kalerkantho


শ্বেতাঙ্গ প্রেমিকার জন্য বাবাকে খুনের পরিকল্পনা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:০৪



শ্বেতাঙ্গ প্রেমিকার জন্য বাবাকে খুনের পরিকল্পনা!

১৯ বছরের গুরতেজ সিং রনধাওয়া নামে ব্রিটেনের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ পছন্দ করতেন শ্বেতাঙ্গ বান্ধবীকে। পরিবার এই সম্পর্ক না মানায় বাবাকে খুনের চক্রান্ত করেছিলেন তিনি। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আট বছরের জেল দিয়েছে ব্রিটিশ আদালত।

ব্রিটেনের উলভারহ্যাম্পটনে বহু বছরের প্রবাসী শিখ পরিবারের সন্তান গুরতেজ সিং রনধাওয়া। পড়াশোনার সূত্রে আলাপ এক ব্রিটিশ তরুণীর সঙ্গে। লেখাপড়ায় দুজনেই ভালো। লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজনেরই একসঙ্গে ডাক্তারি পড়ার কথা ছিল। কিন্তু, ওই শ্বেতাঙ্গিনীকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ বাধে তরুণের। গুরতেজের পছন্দ মেনে নিতে পারেননি তার মা-বাবা। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে টানাপোড়েন। 

শেষমেশ ক্ষিপ্ত তরুণ বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করেন। ব্রিটিশ পুলিশ তদন্তে নেমে চক্রান্তের রোমহর্ষক ছক খুঁজে পায়। গত নভেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরাধ কবুল করে গুরতেজ।

বাবাকে খুন করতে কী ধরনের ছক কষেছিল সে? অনলাইনে বিস্ফোরক কেনার অর্ডার দিয়েছিল গুরতেজ। টাকা মিটিয়েছিল অনলাইনেই। নিজের বাড়ির নয়, অন্য ঠিকানা দিয়েছিল ওই সংস্থাকে। এই বিস্ফোরক বাবার গাড়িতে ভরে দেওয়ার ফন্দি এঁটেছিল সে। গুরতেজের বাবা যখন বাড়িতে অনুপস্থিত থাকেন, তখন গাড়ির পিছনে বিস্ফোরক ভরে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু, গুরতেজ জানত না বিস্ফোরক কেনার অনলাইন অর্ডার সন্দেহজনক হওয়ায় তার ওপর নজর রাখছিল ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। অনলাইন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। বিস্ফোরকের বদলে ভুয়ো একটি ডিভাইস পাঠানো হয় গুরতেজের ঠিকানায়। সেটাকে আসল বিস্ফোরক ভেবে গাড়িতে বসানোর চেষ্টা করার সময় তরুণকে ধরে পুলিশ।

গুরতেজের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকের সাহায্যে হত্যা বা গুরুতর আঘাত দেওয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগ প্রমাণিত হয় বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্টে। তদন্তকারীরা আদালতকে জানান, ওই বিস্ফোরক কাজে লাগানো হলে অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। রিমোটের সাহায্যে সেটি ফাটানোর পরিকল্পনা ছিল তরুণের। অপরাধ কবুল করায় তরুণকে আট বছরের কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছে।

বিচারক চিমা গ্রুব সাজা ঘোষণার সময় অপরাধীর উদ্দেশে বলেন, ‘এটা নিয়ে সন্দেহ নেই যে, তরুণ বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে চেয়েছে। সে জন্য বাবাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছে, যা বিস্ময়কর।’ বিচারকের মন্তব্য, ‘পরিবার সম্পর্কে বান্ধবীর কাছেও মিথ্যা বলেছে অভিযুক্ত। তথ্য বিকৃত করার মতো পর্যাপ্ত বুদ্ধি রয়েছে তার।’

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া



মন্তব্য