kalerkantho


খুনি মায়ের 'গল্পে' স্তম্ভিত গ্রামবাসী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:২৪



খুনি মায়ের 'গল্পে' স্তম্ভিত গ্রামবাসী!

কিশোরের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ

সন্তানদের হত্যাকারী হিসেবে মায়ের নাম উঠে আসে মাঝে মধ্যে। এ ঘটনাগুলো সব সময়ই হতভম্ব করে সবাইকে। একজন মা কীভাবে তার সন্তানদের প্রাণ কেড়ে নিতে পারেন? ভারতের কেরালার তেমনই এক ঘটনা ঘটে গেলো, গ্রামবাসীরা স্তম্ভিত। 

ছেলেটির বয়স সবে ১৪, নাম জিথু জব। মায়ের সঙ্গে কোনো এক বিষয় নিয়ে বচসা করছিল সে। পরের ঘটনা হলো, তার পোড়ানো মৃতদেহের খোঁজ মেলে বাড়ির কিছুটা দূরে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এলো, ঝগড়ার এক পর্যায়ে মা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর পুড়িয়ে দেন। দেহাবশেষ ফেলে দিয়ে আসেন বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে। 

আরো পড়ুন: ট্রাম্পের ৮ গার্ল ফ্রেন্ডের তালিকা!

এ ঘটনার পরদিন ৪২ বছর বয়সী মা জয়া মোল তার স্বামী অর্থাৎ ছেলেটির বাবা জব জনকে নিয়ে পুলিশের কাছে ছেলে হারানোর বিষয়ে অভিযোগপত্র দিয়ে আসেন। 

তদন্ত শুরু করতেই পুলিশের কাছে অনেকগুলো বিষয় এলোমেলো লাগছিল। মায়ের হাতে কীভাবে পুড়ল, কেনই বা ছেলের স্যান্ডেল বাড়ির পেছনে পড়েছিল- ইত্যাদি প্রশ্নের সদুত্তর মিলছিল না। 

দম্পতির দ্বিতল বাড়ি থেকে ২০০ মিটার দূরে নবম শ্রেণিতে পড়া এক ছেলের দেহাবশেষ খুঁজে পায় পুলিশ। কয়েক দফা তদন্তের পর মা স্বীকার করেন যে তিনিই খুনি। বলেন এক রোমহর্ষক ঘটনা। 

আরো পড়ুন: আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর অভিযানে নিহত ৮

ছেলের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছিল তার। এক পর্যায়ে রান্নাঘরে নিজের ওড়না পেঁচিয়ে ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহ বাড়ির পেছনে নিয়ে যান। সেখানে শুকনো পাতা ও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে দেহটি পুড়িয়ে দেন। পরে দেহাবশেষ আরেকটু দূরে গিয়ে ফেলে আসেন। এমনই কোনো হরর মুভির গল্পের মতো বয়ান দেন কোল্লাম পুলিশ কমিশনার এ শ্রীনিবাস। 

এলাকাবাসী ঘটনাটি জানান পর স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। সন্তানের প্রতি মায়ের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন অনেকে। পুলিশ যখন জয়াকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন অনেকেই তাকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকেন।  
জয়া জানিয়েছেন, কথা কাটাকাটিতে তিনি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান। তার কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজের দাদার বাড়ি থেকে ফিরেছেন। এ ঘটনার সময় তার স্বামী জন বাড়ি ছিলেন না। তিনি ছেলের বাবাকে বলেন, জিথু দোকানে কিছু জিনিস কিনতে যাওয়ার পর আর ফেরেনি। 
সূত্র : এনডিটিভি 


মন্তব্য