kalerkantho


দম্ভ ও উন্নাসিকতাই কংগ্রেসের পতনের কারণ: রাহুল গান্ধী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:০৯



দম্ভ ও উন্নাসিকতাই কংগ্রেসের পতনের কারণ: রাহুল গান্ধী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের দলেরই সমালোচনা করলেন বর্তমানের ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী। দম্ভ ও উন্নাসিকতাই কংগ্রেসের ক্ষমতা হারানোর মূল কারণ বলে মন্তব্য করেছেন রাহুল।

সেইসঙ্গে প্রায় সমস্ত ইস্যুতেই বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন তিনি।

রাহুল বলেন, ২০১২ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের মধ্যে দম্ভ ও উন্নাসিকতা এতটাই বেড়ে যায় যে কংগ্রেসকর্মীরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই বন্ধ করে দেয়। সেটাই কংগ্রেসের পতনের মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি।

তবে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে রাহুলের বক্তব্যের আগাগোড়াই ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করে। গো-রক্ষার নামে মানুষ খুন নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। রাহুল বলেন, হিংসা, উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও বিভাজনের রাজনীতি ভারতে আগে কখনও ছিল না।

ইন্ডিয়া অ্যাট ৭০ শীর্ষক এই আলোচনাসভায় রাহুল গান্ধী বলেন, কাশ্মীরে ৯ বছরে ইউপিএ সরকার যে কাজ করেছিল, প্রধানমন্ত্রী মোদী মাত্র ৩০দিনেই তা ধ্বংস করে দিয়েছে। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে কাশ্মীরকে বিজেপি ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি।

তবে মোদীকে ভাল বক্তা বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁরও প্রধানমন্ত্রী এবং কোনও বার্তা কোথায় কীভাবে রাখতে হবে, তা তিনি নিশ্চয়ই ভাল বোঝেন।

রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়েও কথা বলেন রাহুল গান্ধী। অখিলেশ যাদব, এম কে স্তালিনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন বেশিরভাগ দেশে এভাবেই রাজনীতি চলে।

রাহুল বলেছেন, পরিবারতন্ত্রের কথা বললে অভিনেতা অভিষেক বচ্চন বা শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকেও এই তালিকায় ধরতে হবে। আমায় একা দোষ দিয়ে লাভ নেই। এভাবেই বেশিরভাগ দেশ চলছে। ভারতের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলেরই এই সমস্যা রয়েছে। অখিলেশ যাদব এভাবে এসেছেন, করুণানিধির পুত্র এমকে স্তালিন, অনুরাগ ঠাকুর এভাবে এসেছেন। এভাবেই ভারতে প্রথা চলে আসছে।

রাহুলকে বারবার অলস রাজনীতিক বলে স্যোশাল মিডিয়ায় ও সংবাদমাধ্যমে ব্যঙ্গ করেন বিজেপি নেতারা। এপ্রসঙ্গে রাহুল বলেন, ওদের এক হাজার লোক এই কাজেই বসে রয়েছে। ইন্টারনেটে বসে যা খুশি আমার নামে বলে যাচ্ছে বা লিখে যাচ্ছে। এবং এসবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি যার হাতে দেশের দায়িত্ব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাহুল। ব্যঙ্গ করে বলেছেন, উনি আমার থেকে ভালো কথার ছলাকলা জানেন। পাশাপাশি রাহুলের অভিযোগ, বিজেপিতে সবকিছু উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়। কারও মতামত শোনা হয় না। কংগ্রেসে আবার তা হয় না। নিচুতলার কর্মীদের মতামতও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ওই আলোচনাসভায় মোদী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাহুল বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখা জরুরি কিন্তু তার মানে এই নয় যে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই রাখা চলবে না।

রাশিয়া এখন পাকিস্তানকে অস্ত্র বিক্রি করছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কায় চিনের প্রভাব বাড়ছে, এটা হচ্ছে পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য না থাকার ফলেই।

যদি দল চায় তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে প্রস্তুত বলেও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এই আলোচনাসভায় রাহুল গান্ধী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর।

সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া


মন্তব্য