kalerkantho


অবরোধের সুপারিশ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কমিটির

'মিয়ানমারের সঙ্গে আর স্বাভাবিক সম্পর্ক চলতে পারে না'

কূটনৈতিক প্রতিবেদক    

২৩ মে, ২০১৮ ১২:২৯



'মিয়ানমারের সঙ্গে আর স্বাভাবিক সম্পর্ক চলতে পারে না'

মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আর স্বাভাবিক সম্পর্ক চলতে পারে না বলে মত দিয়েছে সে দেশের পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ও নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে এই মত দেওয়া হয়। এ ছাড়া কমিটি যুক্তরাজ্যকে মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেওয়ার এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সুপারিশ করেছে।

এদিকে কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হলেও রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ সৃষ্টি করার এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞ এবং অন্য নৃগোষ্ঠীগুলোর ওপর অব্যাহত আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য বার্মার (মিয়ানরমার) সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আর স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে না।’

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটির সংসদ সদস্যরা বলেছেন, মিয়ানমারের যে কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর বিরূপ প্রভাব চাপিয়ে দিয়েছে তার প্রতি যুক্তরাজ্যের ভাষা ও কর্মকাণ্ড বদলানো উচিত।

কমিটি বলেছে, এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিণতি ভোগ করতে হয়—এটি মিয়ানমার সরকারকে অনুধাবন ও স্বীকার করতে বাধ্য করা উচিত।

কমিটির সভাপতি স্টিফেন টুইগ বলেন, ‘বার্মাকে (মিয়ানমার) অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে যে বার্মিজ সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং বার্মিজ সরকার ও সমাজের নিষ্ক্রিয়তার একটি মূল্য আছে। বার্মা পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের সঙ্গে মিল রেখে যুক্তরাজ্যের নীতিও নাটকীয়ভাবে বদলাতে হবে।’

মিয়ানমারে যুক্তরাজ্যের ত্রাণ ও উন্নয়ন কর্মসূচি নতুন করে সাজানোর তাগিদ দিয়ে স্টিফেন টুইগ বলেন, ‘নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি মুক্তি পাওয়ার পর এবং সরকার গঠনের পর আশাবাদী হয়ে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক দপ্তর (ডিএফআইডি) ওই দেশটিতে কর্মসূচি সাজিয়েছিল। এখন ব্রিটিশ সরকারকে স্বীকার করতে হবে যে সু চি নিজেই সমস্যার একটি অংশ হয়ে উঠছেন।’

স্টিফেন টুইগ আরো বলেন, ব্রিটিশ করদাতাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে তাদের টাকা মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সরকারকে দেওয়া হবে না। অগ্রগতি না হলে কমিটি মিয়ানমারে যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থ ঢালা স্থগিত করার সুপারিশ করছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানিয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিটি এর প্রশংসা করছে।

তবে বাংলাদেশের কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিতর্কের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ এবং গণমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলোর ওপর বিধিনিষেধ ও হুমকি বন্ধ হওয়া উচিত। এ ছাড়া নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা, বাল্যবিয়ে, পড়ালেখা ও কাজের সুযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নারী ও কন্যাশিশুদের অসমতার বিষয়টিরও দ্রুত সুরাহা করার তাগিদ দিয়েছে ওই কমিটি।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী মাসে মিয়ানমার সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার। গত সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সব দেশের সহযোগিতায় তিনি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন বিশেষ দূত।


মন্তব্য