kalerkantho


অং সান সুচি : 'ভদ্র মহিলা' সম্পর্কে আমরা যা জানি ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৮ ২০:৩০



অং সান সুচি : 'ভদ্র মহিলা' সম্পর্কে আমরা যা জানি ...

অং সান সুচিকে বাংলাদেশের মানুষ মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা হিসেবেই চেনে। এর বাইরে জানা রয়েছে, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সুচি। যে সুচিকে ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে, সেই তাকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিন্দা করছে সবাই।

কিন্তু কে এই সুচি? মাত্র কয়েক বছর আগেও তিনি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। বর্তমানে ঠিক কী কারণে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা দরকার।

১৯৪৫ সালে ইয়াঙ্গুনে জন্ম নেন অং সান সুচি। তার বাবা মিয়ানমারের মুক্তি আন্দোলনের নেতা অং সান। ছোটোবেলা থেকেই বিভিন্ন ভাষা অনায়াসে শিখে নিতে পারেন সুচি।

মায়ের চাকরির সুবাদে ভারতে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বার্মিজ ছাড়াও ইংরেজি, ফ্রেন্স এবং জাপানি ভাষা জানেন তিনি।

ভারতেই মাধ্যমিক পাস করেন সুচি। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সেখানে দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতির ওপর পড়াশোনা করেন।

১৯৮৮ সালে মিয়ানমারে ফিরে এসে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে থাকেন। সেখানকার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৯০ সাল থেকেই তিনি গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। গৃহবন্দি অবস্থায় তিনি নোবেল পুরস্কারে মনোনীত হন। পরে ২০১০ সালে ছাড়া পান। ২০১১ সালে তাকে ঘিরে নির্মাণ হয় চলচ্চিত্র দ্য লেডি। সেখানে উঠে এসেছে সুচির ব্রিটিশ স্বামী মাইকেল আরিসের কথা। সুচির গৃহবন্দি পরিস্থিতি ও স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছদের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে ওই চলচ্চিত্রে।

বর্তমানে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো লিডার তিনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। তবে সুচি ডি ফ্যাক্টো নেতা হলেও মূল ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে। তার পরেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিশ্চুপ সুচির প্রতি ঝাল ঝাড়ছে আন্তর্জাতিক মহল। সবার একটাই বক্তব্য, এ ধরনের অাচরণ শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কারো সঙ্গে মানায় না।


মন্তব্য