হাঁস-পাখিও চরে। পাখি শিকার করার কথা কেউ চিন্তাও করে না। মানুষ মারলে তিন মাসের জেল, আর পাখি মারলে আরো অনেক বেশি শাস্তি। এ জন্য মানুষই মারে তারা। আমাদের দেশে যেমন পাখি মারা হয় এ দেশে তেমনি মানুষ মারা হয়।
 
একটু যেতেই শহরের মধ্যেই দেখি অনেক নারী-পুরুষ দৌড়াচ্ছে। আমরা যেদিকে যাচ্ছি তারাও দল বেঁধে সেদিকেই যাচ্ছে। লক্ষ করলাম পিঠে নম্বর লেখা আছে। বুঝলাম ম্যারাথন হচ্ছে। এতদিন টিভিতে দেখেছি আজ লাইভ দেখে ভালো লাগল। ফর্সা, কালো, বেঁটে, মোটা, সাদা বিভিন্ন বয়সী।
 
চমৎকার রাস্তা, চলতেই মন চায়। যানজট বলতে কিছু আছে- এ দেশের লোকেরা জানেই না মনে হয়। পাহাড়ি পথ সামান্য উঁচু-নিচু। দূরে একটি উপশহর এর মতো দেখা গেল। সব একতলা বাড়ি। এ রকম কিছু কিছু এলাকা আছে, যেখানে সাদারা থাকে।
 
Cullinan Diamond Mine এ আমাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা ছিল। প্রতিজনের টিকেট পাঁচ শ পঞ্চাশ রেন্ড। যেতেই নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হলো। কর্মরত ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কোন দেশ থেকে এসেছ? বললাম বাংলাদেশ। ও বাংলাদেশ তোমরা তো ভালো ক্রিকেট খেল। বললাম, হ্যাঁ তুমি দেখ আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আমরা বিশ্বকাপ জয় করব। সে বলল, হ্যাঁ তোমরা পারবে। হিজ এক্সিলেন্সি বললেন আমাদের বোলিং ভালো, ব্যাটিং লাইনটা আরেকটু শক্ত করতে হবে।
 

আমরা ১৪ জনের মতো ভিজিটর। জার্মানি থেকে বাবা-মা তাদের এক যুবক ছেলেকে নিয়ে এসেছে, খুব ভালো লাগল। উন্নত দেশে ছেলে-মেয়েরা বাবা-মা'র খোঁজই রাখে না। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার থেকে এসেছে জন। বললাম, আমি তো তোমার দেশে বেশ কয়েকবার গিয়েছি। নর্দান আয়ারল্যান্ডে ছিলাম ছয় মাস। সে বলল, খুব সুন্দর জায়গা। হ্যাঁ, তাই। সাউথ আফ্রিকান এক মহিলা ছিল বেশি বয়সী। এশিয়ান চেহারার একটি কালো মেয়ে তার সাদা সঙ্গীকে নিয়ে এসেছে। তারা হাতধরাধরি করে হাঁটে। মাঝে মাঝে চুমু খায়।
 
প্রথমে সবাইকে এক রুমে বসিয়ে কলিনান ডায়মন্ড মাইনের ইতিহাস বললেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভদ্রলোক। উনিশ শ সালের প্রথম দিকে Cullinan নামের ভদ্র লোক একটি বস্তাভর্তি টাকা নিয়ে এসে এ মাইনটি খোলেন। অনেক চেষ্টার পর বড় একটি হীরা পান। যেটি কেটে সাতটি হীরা বানানো হয়। প্রথমটি পাঁচ শ ৩০ ক্যারেট, দ্বিতীয়টি তিন শ ১৭ ক্যারেট, তৃতীয়টি ৯৪ ক্যারেট, চতুর্থটি ৬৩ ক্যারেট। আমাদের গাইড বলল, ২৫ ক্যারেট একটা হীরার দাম ৯ মিলিয়ন ডলার।
 
