kalerkantho


আঘাতকারীকে ধরতে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়েছেন তিনি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৮ ২১:০৬



আঘাতকারীকে ধরতে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়েছেন তিনি!

রক্তে ভেসে যাচ্ছে সারা শরীর। সেই অবস্থাতেই আততায়ীকে ধরতে ছুটছেন এক ব্যক্তি। ভারতের ভক্তিনগর থানার অদূরে এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার শুরু করে দেন পথচলতি সাধারণ বাসিন্দারা। প্রায় ২৫ মিটার দৌড়েও আততায়ীকে ধরতে না পেরে পড়ে যান ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দুপুরে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গাড়ি কেনাবেচা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। শিলিগুড়ি কমিশনারেটের ডিসিপি গৌরব লাল বলেন, বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।

শিলিগুড়ির গণেশ ঘোষ পাড়ার বাসিন্দা প্রদীপ ঘোষের ভক্তিনগর থানার রামচন্দ্রনগরে একটি গ্যারেজ রয়েছে। পাশাপাশি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসাও করেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে খেতে যাওয়ার সময় গ্যারেজের পাশেই থাকা অফিস ঘর বন্ধ করতে যান তিনি। তখনই অফিসের ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়।

প্রদীপের গলার বাঁ দিকে, হাতে এবং কোমরের পেছনে আঘাত লাগে। ওই অবস্থাতেই তিনি দুষ্কৃতিকারীকে ধরার  জন্য তাড়া করেন। কিন্তু কিছু দূর গিয়েই তিনি পড়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবিত্রী ছেত্রী বলেন, বাইরে কাজ করছিলাম। তখনই দেখি একজন রক্ত মাখা ছুরি নিয়ে দৌড়াচ্ছে আর তাকে ধরতে পেছনে ছুটছেন প্রদীপদা। এরপর আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এলাকার লোকজন মিলে তাকে কাছেই একটি নার্সিং হোমে ভর্তি করে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই গ্যারেজের কর্মী ইসলাম আনসারি। তিনি বলেন, দাদা এ সময় প্রতিদিনই খেতে যান।  কাল ওই লোকটা অফিসের ভেতরেই বসেছিল। আমি গ্যারেজে কাজ করছিলাম। দাদা অফিস বন্ধ করার তোড়জোড় করছিল, তখনই হামলা করে।

ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, প্রদীপ ছাড়াও এক ব্যক্তি ওই দুষ্কৃতিকারীকে ধরার চেষ্টা করছিলেন, তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দেয় ওই দুষ্কৃতিকারী। এরপর দৌড়ে পালিয়ে যায় সে। তার পরনে ছিল কালো টি শার্ট ও জিনসের প্যান্ট।

ঘটনার আকস্মিতায় হতবাক প্রদীপের ভাই প্রশান্ত ঘোষ। তিনি বলেন, দাদার সাথে কারো কোনো বিরোধ রয়েছে এমনটা কোনোদিন শুনিনি। কেন এমন হল বুঝতে পারছি না। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন শিলিগুড়ি মার্চেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জয় টিবরেওয়াল। তিনি বলেন, ভীষণ দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। পুলিশকে দ্রুত তদন্ত করে আততায়ীকে আটক করার জন্য দাবি জানিয়েছি।


মন্তব্য