kalerkantho


বাংলাদেশের বরাদ্দ সহায়তার ৬০০ কোটি টাকা কমালেন ট্রাম্প

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৩১



বাংলাদেশের বরাদ্দ সহায়তার ৬০০ কোটি টাকা কমালেন ট্রাম্প

জেরুজালেম নগরীকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ভোট দেওয়ার পর নির্দিষ্ট করে কোনো হুমকি-হুশিয়ারি না এলেও অর্থসহায়তা কমছে বাংলাদেশের জন্য। এ ঘটনাকে ট্রাম্পের পূর্বঘোষিত দেখে নেবার হুমকির কার্যকারিতা শুরু হয়েছে অনেকেই ধারণা করছেন।

২০১৭ সালে ২২ কোটি ডলার (প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ ছিল ওয়াশিংটনের। ২০১৮ সালে ৪০ শতাংশ (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা) কমে তা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে অবশ্য মার্কিন সহায়তা প্রাপ্তির তালিকায় ২৫ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স বিভাগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এ তথ্য।

বিভিন্ন দেশে মার্কিন সহায়তার পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে কমিয়ে এনেছে ট্রাম্প সরকার। চলতি বছর এ খাতে মাত্র আড়াই হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে দেশটি। এর মধ্যে বেশির ভাগই যাবে ইসরাইল, মিসরের মতো মিত্র দেশগুলোতে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য বহু দেশে মার্কিন সহায়তা কমছে এ বছর। প্রায় ১৫০টি দেশে বিভিন্ন খাতে বার্ষিক অর্থসহায়তা দিয়ে থাকে দেশটি। পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা ইউএসএআইডির মাধ্যমে বছরজুড়ে বণ্টন হয় বরাদ্দ করা তহবিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বাজেট তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন। নতুন বছরের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সহায়তা কমে প্রায় অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে, এ খাতে গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ ছিল ওয়াশিংটনের। এ বছর তা নেমে এসেছে মাত্র আড়াই হাজার কোটিতে।

নামধাম লিখে রাখা এবং অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাভুটিতে ১২৮টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ৯টি দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ।

নন-বাইন্ডিং এই প্রস্তাবটি পালনে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এটি এক্ষেত্রে জাতিসংঘের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরল।

ভোটের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে যারা এই প্রস্তাব সমর্থন করে ভোট দেবে তাদের আর্থিক সহায়তা আমেরিকা বন্ধ করে দেবে। ভোটের আগে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা যেন আমেরিকার 'ভীতিপ্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল' অগ্রাহ্য করে।

ভোটদানে বিরত দেশগুলোর মধ্যে ক্যানাডা আর মেক্সিকো রয়েছে। ভোটাভুটির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তারা এই ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করছেন। জাতিসংঘকে মিথ্যার বেসাতি বলেও তিনি আখ্যায়িত করেছেন। গত ডিসেম্বরে জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘে ভোটাভুটির সময় যুক্তরাষ্ট্র বিরোধীদের অর্থসহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছে ট্রাম্প।

সবশেষ সে হুমকি পায় পাকিস্তান ও ফিলিস্তিন। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে এক সময়ের মিত্র পাকিস্তানে কয়েক বছর ধরেই সহায়তা কমছে যুক্তরাষ্ট্রের। তিন বছর আগেও শত কোটি ডলার পাওয়া ইসলামাবাদের জন্য এ বছর বরাদ্দ মাত্র ৩৪ কোটি ডলার। তবে বিদেশি সহায়তা কমানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান মিত্র ইসরাইল ও মিসরের সাহায্যের পরিমাণ আগের মতোই আছে।


মন্তব্য