এরপর বলা হলো, তোমাদেরকে বিশেষ ধরনের জামা, চশমা, হেলমেট ও ভারী বুট বা গামবুট পরতে হবে। ক্যামেরা নেওয়া যাবে তবে মোবাইল নেওয়া যাবে না। যার যার মোবাইল এবং কোট, জ্যাকেট খুলে লকারে রেখে চাবি নিজের কাছে রাখ। এরপর ড্রেস পরে আস।
 
ড্রেস চেঞ্জ করলাম। একটি হোল্ড অল অর্থাৎ শার্ট এবং প্যান্ট একসাথে ভারী মোজাসহ ভারী বুট যার ওজন দুই কেজির কম নয়। মাথার হেলমেট কোমরের ভারী বেল্ট সাথে একটি ব্যাগ দিল যাতে এক বোতল পানি একটি চশমা ও একটি মাস্ক আছে। এবার উঠলাম ট্রাকটর এর মতো একটা গাড়িতে। মনে মনে উত্তেজনা, হীরার খনিতে যাচ্ছি।
 
কিছুদূর গিয়ে সিকিউরিটি গেট পার হয়ে গাড়ি আরো ভেতরে গেল। এবার ঘুরানো গেটের ভেতর দিয়ে একে একে পার হয়ে কিছুদূর গিয়ে একটি বড় রুমে ঢুকাল। তাতে সারি সারি চ্যাপটা মেটালের লাঞ্চ বক্সের মতো রাখা, প্রত্যেকটি তালাবদ্ধ।
 
এবার লাঞ্চ বক্সের মতো মেটালিক বাক্সটি গাইড তার কোমরে বেল্টের মধ্যে সংযোগ করল এবং আমাদেরকেও করতে বলল। এরপর বেল্টের পেছন দিকে আরেকটি ছোট বক্স লাগাতে বলল যার সাথে তারের মাধ্যমে একটি হেড ল্যাম্প। কোমরের বেল্টে ও দুটি জিনিস সংযোগের জন্য দুটি ছোট বেল্ট সংযুক্ত ছিল। হেড ল্যাম্পটি হেলমেটের সামনে লাগানোর ব্যবস্থা আছে। সামনে লাগিয়ে তারটি মাথার পেছনে চাপ দিয়ে লাগিয়ে পিঠের ওপর ঝুলানো হলো।
 
এবার পাশের রুমে নিয়ে গিয়ে বেঞ্চিতে সবাইকে বসিয়ে টেলিভিশন ছেড়ে দেওয়া হলো। টেলিভিশনে দেখাল সাত বা আট স্তরে করণীয় কি? স্টিলের যে বস্তুটি দেওয়া হলো সেটা Rescuer (উদ্ধারকারী)। প্রয়োজনে এটা খুলতে হবে (Step-1)। তারপর রবারের একটি বেলুনের মতো জিনিষ বের হবে ওটাকে ফু দিয়ে ফুলাতে হবে (Step-2)। এরপর এটাকে মুখে কামড়ে ধরে শ্বাস নিতে হবে (Step-3)। এবার একটি ক্লিপ দিয়ে নাকের ফুটো দুটো বন্ধ করতে হবে (Step-4)। এরপর নিরাপদ জায়গায় যেতে হবে (Step-5) এভাবে। এভাবে সাত বা আটটি স্টেপ দেখানো হলো, দুইবার। এবার গাইড আবার বলে দিলেন। এবার আরেকটি খাতা খুলে নাম লিখে স্বাক্ষর করতে বলা হলো। এবার একটু ভয় পেয়ে গেলাম। প্রয়োজনের সময় বক্স যদি সঠিকভাবে না খুলতে পারি? এখন ফিরে গেলে সবাই হাসবে। তাই ভালোভাবে কালেমা পড়ে নিলাম কয়েকবার। দু'আ পড়লাম অনেকবার।
 
