kalerkantho


সৌদি রাজপুত্রের মুক্তি কি হবে ঘুষের বিনিময়ে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:০৩



সৌদি রাজপুত্রের মুক্তি কি হবে ঘুষের বিনিময়ে!

দুই মাস ধরে জেলে থাকা এক সৌদি রাজপুত্র উপঢৌকন দিয়ে বন্দি দশা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন। ধনকুবের ব্যবসায়ী ওই যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালালের সঙ্গে এ ব্যাপারে সৌদি আরব সরকারের কথাবার্তা চলছে বলে খবর রটেছে। যদিও উপঢৌকন বা উৎৎকোচের অঙ্ক নিয়ে নাকি দুই তরফের ঐকমত্য এখনও হয়নি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে সৌদি সরকার পাকড়াও করেছিল রাজপুত্র যুবরাজ আল ওয়ালিদকে। ফোর্বস পত্রিকার হিসেবে যাঁর সম্পত্তি ১৭০০ কোটি ডলার, তাঁর কি মাসের পর মাস বন্দি থাকা সাজে! সূত্রের খবর, বিনিয়োগ সংস্থা কিংডম হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান তথা মালিকের সঙ্গে মুক্তির ব্যাপারে সৌদি সরকারের আলোচনা শুরু হয়েছে। কার্যত টাকা দিয়ে মুক্তির বিষয়ে কথা চলছে, যাকে উপঢৌকন বা উৎকোচের তকমা দেওয়া চলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৌদি প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আল ওয়ালিদ একটা অঙ্কের টাকা দিতে চেয়েছেন। সেটা বড় অঙ্কের হলেও শনিবার পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁকে মুক্তি দিতে রাজি হননি।’ দুতরফের বোঝাপড়া হলে নিজের দোষ কবুল করতে হবে না রাজপুত্রকে।

গত নভেম্বরে এক ধাক্কায় রাজপরিবারের একাধিক সদস্য ও ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে সৌদি সরকার। দুর্নীতির নামে এই অভিযান চালানো হলেও এর নেপথ্যে রাজনীতির হাতই দেখা যাচ্ছে বেশি। সেই বন্দিদের রাখা হয়েছে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে। সেখানে সরকারি প্রতিনিধিরা নিয়মিত হাজির হচ্ছেন, কথা বলছেন বন্দিদের সঙ্গে। 
প্রশাসনের সূত্রই জানাচ্ছে, অভিযুক্তরা সৌদি সরকারকে ১০ হাজার কোটি ডলার থেকে বঞ্চিত করেছে। এই টাকা তাঁদের কাছ থেকে ফেরত চায় সরকার। তাই একে উপঢৌকন বলে দেখতে চাইছেন না অনেকে। কিন্তু, বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে না গিয়ে এ ভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অভিযোগ থেকে মুক্তির পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

আল ওয়ালিদের বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতি, ঘুষ দেওয়া ও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বন্দি হওয়ার পর তাঁর সংস্থা কিংডম হোল্ডিং স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাচ্ছে। তবে চেয়ারম্যান সম্পর্কে এই সংস্থার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া অবশ্য সৌদি আরবে কোনো নতুন ব্যাপার নয়। গত নভেম্বরেই রাজপুত্র মিতেব বিন আবদুল্লাহ প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে ১০০ কোটি ডলারের বেশি টাকা দিয়ে অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। যদিও সরকারি ভাবে এ কথা স্বীকার করতে চায়নি কোনো পক্ষই।


মন্তব্য