kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইরানে ঝিমিয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, ছাত্রসহ সহস্রাধিক গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:৫৯



ইরানে ঝিমিয়ে পড়েছে বিক্ষোভ, ছাত্রসহ সহস্রাধিক গ্রেপ্তার

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীরা

গত শুক্রবার রাতে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে ইরানের কয়েকটি শহরে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় লোকজনকে উদ্ধৃত করে জানায়, সেই বিক্ষোভ ঝিমিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে পাঠানোর পরই বিক্ষোভ কমে আসতে শুরু করে।

অন্যদিকে, ইরানে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। খবরে জানা যাচ্ছে এ পর্যন্ত ইরানে ১৭০০ লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৯০ জন ছাত্র, অনেককে তাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদের অন্তত ১০ জন কোথায় আছে সে সম্পর্কে তেমন কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনির ছবিও পোড়ায়। তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, 'রাষ্ট্রদ্রোহিতা' পরাজিত হয়েছে।

আজ ইরানের কয়েকটি শহরে সরকারের সমর্থনে সমাবেশ হয়, যাতে হাজার হাজার লোক অংশ নেয়। তারা আমেরিকা, ইসরায়েল ও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

যে ছাত্রদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্ররা কোথায় আছে তা জানতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের মুক্তির জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

বিবিসির দেখা ভিডিওতে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে এভিন কারাগারের বাইরে লোকজন জড়ো হয়েছে বলে দেখা যায়। তারা তাদের প্রিয়জনের খোঁজ নিতে এসেছে। দু'দিন আগেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলি জাফারি বলেন, 'রাষ্ট্রদ্রোহিতার' পরাজয় হয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং জনগণের নজরদারির ফলে শত্রুর পরাজয় ঘটেছে, এবং গার্ড বাহিনীকে মাত্র তিনটি জায়গায় হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তার কথায় সারা দেশ মিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর সংখ্যা ১৫ হাজারও ছিল না এবং একটি জায়গায় সর্বোচ্চ দেড় হাজার লোক ছিল।

এই জেনারেল বলেন, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন-ঘোষিত দাঙ্গা, ষড়যন্ত্র এবং অরাজকতা সৃষ্টিকারী শক্তিরা এবং প্রতিবিপ্লবী ও 'শাহ-পন্থীরা'-এর জন্য দায়ী।

তার কথায় এই শত্রুরা 'ইসলামী ইরানের প্রতি সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা হুমকি' সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিক্ষোভ শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত ২২ জন লোক নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন তাদের কাছে শক্ত প্রমাণ আছে যে বিক্ষোভকারীদের 'বিদেশ থেকে' নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। ইরানের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদকে জড়িত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার নিন্দা করেছে রাশিয়া।
সূত্র : বিবিসি বাংলা 


মন্তব্য