এবার একটু হাঁটিয়ে নিয়ে গিয়ে একটি বড় লিফটে ওঠাল। স্পিডি লিফট অল্প সময়ে পৌঁছে গেল ৮০০ মিটার মাটির নিচে। নেমেই দেখা গেল টানেল। পাথর কেটে তৈরি করা। গাইড বলল প্রতি সেকেন্ডে ৬০০ কিউবিক মিটার ফ্রেশ বাতাস টানেলে সরবরাহ করা হয়। অতএব ভয় নেই। লিফটে ওঠার আগেই অদূরে কিছু মেশিনারি ও কারখানা দেখিয়ে বলেছিল ওটার মাধ্যমে টানেলে বাতাস সরবরাহ করা হয়। বাস্তবেও ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা পেলাম। ভয়টা কেটে গেল।
 
এবার গাইড বলল, সবাই আমাকে অনুসরণ করুন। তবে কেউ দৌড়াবেন না। আমরা ভারী বুট পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম। মাথার ওপর বেশ কয়েকটি পাইপ। একটাতে বিশুদ্ধ বাতাস, একটাতে পানি, অন্যটাতে খাবার পানি সরবরাহ করা হয়। এবার ভেতরের টানেলগুলো ম্যাপ করে খুলে বুঝিয়ে দিল। টানেলগুলো বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে আছে। একপাশ থেকে অন্য পাশের দূরত্ব এক হাজার মিটার। নিচে রেললাইন বসানো।
 
হাঁটতে হাঁটতে এক জায়গায় টানেলের পাশে একটি রুমে নিয়ে ঢুকাল। এটা Rescue উদ্ধার রুম। বিপদ হলে এখানে চলে আসতে হবে। সাইন দেখে দেখে। ওপরে ডেমোনস্ট্রেশন করার সময় এটার কথা বলেছিল। এবার পরিষ্কার হলো। ভেতরে ইট সিমেন্টের বসার ব্যবস্থা। টেলিফোন এবং অ্যালার্মের ব্যবস্থা আছে। অ্যালার্ম যে কত ভয়াবহ জোরে বাজবে তা বলে বোঝানো যাবে না। একটা বড় হ্যান্ডেলের মতো মাথার ওপরে, চাপ দিয়ে দেখিয়ে দিল, এটা চাপলে ফ্রেশ এয়ার পর্যাপ্ত পরিমাণে আসতে থাকবে। খাবার পানির পাইপও আছে। সাথে ঝোলানো একটি মগ। সাধারণ অবস্থায় এ মগ দিয়ে কেউ পানি পান করে না। লাগোয়া বাথরুমও আছে এবং যন্ত্রপাতি রাখার জায়গা আছে।
 
আরো কিছু দূর হাঁটিয়ে নিয়ে গিয়ে দেখাল, হেভি মেশিনের সাহায্যে বড় বড় পাথরের টুকরোকে ছোট করা হয়। তারপর মেশিনে ক্রাশ করা হয়। এরপর কনভেয়ার বেল্টে করে ওপরে (Surface) আনা হয়। মাঝে মাঝে সুপারভাইজাররা কাজ করছেন। তারা হাত নেড়ে আমাদের শুভেচ্ছা জানালেন। অনেক জায়গায় ডানে বা বামে সুড়ঙ্গ চলে গেছে। ওতে যাওয়া নিষেধ।
 
হঠাৎ ট্রাকটর এর মতো ভারী গাড়ি আসল। আমরা উভয় পাশে সরে দাঁড়ালাম। গাড়িটি গুঁড়া করা পাথর নিয়ে ট্রেনে বোঝাই করল। হাঁটার রাস্তায় অনেক স্থানে কাদা পানি। আমি ছোট খাট মানুষ। পাজামা ভারের চোটে নিচে নেমে গিয়ে বুটের তলায় পৌঁছে গেল। কাদা পানিতে পা আরো ভারী। এবার হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। সতর্ক হলাম, যদি কাদা পানিতে পড়ি তাহলে দুর্ভোগ আছে।
 
