kalerkantho


ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নয় পার্লামেন্ট নেবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:১১



ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নয় পার্লামেন্ট নেবে

ছবি অনলাইন

ব্রেক্সিটের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর।   ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনা শুরুর এক দিন আগে গত বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এসংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়।

এই বিলের মাধ্যমে ব্রেক্সিট নিয়ে সরকারের যেকোনো অবস্থান গ্রহণ বা বর্জন করার অধিকার অর্জন করল পার্লামেন্ট। প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের জন্য এ সিদ্ধান্তকে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


আরো পড়ুন : ব্রেক্সিট কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতন ত্বরান্বিত করবে


ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের ১১ এমপির বিদ্রোহের মুখে এ যাত্রা হার হলো প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের। দলের যেসব এমপি সরকারের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আটজন ছিলেন সাবেক মন্ত্রী। ভোটের পর তাঁদের মধ্যে স্টিফেন হ্যামন্ডকে রক্ষণশীল দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ৩০৯টি, অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩০৫টি। এই ভোটের মাধ্যমে ব্রাসেলসের সঙ্গে চূড়ান্ত ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে পার্লামেন্ট আইনি বৈধতা পেল। এর বিরোধিতা করে সরকার বলছিল, এটি করা হলে কোনো বিঘ্ন ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলেছেন, ‘ছোট এই বিপর্যয়’ ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার এ সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের কর্তৃত্ব অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, ‘ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের বৈঠকের আগে সরকারের এ ক্ষমতা হারানো এক লজ্জাজনক পরাজয়। টেরেসা মে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতে বাধা দিচ্ছিলেন। ’


আরো পড়ুন : ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আজ থেকে


ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, সবার আগে ব্রেক্সিট বা বিচ্ছেদসংক্রান্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষকে বোঝাপড়ায় আসতে হবে। যথেষ্ট অগ্রগতি হলে তবেই ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু ব্রিটেন দুটি বিষয় নিয়ে একসঙ্গে দর-কষাকষি করতে আগ্রহী, যা ইইউর কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে লেবার পার্টির এমপি কেইর স্টার্মার বলেন, এর ফলে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এককভাবে কেবল সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে না। তবে সরকারের এক মুখপাত্র জানান, যদিও এ ভোটের ফলাফল ব্রিটিশ মধ্যস্থতাকারীদের হতাশ করেছে, তবে এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হবে না।


আরো পড়ুন : ব্রেক্সিট সামলাবে কে?


এদিকে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যকে একটি সম্পূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য চুক্তি করার বিষয়ে আবারও সতর্ক করেছে ইইউ। সূত্র : বিবিসি, ডয়চে ভেলে


মন্তব্য