kalerkantho


কেউ দিলেন গরম পানি, কেউ ব্লেড, স্টেশনেই জন্ম নবজাতকের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:০০



কেউ দিলেন গরম পানি, কেউ ব্লেড, স্টেশনেই জন্ম নবজাতকের!

মেট্রো স্টেশনের সুপারিনটেন্ডেন্ট পকেট হাতড়ে বার করলেন নতুন ব্লেড। স্টেশনের পাশে চা দোকানের মালিক ছুটলেন গরম পানি নিয়ে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে চাদর দিয়ে আড়াল করলেন সিভিক ভলান্টিয়ার। প্রসববেদনায় কাতরানো তরুণীর মাথা নিজের কোলে রাখলেন মহিলা রেল পুলিশ কর্মী। দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে চাঁদনি সাহুর কন্যার জন্ম হল। সম্ভাবনা ছিল সেপটিক হওয়ার। রক্তক্ষরণও হয়েছিল বিস্তর। তবে রেলকর্মী এবং যাত্রীদের তৎপরতায় সুস্থ নৈহাটির বাসিন্দা চাঁদনি ও তাঁর কন্যা। বৃহস্পতিবার দুপুরের ওই ঘটনা নিয়ে শুক্রবারও চর্চা হল দমদম স্টেশন চত্বরে। দমদম স্টেশনে এমন ঘটনার কথা মনে করতে পারছেন না মেট্রো রেল এবং পূর্ব রেলের আধিকারিকেরা।


আরো পড়ুন: ভারতে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু


সিভিক ভলান্টিয়ার চঞ্চলা চৌধুরীর কথায়, মেয়েটি দরদর করে ঘামছিল। বুঝতে পেরেছিলাম ও সন্তানসম্ভবা। প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছে বুঝতে পেরে আমি এবং অন্য একজন মেয়েটিকে ধরে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে এটিএম কাউন্টারের সামনে শুইয়ে দিই। দমদম জিআরপি জানাচ্ছে, এমন ঘটনা দেখে যাত্রীরা জড়ো হয়ে যান। মেয়েটি তখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে। দমদম মেট্রো রেল থেকে জিআরপিকে ফোন করে স্ট্রেচার চাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে যান দমদম মেট্রোর স্টেশন সুপার দিলীপ চৌধুরী। প্রসবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন পোলিও সচেতনতা তৈরির কাজে নিযুক্ত এক মহিলা। দমদম জিআরপি’র কর্মী ডলি মণ্ডল মাটিতে বসে পড়ে চাঁদনির মাথা কোলে নিয়ে নেন। সিভিক ভলান্টিয়ার সুনীতা গায়েন চাদর দিয়ে আড়াল করেন চাঁদনিকে। সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন কয়েকজন মহিলা যাত্রীও।


আরো পড়ুন: টুইন টাওয়ারের স্থানে জন্ম নেওয়া প্রথম শিশু অ্যাসেনাট


স্থানীয় চায়ের দোকানদার রাজু অধিকারী বলেন, ওই মহিলা ব্লেড এবং গরম পানিের খোঁজ করেন। আমি দোকানে দৌড়ে গিয়ে হাফ লিটার মতো গরম পানি নিয়ে আসি। আমার দোকানে তখন ভিড়। তাঁদের বলি, এখন বিক্রিবাটা কিছু হবে না। এসে দেখি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। কিন্তু ও কাঁদছে না। তখন পার্স থেকে ব্লেড খুঁজে পান স্টেশন সুপার। সেই ব্লেডে নাড়ি কাটেন ওই মহিলা। তারপর গরম পানিে হাত ধুয়ে বাচ্চাটার পিঠে চাপড় দেন তিনি। তখন ও কেঁদে ওঠে। আর ডলি শুক্রবার বলেন, এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হইনি। দুই জনে এখন সুস্থ আছে বলেই শুনেছি। এরপরে মা-কন্যাকে স্ট্রেচারে শুইয়ে দমদম স্টেশনের বাইরে এনে ট্যাক্সিতে আর জি করে নিয়ে যাওয়া হয়। দিলীপ এদিন এই ঘটনা নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, সকলের চেষ্টায় মেয়েটি সুস্থ রয়েছে, এটাই যথেষ্ট।

 


মন্তব্য