জার্মান লেডির হঠাৎ মাথা ঘুরে উঠল। তাকে তার হাজব্যান্ড কোনোমতে ধরে একপাশে নিয়ে গেলেন। ছেলে বাবা মিলে শুশ্রুষা শুরু করলেন। পানি পান করানো হলো, হেলমেট খুলে দেওয়া হলো। তিনি আর সবার সাথে ঘুরতে পারলেন না। ফিরে যাবার সময় তাকে আমরা সাথে নিয়ে গেলাম। 
 
গাইড বললেন, আমি ৩২ বছর চাকরি করে মাত্র দুইবার ডায়মন্ড দেখেছি। আমরা সবাই আশা প্রকাশ করলাম, আমরা আজ কেউ না কেউ পাব। গাইড বললেন পেলে ভালো। পেলে দামের দশ ভাগ তোমাকে দেওয়া হবে। তবে আমি যেহেতু তোমাদের নিয়ে এসেছি নয় ভাগ আমাকে দিয়ে দিও। তার কথায় সবাই প্রাণখুলে একচোট হেসে নিলাম। সবাইকে খুব আপন মনে হলো, যেন অনেক দিনের চেনা।
 
গাইড বললেন, এ কাদা পানির মধ্যে পাথরের গুঁড়ার ভেতর ডায়মন্ড থাকলেও তা চমকাবে না। তুমি বুঝতেই পারবে না, এটা ডায়মন্ড। আমি বললাম শুধু মহিলাদের অঙ্গেই ডায়মন্ড চমকায়। ইয়েস বলে মহিলারা সহাস্যে সমস্বরে একমত পোষণ করলেন। মহিলাদের সমস্বরে আনন্দধ্বনিতে মুখরিত হলো ৮০০ মিটার গভীর টানেল। আমরা ওই সময় ভুলেই গেলাম, বিপজ্জনক জায়গায় আমরা হাঁটছি।
 
গাইড বললেন, মাটির ২৬০ কিলোমিটার গভীরে আগ্নেয়গিরির অগ্লুৎপাতের ফলে এ মাইনের উৎপত্তি। তিন হাজার ডিগ্রি থেকে চার হাজার ডিগ্রি তাপে ও চাপে কয়লা ডায়মন্ড হয়ে যায়। কয়লা যদি ডায়মন্ড হতে পারে তাহলে আমরা গোনাহ্গার কেন ভালো হতে পারব না? পারব তবে চাপ ও তাপ লাগবে। ভালো আল্লাহওয়ালার তাপ লাগবে আর নফসকে চাপ দিতে হবে। তাহলে আমরা নিজেরাই ডায়মন্ড হতে পারব। জ্ঞানী লোকেরা বলেছেন, যে তার নফসকে পা দিয়ে চেপে ধরবে তাহলে তার দ্বিতীয় পা পড়বে জান্নাতে।
 
অনেক সময় আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ যদি ভূ-পৃষ্ঠে (Surface) পড়ে তাহলে সেখানে হীরাও থাকতে পারে। বালকেরা তা কুড়িয়ে পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওরা ওগুলোকে মার্বেল হিসেবে ব্যবহার করবে।
 
এবার ফেরার পালা। কিছুক্ষণ হেঁটে আসার পর সিমেন্টের বেঞ্চিতে বিশ্রাম। প্রায় হাঁপাচ্ছি। গলা শুকিয়ে গেছে, ব্যাগ থেকে বোতল বের করে পানি পান করলাম। সবার বুটের দিকে নজর দিলাম। কাদা পানি সবারই লেগেছে,তবে আমি এ ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। কারণ আমার বুট ও পাজামাতে প্রায় হাঁটুসমান কাদা লেপটে আছে। ওজন বেড়ে গেল আরো দুই কেজি। 
 
এবার লিফটে উঠলাম। সাথে সাথে শ্রমিকদের একটি দলও উঠল। হুবহু আমাদের মতো সাজসজ্জা। উঠে এলাম ওপরে। লিফট থেকে নেমে মনে হলো নবজীবন পেলাম। এবার আশপাশে একটু হাঁটাহাঁটি। ছবিটবি তোলা। দায়িত্বরত দুজন ভদ্রলোক জিপ নিয়ে আস্তে আস্তে আমাদের পাশ দিয়ে গেলেন। হাত নাড়লেন আমাদের দেখে, মুখে স্মিত হাসি। আমরাও হেসে হাত নাড়লাম।
 
