kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে আসা বন্ধ হলো কম দক্ষ হাইতির নাগরিকদের

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি    

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:৪১



যুক্তরাষ্ট্রে আসা বন্ধ হলো কম দক্ষ হাইতির নাগরিকদের

যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ বন্ধ হলো কম দক্ষ হাইতির নাগরিকদের। অদক্ষ কিংবা কম দক্ষ শ্রমিকদের নতুন করে কোনো ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

২০১০ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর হাইতির অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ ঘোষণার ফলে নতুন করে দেশটি থেকে কম দক্ষ লোকজনের যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে হাইতির কম দক্ষ কর্মীদের মার্কিন ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়ে। হাইতিসহ আফ্রিকার দেশগুলোকে ট্রাম্প 'নোংরা দেশ' হিসেবে আখ্যায়িত করার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘোষণা এলো।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এইচ-২এ এবং এইচ-২বি ভিসা দেওয়া হয় এমন ৮০টিরও বেশি দেশের তালিকা থেকে হাইতিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

হাইতির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ভিসায় উল্লিখিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সর্বদলীয় কয়েকজন সিনেটরের সঙ্গে বৈঠকে আফ্রিকা মহাদেশ ও বিশেষ করে হাইতি থেকে আসা অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'আমরা কেন নোংরা দেশগুলো থেকে আসা এই লোকদের থাকতে দিচ্ছি? হাইতির লোক কেন আমাদের এতো বেশি লাগবে? তাদের বের করে দিন।'

বৈঠকে উপস্থিত রিপাবলিকান পার্টির দুই সিনেটর ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। তবে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ডিক ডারবিন জানান, সেখানে বেশ কয়েকবার আফ্রিকার দেশগুলোকে 'নোংরা জায়গা' বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট।

এ ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধ নতুন করে বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে 'বেদনাদায়ক, লজ্জাজনক ও বর্ণবাদী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জেনেভার জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল বলেন, 'আপনি পুরো দেশ বা মহাদেশের সব মানুষকে নোংরা বলতে পারেন না। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে বর্ণবাদী ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বর্ণনা করা অসম্ভব।'

শ্বেতাঙ্গ নয় এমন জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত না জানানোর ট্রাম্পের মানসিকতার সমালোচনা করেন জাতিসংঘের এ মানবাধিকারকর্মী।


মন্তব্য