kalerkantho


পাকিস্তানি তালেবানের প্রধান নিহতের পর তার ডান হাত আটক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুন, ২০১৮ ২০:৪০



পাকিস্তানি তালেবানের প্রধান নিহতের পর তার ডান হাত আটক

পুলিশের জালে এবার তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সম্প্রতি নিহত প্রধানের ডান হাত বাহাদুর জান। গা ঢাকা দিতে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন এয়ারলাইনের বিমানে করে দুবাই যাচ্ছিল বাহাদুর। গোপনে খবর পেয়ে বাহাদুরকে গ্রেপ্তার করল পাকিস্তানের এফআইএ তদন্তকারী সংস্থা। পেশোয়ার বাচা খান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জঙ্গি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

ফজলউল্লার পর টিটিপির সবচেয়ে বড় নেতা বাহাদুর। টিটিপি প্রধানের মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পেয়েই গা ঢাকা দিচ্ছিল বাহাদুর। টিটিপি-র প্রত্যেকটি বড় জঙ্গি হামলায় ফজলউল্লার সঙ্গেই থেকেছে বাহাদুর। পাকিস্তানেও নাশকতার ছকে সামিল ছিল এই জঙ্গি।

ফজলউল্লাহর পর বাহাদুরই টিটিপির শীর্ষে চলে যায়। পেশোয়ার স্কুলে টিটিপির নৃশংস হামলার মাস্টারমাইন্ড ফজলউল্লাহর পাশাপাশি বাহাদুর জানও। আফগানিস্তানেও গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। পেশোয়ার বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় ধরা পড়ে যায় বাহাদুর জান।

কয়েকদিন আগেই ফজলউল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। মার্কিন ড্রোন হামলায় ফজলউল্লাহ নিহত বলে জানায় ওয়াশিংটন ডিসি। ঘটনার পর পাকিস্তানেও অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে টিটিপি। দেশের বাইরে থেকেই তাই জঙ্গি সংগঠন পরিচালনা করতে দুবাই উড়ছিল বাহাদুর জান।

সূত্রের খবর, পাকিস্তানে ক্রমশই দুর্বল হচ্ছে টিটিপি। হাফিজ সাঈদের জমাত-উদ-দাওয়ার দাপটে টিটিপির ক্ষমতা ক্ষীণ হচ্ছে। জামাত উদ দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদের সঙ্গেও টিটিপির যোগাযোগ কম। পাকিস্তান সরকারের পরোক্ষ সমর্থন জামাত উদ দাওয়া বরাবরই পেয়েছে। তাই ফজলউল্লাহর পর টিটিপি-কে টেকাতে বাহাদুর জান দেশছাড়া হতে চায়।

আপাতত কাউন্টার টেররিসম ডিপার্টমেন্ট বা CTD-র হাতে বাহাদুর জান। খাইবার-পাকতুখাওয়ায় প্রদেশে চলবে বাহাাদুরের বিচারপ্রক্রিয়া।

এতকিছুর পরেও তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গি সংগঠনের ফতোয়া জারি এখনও চলছে। নিজেদের শক্তিশালী প্রমাণ করতে পাকিস্তানের ভেতরও নাশকতার ছক কষতে পারে টিটিপি। এমনই মনে করছে পাকিস্তান সরকার। তবে, জাতিসংঘের কথা না মেনেই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে পাকিস্তান সরকার।

মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই দেশের ভেতরেই মাথা চাড়া দিচ্ছে টিটিপি-র মত জঙ্গি সংগঠনগুলি। জামাত উদ দাওয়ার সংগঠনের বিভিন্ন জঙ্গি পাকিস্তান সরকারের নিরাপত্তায় নিশ্চিন্তে জঙ্গি কার্যকলাপ করে চালাচ্ছে। হাফিজ সাঈদ, লকভির মত জঙ্গি নেতা যারা মুম্বাই হামলার মূল চক্রী, তারা পাকিস্তানে নিরাপদে আছে। এই জঙ্গি নেতাদের প্রকাশ্যে জনসভাও করতে দেখা যায়। তাই, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের জঙ্গি গ্রেপ্তারের পেছনে অন্য ছক আছে কি না, সেই নিয়ে সন্দেহ থাকবেই।



মন্তব্য