গাইড বললেন, এবার তোমাদেরকে নিয়ে যাব ডায়মন্ড শপে। তবে ওখানে দাম বেশি, তোমরা যদি কেন তাহলে বাইরে অন্য দোকান আছে সেখানে তুলনামূলক সস্তা। তবে হীরার দোকানে ঢোকার আগে তোমাদের জুতা পরিষ্কার করে নাও। দুটি চৌবাচ্চায় পানি রাখা। আমরা দুই দলে ভাগ হয়ে যার যার জুতার কাদা ধুয়ে নিলাম। আমাদেরকে দিয়ে জুতাগুলো পরিষ্কার করিয়ে নিল আরকি।
 
গাইড এবার ডায়মন্ড শপে ঢোকার আগেই একটি নিরাপত্তা গেটে তার কার্ড পাঞ্চ করে আমাদের ঢোকার ব্যবস্থা করে দিলেন। ডায়মন্ড শপে চারপাশে ডায়মন্ড সাজানো। মাঝখানে তিনজন লেডি দায়িত্ব পালন করছেন।
 
ছোলার সমান একেকটি ডায়মন্ডের দাম দুই হাজার এক শ বা দুই হাজার তিন শ ডলার। এর থেকে অতি সামান্য বড় একটির দাম লেখা ছয় হাজার ডলার। ঘুরে ঘুরে দেখলাম প্রাণভরে। এ পর্যন্তই, কেনার সাহস হলো না। একপাশে কিছু দামি পাথরও আছে, নীল রংয়ের দ্যুতি ছড়াচ্ছে। সেলস ওমেন বললেন, এটা তানজানাইট পাথর খুব মূল্যবান। আমরা হয়তো এটাকেই নীলা বলি।
 
মনের গহীনে সূক্ষ্ম ব্যথা নিয়ে বের হলাম ডায়মন্ড শপ থেকে। তবে প্রথম ডায়মন্ড কিনি ইংল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে। পরে আরেকবার কিনি গুলশানের ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড থেকে। প্রিয় পাঠক, ভাবছেন জুবায়ের সাহেব তাহলে তলে তলে ডায়মন্ডও কেনে। ভয় পাবেন না, আপনিও পারবেন। আর নাকফুল-ভালোই ঝিলিক দেয়, একেবারে পয়সা উসুল। 
 
এবার ফেরার পালা। গাড়ি বিদায় করে সবাই হেঁটে ফিরছি। বেশ ভালো লাগছে। রাস্তার পাশে ছোট লনওয়ালা ছোট ছোট বাড়ি। বেশ খানিকটা আসার পর ছোট ছোট রেস্টুরেন্টের মতো পাওয়া গেল। গার্ডেনে চেয়ার পেতে লাঞ্চের ব্যবস্থা। কোথাও কোথাও শিল্পীরা মাইক এবং গিটার সহযোগে লাইভ গান গাইছেন। এখানে এমনিতেই ঘুরতেও কিছু পর্যটক আসেন। আবার সারফেসে ঘুরে দেখার প্যাকেজ-ও আছে, এতে সময়ও কম লাগে। আর যারা ভীতু, নিচে যেতে ভয় পায়, তাদের ওপর থেকে হীরার খনি দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
 
একসময় রিসেপশন রুমে পৌঁছে গেলাম। জামা, বুট, হেলমেট সব খুলে নিজেদের জুতা পরে নিলাম। গাইড বলল, তোমাদের ই-মেইল লিখে দিয়ে যাও আমি ফটো পাঠিয়ে দেব। সত্যিই দিন কয় পরে দেখি মেইলে খনির ভেতরে তার ক্যামেরায় তোলা ছবি পাঠিয়ে দিয়েছে।
 
লেখক : কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স

মন্তব্য