kalerkantho

নারী দিবস

পুলিশের পোশাকে নারী সাহসিকা

ফারুক আহমেদ, চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৭ ১৭:০৩



পুলিশের পোশাকে নারী সাহসিকা

পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার

শামছুন্নাহার পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। রাষ্ট্র এবং সমাজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর ভূমিকা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিজে একজন নারী হয়ে আরেকটু ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন কর্মক্ষেত্রে।

অধিকারবঞ্চিত নারীদের নিয়ে তিনি স্থাপন করেছেন অভিযোগ সেল। সেখানে গিয়ে অনেকেই সুফল পাচ্ছেন। এমন অনন্য সেবার জন্য চাঁদপুরের এই নারী পুলিশ সুপার লাভ করেছেন পুলিশের সর্বোচ্চ পদক।

চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই পুলিশ সুপার শামছুন্নাহারের কার্যালয়ে ছুটে আসেন অসংখ্য নারী। স্বামী তাঁর স্ত্রী-সন্তান কিংবা বাবা-মায়ের খবর নিচ্ছেন না। তাছাড়া অন্য কোনও কারণে নানা দিক থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে তাদেরকে। তাই সন্তান কিংবা বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় এখানে আসা। তারা জেনেছেন, অধিকারবঞ্চিত নারীদের জন্য সেখানে বিশেষ একটি সেল স্থাপন করা হয়েছে।

যেখানে লিখিত অভিযোগ নিয়ে পরে যাচাই বাছাই। এরপর দু'পক্ষকে নিয়ে বৈঠক। আর ঘটনার মাত্রা বুঝে রায়। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামের পঞ্চায়েতরাও ভূমিকা রাখছেন।  

জেলার শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামের সোহেলী খানম জানান, তার ছেলে বৌকে কোনও কারণ ছাড়াই মারধর করতেন। এতে তিনি শাশুড়ি হয়ে মানা করতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিজেই ছেলে আর বৌয়ের বিরোধ মেটাতে পুলিশ সুপারের কাছে যান। আর খুব সহজেই তার সমাধানও পান সোহেলী খানম। এমন একটি দুটো নয়, খোঁজ নিতে গিয়ে শত শত ঘটনার জলজ্যান্ত উদহারণ মিলেছে।  

চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইনি সহায়তার অভিযোগ সেলের ইনচার্জ এসআই আজমেরী বেগম জানান, গত এক বছরে নারী নির্যাতন আর নানা সমস্যা নিয়ে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন প্রায় সাত হাজার জন। এর মধ্যে সমাধান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত অভিযোগ বাড়তে থাকায় তাঁর সঙ্গে এখন আরও চারজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।  

আর এমন মানসিক মূল্যবোধের বিষয়টিকে একজন নারী পুলিশ সুপারের কল্যাণমুখী ভাবনা। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভিন্নমাত্রার সফলতার কথা জানালেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি কাজী শাহাদাত। আর্থিক সঙ্গতি নেই এমন অনেক নারী ন্যায়বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারছে না। সেক্ষেত্রে অন্য কোনও মাধ্যম ছাড়াই  অভিযোগকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে তার কথা জানাতে পারছেন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার-পিপিএম বলেন, "সমস্যা যাই হোক- তা শান্তিপূর্ণ সমাধান করাই আমার লক্ষ্য। এখানে অধিকারবঞ্চিতরা কতটা ন্যায়বিচার পেল- সেটাই বড় কথা। তবে এ ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ভারসাম্য বজায় রেখেও দুই পক্ষের মধ্যে সমাধান করতে হয়। " 

বক্তিগত জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী শামছুন্নাহার। ফরিদপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক ভোলা মাস্টার তাঁর বাবা। স্বামী মো. হেলালউদ্দিন আমেরিকা প্রবাসী। দু'জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রিধারী। জাতীয় পুলিশ সপ্তাহে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে টানা দুইবার নেতৃত্ব দিয়েছেন শামছুন্নাহার। মাঠপর্যায়ে জেলার শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা সেবা প্রদানে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করে সর্ব্বোচ পদক পিপিএম অর্জন করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরও তিনি নারীর অধিকার সুরক্ষায় চাঁদপুরে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। এসব দিক বিবেচনায় নিয়েই শামছুন্নাহারকে এ পদকে ভূষিত করা হয়।


মন্তব্য