kalerkantho


ট্রাম্পের ‘নিষ্ঠুর নীতিতে হৃদয় ভেঙেছে’ তার স্ত্রী ও লরা বুশের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ জুন, ২০১৮ ২১:৪৯



ট্রাম্পের ‘নিষ্ঠুর নীতিতে হৃদয় ভেঙেছে’ তার স্ত্রী ও লরা বুশের

মার্কিন প্রশাসনের একটি বিতর্কিত অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক ও বর্তমান দুই ফার্স্ট লেডি। বিতর্কিত ওই নীতি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করেছে এরকম পরিবারগুলো থেকে বাবা-মা ও শিশুদের আলাদা করে দেয়া হচ্ছে। এই নীতির সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের স্ত্রী লরা বুশ।

খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের কট্টর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে টুইটারে সোচ্চার হয়েছেন মেলানিয়া। এটা বেশ বিরল ঘটনা। সচরাচর মেলানিয়াকে এমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। তিনি টুইটারে লিখেছেন, শিশুদের আলাদা করে দেয়া আমি ঘৃণা করি।

গত ৬ সপ্তাহে আমেরিকার ‘জিরো টলারেন্স অভিবাসন নীতি’-র কারণে দু’হাজারেরও বেশি নাবালক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাদের পিতা-মাতার কাছ থেকে। তাতে উদ্বিগ্ন মেলানিয়া ট্রাম্প।

রবিবার মেলানিয়ার মুখপাত্র স্টিফানি গ্রিজহ্যাম একটি বিবৃতিতে বলেন, নাবালকরা তাদের পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এটি মেলানিয়ার একেবারে পছন্দ নয়। তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিবাসন প্রক্রিয়ার সফল সংস্কার চান।

মেলানিয়ার মুখপাত্র আরো বলছেন, ট্রাম্প-পত্নী পরিবার-বিচ্ছিন্ন শিশুদের বেশ কয়েকটি ছবি দেখেছেন। সীমান্তে আশ্রয় প্রার্থী অভিবাসীদের থেকে সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাটি ওর কাছে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তবে অভিবাসন নীতি নিয়ে দু’পক্ষই যাতে আলোচনায় বসেন, এই নীতি সংস্কার নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেন এমনটাও চান মেলানিয়া।

এদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশও এই ‘অনৈতিক’ অভিবাসন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে এই নীতিকে, ‘নির্মম, অনৈতিক ও হৃদয়-বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, রুপান্তরিত বাক্স স্টোরে  শিশুদের গুদামজাত করা বা তাদের মরুভূমির মধ্যে তাঁবুর শহর বানানোর ব্যবসায় থাকা উচিত নয় আমাদের সরকারের।

পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেশকিছু ছবি অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে। ওইসব ছবির দিকে ইঙ্গিত করে লরা বুশ বলেন, এই ছবিগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জাপানিজ-আমেরিকান বন্দীশালার কথা মনে করিয়ে দেয়। আর আজকের যুগে ওই বন্দিশালার ঘটনাগুলোকে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাকর অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লরা বুশ ও ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া

পূর্ববর্তী অভিবাসন নীতি অনুযায়ী মেক্সিকো থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় প্রথম বার প্রবেশ করলে যারা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরই আটক করা হত।

পরিবর্তিত অভিবাসন নীতিতে যারাই অবৈধভাবে মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে, তাদের প্রত্যেককেই আটক করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে প্রায় দুই হাজারের বেশি শিশু পরিবারের থেকে আলাদা হয়ে পড়েছে।

হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে অভিবাসী নাবালকরা। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে যদিও এই শিশুদের বয়স নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ওদিকে, অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিরুদ্ধে নিউ জার্সি ও টেক্সাসে বিক্ষোভ হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের আটককেন্দ্রের সামনে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতার নেতৃত্বে রবিবার (১৭ জুন) এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে  যোগ দেয় হাজার হাজার মানুষ। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় তারা।

শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কতিপয় সংস্কারপন্থী রিপাবলিকানও ট্রাম্পের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র বিরোধী। অভিবাসন প্রত্যাশীদের সন্তানদের তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন না করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শনিবার এ নীতি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে হোয়াইট হাউসকে চিঠি লিখেছেন সিনেটর সুসান কলিনস ও জেফ ফ্লেক।

রবিবার সিবিএস-এর ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে কলিন্স বলেন, ‘এসব শিশুকে তাদের মা-বাবা থেকে আলাদা করাটা আমাদের আমেরিকান মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।



মন্তব্য