একজন কুর্দি ইজাদি শরণার্থী জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল একদল শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের গোশত রান্না করার পর তা তাদেরকে মায়েদের খাইয়েছে।
সিনজার অঞ্চলের ‘বিজি সিদু কাসেম’ নামের একজন ইজাদি বৃদ্ধা শরণার্থী আইএসআইএল-এর সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দী হওয়ার পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে এই লোমহর্ষক নৃশংস ঘটনার কথা জানান।
তিনি বলেছেন, আমাদেরকে গোশতযুক্ত খাবার খেতে দেয়া হয়। তিনি জানান যে অসুস্থতার কারণে তিনি গোশত খেতে পারবেন না।
\'শিশুদের রান্না করে খাওয়ানো হলো তাদের মায়েদেরকে\'
কালের কণ্ঠ অনলাইন

‘বিজি সিদু কাসেম’ বলেছেন, ওই মহিলারা আইএসআইএল-এর দেয়া ওই খাবার খাওয়ার পর নিজ শিশু সন্তানদের দেখতে চান এবং সন্তানদেরকে তাদের কাছে পাঠাতে অনুরোধ করেন যাতে তাদেরকে পাশে রেখে খাওয়াতে পারেন; কিন্তু সন্ত্রাসী আইএসআইএল-এর কর্মীরা তাদের জানান, তোমরা এতক্ষণ তাদেরকেই খেয়েছ!
ওই ইজাদি বৃদ্ধা আরও জানান, আইএসআইএল-এর একজন কর্মী তার মোবাইলে ওই শিশুদের জবাই করার ও তাদেরকে টুকরো টুকরো করে রান্না করার দৃশ্য ওই নারীদের দেখান।
এমটিভি’র (টেলিভিশন) একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, হাস্কা প্রদেশের নওরোজ শরণার্থী শিবিরের ইজাদি শরণার্থীরা আইএসআইএল-এর নানা ধরনের নৃশংস ঘটনার সাক্ষী এবং এই ঘটনা ছিল সেসবের অন্যতম। আইএসআইএল-এর হাতে কোনো কোনো ইজাদি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দী রয়েছে।
আইএসআইএল ইজাদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের বহু পুরুষকে হত্যা এবং নারীদের ধর্ষণ করেছে। বহু ইজাদি নারী ও শিশুকে বন্দী করার পর তাদের বিক্রিও করেছে বা যৌন-দাসী করেছে। অনেক ইজাদি নারী ও শিশুকে তারা প্রকাশ্যে বাজারে নিয়ে যৌন দাসী হিসেবে বিক্রি করেছে বলে বিভিন্ন সময় খবর এসেছে।
- সূত্র : আইআরআইবি

গাজার স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭
অনলাইন ডেস্ক

গাজার উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় একটি হাসপাতালের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গাজা শহরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তুফাহ জেলার দার আল-আরকাম স্কুলে হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শহরের ‘হামাস কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে থাকা বিশিষ্ট সন্ত্রাসীদের’ ওপর হামলা চালিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরো ৯৭ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিশাল অংশ দখলের জন্য তাদের স্থল অভিযান সম্প্রসারিত হচ্ছে।
গাজার হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, দার আল-আরকাম স্কুলে হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন।
কাছের আল-আহলি হাসপাতালের ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুদের গাড়ি ও ট্রাকে করে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা শহরের যে স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, সেখানে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক এবং সেনাদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করার জন্য ব্যবহার করেছে। এতে আরো বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমাতে অসংখ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রাতভর গাজা শহরের পূর্ব শেজাইয়া জেলার বেশ কয়েকটি বাড়িতে বোমা হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। তারা একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, উদ্ধারকারীরা একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে দুটি ছোট শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তিনি ঘুমাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠেন। আইডিএফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে তারা শেজাইয়া এবং পার্শ্ববর্তী চারটি এলাকার বাসিন্দাদের পশ্চিম গাজা শহরে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি

দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন
অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দেশটির সাংবিধানিক আদালত এই রায় দেয়। এই রায়ের অর্থ এখন দেশটিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। খবর সিএনএনের।
ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট ইওলকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেওয়ার পর শুক্রবার আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এখন তার অপসারণ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং তাকে প্রেসিডেন্টের বাসভবন ত্যাগ করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত গত বছরের শেষের দিকে সামরিক আইন ঘোষণার জন্য অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে তার পদ থেকে অপসারণের রায় দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ইউন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক আইন ঘোষণা করেন।
কিন্তু দেশের জাতীয় পরিষদ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পাঠানো ঊর্ধ্বতন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তখনকার প্রেসিডেন্ট ইউন তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিবিদদের আটক করতে এবং তার সামরিক শাসনের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য সংসদকে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, ৬৪ বছর বয়সী ইউন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এখনো ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি। তিনি জানুয়ারির ১৫ তারিখে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হন, যদিও মার্চ মাসে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

জনশূন্য পেঙ্গুইনের দ্বীপেও শুল্ক বসালেন ট্রাম্প!
অনলাইন ডেস্ক

অ্যান্টার্কটিকার কাছে বরফে ঢাকা, জনশূন্য আগ্নেয়গিরিময় দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে শুধু পেঙ্গুইনদের বাস। তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপ থেকে রক্ষা পায়নি এসব দ্বীপ। এসব দ্বীপের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার দূরবর্তী ভূখণ্ড হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম প্রত্যন্ত অঞ্চল। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ থেকে নৌকায় সেখানে পৌঁছতে দুই সপ্তাহ লাগে। ধারণা করা হয়, একেবারে জনশূন্য এই দ্বীপে প্রায় এক দশক আগে শেষবার মানুষের পা পড়েছিল।
হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডের বাইরের আরো কিছু অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের তালিকায় আলাদা করে স্থান পেয়েছে, যেগুলোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে।
অস্ট্রেলিয়ার এসব দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সরাসরি স্বায়ত্তশাসিত নয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিশেষ প্রশাসনিক সম্পর্ক রয়েছে।

মাস্কের সরকারি পদ ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছিলেন যে ধনকুবের ইলন মাস্ক সরকারি দায়িত্ব থেকে শিগগির সরে দাঁড়াবেন। গত বুধবার পলিটিকো এবং সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ এসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
তবে হোয়াইট হাউস এই খবর নাকচ করে দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই ‘বিশেষ’ খবরকে আবর্জনা বলে মন্তব্য করেছেন।
টেসলার প্রতিষ্ঠাতা মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
মূলত ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমাতে বিভাগটি চালু করা হয়েছে। মাস্কের কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীদের মতবিরোধ আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে পলিটিকোর প্রতিবেদনকে ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ইলন মাস্ক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়ই প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ডিওজিইতে তার অবিশ্বাস্য কাজ শেষ হলে মাস্ক একজন বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে সরকারি পরিষেবা থেকে প্রস্থান করবেন।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, মাস্ক কোনো একসময় তার কম্পানিতে ফিরে যাবেন।
তিনি বলেন, আমি মনে করি তিনি (মাস্ক) বিস্ময়কর। তবে একটি বড় কম্পানি পরিচালনার কাজ করতে হয় তাঁকে। কোনো একসময় তিনি সেখানে ফিরে যাবেন।