kalerkantho


জীবনের দাম প্রতিদিন দুশো!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:৫৭



জীবনের দাম প্রতিদিন দুশো!

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিল্লির একটি প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৯ উত্তর দিল্লির বাওয়ানা শিল্পাঞ্চলে ওই কারখানার আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ শুরু করে। কিন্তু তার আগেই ১৯টি প্রাণহানী ঘটে। সেখানে ভীড় করে আছেন হাজার হাজার মানুষ। কারো পরিবারের সদস্যকে খুঁজে পাচ্ছেন না। কেউ জেনেছেন তাদের প্রিয় মানুষটি চলে গেছে। তার একইসঙ্গে ক্ষুব্ধ, দিশেহারা ও যন্ত্রণাকাতর দেহ-মন নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন। 

আরো পড়ুন: মিসরে আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট সিসি

আসলে সেখানে আতশবাজি বানানো হতো। কিন্তু মালিকের প্লাস্টিক কারখানা পরিচালনার লাইসেন্স ছিল। সেখানে দাহ্য ও বিস্ফোরক উপাদানে বানানো হতো আতশবাজি।  

বাওয়ানার বাল্মিকী হাসপাতালের সামনে অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ। ৪০ বছর বয়সী সুনিতা ঘটনাক্রমে বেঁচে গেছেন দুর্ঘটনা থেকে। মাত্র দুই দিন আগে কারখানায় কাজ শুরু করেছেন। মাসে বেতন ছিল ৬ হাজার রুপি। অর্থাৎ দিনে তার মজুরি ছিল ২০০ রুপি। বললেন, আমি গান পাউডার ঢালতাম প্যাকেট করতাম। কেউ একজন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার পর বললেন, আমাদের দৌড়ানো উচিত। সবাই দৌড়ে ছাদের দিকে উঠে গেলেন। সবাই বলছিলেন, লাফ দেওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। আমিও লাফ দিলাম, জ্ঞান হারালাম। যখন জ্ঞান ফিরল, দেখলাম আমার একটা পা ভেঙে গেছে। 

মাহিপাল হোটেলে লক্ষ্যহীনভাবে স্ত্রীকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন এক ব্যক্তি। বললেন, এ ঘটনার মাত্র ১০ মিনিট আগে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। দিন ছয়েক আগে ওখানে চাকরি শুরু করে সে। কিছু অর্থ উপার্জনের জন্যেই কাজ নেয় সে। 

এক বাবা তার মেয়ের ছবি মোবাইলে সবাইকে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদি তাকে খুঁজে পান। কিন্তু কেউ বলতে পারছে না। জরুরি বিভাগ থেকে সবাইকে বের করে দিচ্ছে পুলিশ। 

বাবুরাম খুঁজছেন তার ২৫ বছর বয়সী বোনকে। পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল সে। প্রথম মা হতে চলেছে। এটাই প্রথম চাকরি। সামান্য মাইনেতে চাকরি নিয়ে আজ জীবনটাই হয়তো চলে গেলো। তিনিও ফায়ারক্র্যাকারের ভেতরে গানপাউডার পুরতেন। 

আরো পড়ুন: ‘সৌদি ও আমিরাতের যুবরাজ লুট করতে চান কাতারের সম্পদ’

হাজারো মানুষ সেখানে খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাদের ভাই-বোন-মা-বাবা কিংবা স্বজনকে। কেউ পাচ্ছেন জীবিত অবস্থায়, কেউ পাচ্ছেন লাশ। সামান্য বেতনে চাকরি করতে এসে এরাই সবাই জীবনটাকে খোয়াতে বসেছেন। এমনিতেই এ ধরনের কাজে জীবনের ঝুঁকি থাকে। যেকোনো দুর্ঘটনায় প্রাণ বাঁচানো প্রায় অসম্ভব। অথচ সেখানে জীবনের দাম মাত্র ২০০ ধরিয়ে দেওয়া হয়। 
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 


মন্তব্য