kalerkantho


জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধন সম্পন্ন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ মে, ২০১৮ ২১:৫৪



জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধন সম্পন্ন

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায়  জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের উদ্বোধন করেছেন হোয়াইট হাউসের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প। বিশ্ব জনমতকে উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয় ফিলিস্তিনিদের রক্তস্রোত উপেক্ষা করে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এরইমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫ জন। আহতদের সংখ্যা পৌঁছে গেছে দুই হাজারের কাছাকাছি।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা।

এ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হলে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। বিশ্বজুড়ে নিন্দা আর তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে দূতাবাস স্থানান্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইভাঙ্কা ও জ্যারেড কুশনার ছাড়াও ছিলেন  মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন নুচিন ও উপপররাষ্ট্র মন্ত্রী জন সালভিয়ান।

এমন সময় এই দূতাবাস স্থানান্তরিত হলো যখন ভূমি দিবসের কর্মসূচি পালন করছে ফিলিস্তিনিরা। ৬ সপ্তাহের চলমান কর্মসূচিতে এরইমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে শতাধিক ফিলিস্তিনি। দূতাবাস স্থানান্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিনে তাদের মধ্যে আরও বেশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আগামী কাল ১৫ মে তাদের এই কর্মসূচির শেষ দিন। ১৯৪৮ সালের  লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের ভূমি হারিয়েছিল। সেই ঘটনার স্মরণেই ভূমি দিবসের এই কর্মসূচি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। এই বিক্ষোভে প্রায় লাখ খানেক ফিলিস্তিনি অংশ নেন।

গত সাত সপ্তাহের বিক্ষোভের চেয়ে এই দিনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদ জানাতে এই বিক্ষোভে অংশ নিতে ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা। গাজা উপত্যকা ছাড়াও এদিন প্রতিবাদী বিক্ষোভ হয়েছে পশ্চিম তীরের রামাল্লা ও হেবরন শহরে।

উদ্বোধনকেন্দ্রে যখন উৎসবের আমেজ, বাইরে তখন রক্তগঙ্গা বইছে। প্রতিবাদী বিক্ষোভে প্রাণ হারাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। এমন বাস্তবতায় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, গত বছর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ থাকার কয়েক দশক ধরে অনুসৃত নীতি থেকে সরে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।

ফ্রান্স, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ অনেক মিত্র দেশের আহ্বান উপেক্ষা করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন। ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েলিদের দখলে যাওয়া পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনি নেতারা।

কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে জেরুজালেমের বিষয়টি। পবিত্র ওই নগরীর ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। ১৯৯৩ সালের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন চুক্তি অনুযায়ী জেরুজালেমের পরিচয় কী হবে তা শান্তি আলোচনায় ঠিক হওয়ার কথা।


মন্তব্য