kalerkantho


রোহিঙ্গা মুসলিমরা স্থানীয় নয় বলে জানালেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৫৮



রোহিঙ্গা মুসলিমরা স্থানীয় নয় বলে জানালেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

ছবি :ইন্টারনেট থেকে

মিয়ানামার সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মারসিয়েলের সঙ্গে এক বৈঠকে দাবি করেছেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের স্থানীয় বাসিন্দা নন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মারসিয়েলের সঙ্গে সিনিয়র জেনারেল হ্লাইংয়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে হ্লাইং উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর তার বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ সম্পর্কে কিছু বলেননি এবং বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়িয়ে বলার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা আছে বলে অভিযোগ করেছেন। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তিনি বাঙালি বলে উল্লেখ করেন এবং সমস্যাটির জন্য ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীদের দায়ী করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তিনি বলেন, বাঙালিদের এই দেশে মিয়ানমার নিয়ে আসেনি, উপনিবেশবাদীরা নিয়ে এসেছিল। তারা এখানকার স্থানীয় নয়, আর রেকর্ডে প্রমাণ আছে উপনিবেশিক আমলে তাদের রোহিঙ্গা বলা হত না, বাঙালি বলা হত।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে হ্লাইং অভিযোগ করে বলেছেন, বিদ্রোহীরা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন ৯০ জন হিন্দু ও ৩০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, বিদ্রোহীরা নাগরিকত্ব যাচাইয়ের একটি কর্মসূচীর বিরোধীতা করছে, যে কর্মসূচীতে তাদের বাঙালি বলা হয়েছে, হামলার পেছনের কারণ এটাই।

হামলার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (এআরএসএ) বিদ্রোহীদের দায়ী করে তিনি বলেন, এআরএসএ-র নেতৃত্বে স্থানীয় বাঙালিরা এসব হামলা চালিয়েছে। সম্ভবত সে কারণেই নিরাপত্তাহীনবোধ করে তারা পালিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাঙালিদের সত্যিকারের জায়গা বাংলা। সেখানে নিরাপদে থাকতে পারবে এ ধারণা থেকেই সম্ভবত সেখানে পালিয়েছে তারা।

মিয়ানামারের এই জেনারেল বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা সত্বেও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে হ্লাইং এর যে তেমন অনুভূতি নেই তার আপোষহীন মনোভাবেও এর ইঙ্গিত মিলেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমারের মানুষদের মধ্যে তেমন কোনো সহানুভূতি নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অভিযান সেখানে একটি জনপ্রিয় বিষয়।  


মন্তব্য