kalerkantho


আরো কয়েকটি স্থাপনা নিয়ে হিন্দু মহাসভার হাস্যকর দাবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৫৯



আরো কয়েকটি স্থাপনা নিয়ে হিন্দু মহাসভার হাস্যকর দাবি

ভারতীয়-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন কুতুব মিনার

ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনারের নাম কুতুব মিনার। ভারতের প্রথম মুসলমান শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে। ভারতীয়-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন বলে কুতুব মিনার বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে সম্প্রতি এ ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ‘বিষ্ণু-স্তম্ভ’ বলে দাবি করেছে একটি সাম্প্রদায়িক দল।

মোগল আমলের এই বিখ্যাত নিদর্শন আসলে বিষ্ণু-স্তম্ভ বলে দাবি করেছে হিন্দু মহাসভার আলিগড় ইউনিট। তাদের প্রকাশিত হিন্দু নববর্ষ ক্যালেন্ডারে কুতুব মিনারের ছবির পাশে বিষ্ণু-স্তম্ভ লিখে দিয়েছে তারা।

তবে শুধু কুতুব মিনার নয়, মোগল আমলের সাতটি মসজিদ ও স্মৃতিস্তম্ভকে হিন্দু মন্দির বলে দাবি করা হয়েছে এই ক্যালেন্ডারে। যে তালিকায় রয়েছে তাজমহলও।

প্রকাশিত ক্যালেন্ডারে তাজ মহলের নামের পাশে ‘তেজো মহালয়া মন্দির’ লিখেছে তারা। মধ্যপ্রদেশের কমল মৌলা মসজিদ আসলে ‘ভোজশালা’ বলে দাবি করা হয়েছে। কাশির জ্ঞানব্যাপী মসজিদের ছবির পাশে লেখা ‘বিশ্বনাথ মন্দির’, জৌনপুরের আটালা মসজিদের ছবির পাশে লেখা ‘অটলা দেবী মন্দির’ এবং অযোধ্যায় করসেবকদের হাতে ধ্বংস হওয়া বাবরি মসজিদের ছবির পাশে লেখা রয়েছে ‘রাম জন্মভূমি’।

এ বিষয়ে হিন্দু মহাসভার ন্যাশনাল সেক্রেটারি পুজা শাকুন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'এই পবিত্র হিন্দু ক্যালেন্ডার প্রকাশ উপলক্ষ্যে আমরা যাগ-যজ্ঞের আয়োজন করি এবং এই দেশকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার শপথ নিই।'

তিনি বলেন, 'বিদেশি আক্রমণকারীরা হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানগুলি ধ্বংস করে মসজিদে পরিণত করে। এখন সেগুলো আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। যেমন এই ক্যালেন্ডারে বলা হয়েছে, সেকরমই এই মন্দিরগুলোর আসল নাম আমরা ফিরিয়ে দেব।'

তবে তাদের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভারতীয় মুসলমানরা। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার ইমাম-ই-ঈদগাহ মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গি মাহালি বলেন, 'এরা অকারণে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট করছে। এদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'

সূত্র : এই সময়



মন্তব্য