kalerkantho

মিরসরাই মিঠাছড়া বাজার

শত বছরের ঐতিহ্য

এনায়েত হোসেন মিঠু, মিরসরাই   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



শত বছরের ঐতিহ্য

... মসজিদে মুয়াজ্জিনের ফজরের আজানের আগেই শুরু হয়ে যায় বাজারে বিকিকিনি। রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ শুরু হয় শীতল পাটি বেচাকেনা।

ভোরের আলো ফুটতেই জমে ওঠে ধানবাজার। সকাল ৬টা নাগাদ পটিয়ার বিভিন্ন বরজ থেকে পান নিয়ে হাজির হন চাষি। এরপর জমতে শুরু করে মুরগি, ডাল-চাল, ফল-মূল, মাছ-শুটকি আর কাঁচাবাজার। প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে বসে উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় গরু-ছাগলের বাজারও ...

 

মিরসরাইয়ের উল্লেখযোগ্য হাটবাজারের একটি মিঠাছড়া বাজার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ বাজার শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য আর ঐতিহ্যের দিক দিয়ে সেরা অবস্থানে রয়েছে। এ বাজার থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় করে সরকার। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় গরু-ছাগল ও শীতল পাটির বাজার বসে এখানে। সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার দুদিন বাজার মেলে এখানে। বাকি দিনগুলোতেও জমজমাট বিকিকিনি চলে স্বর্ণ ও কাপড় দোকানে।

মসজিদে মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি শোনার আগেই শুরু হয়ে যায় বাজারের বিকিকিনি। রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ শুরু হয় শীতল পাটি বেচাকেনা।

ভোরের আলো ফুটতেই জমে ওঠে পানবাজার। সকাল ৬টা নাগাদ পটিয়ার বিভিন্ন বরজ থেকে পান নিয়ে হাজির হন চাষিরা। এরপর জমতে শুরু করে মুরগি, ডাল-চাল, ফল-মূল, মাছ-শুঁটকি আর কাঁচা বাজার। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে বসে উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বৃহৎ গরু-ছাগলের বাজার।

শীতল পাটিবাজার

সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে বাজারে পাটি বেচাকেনা শুরু হয়। সর্বোচ্চ দুই ঘন্টা চলে বেচাকেনা। বাজার ইজারাদারের তথ্যমতে, প্রতি সপ্তাহে এ পাটিবাজারে লেনদেন হয় প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। সরকার প্রতিবছর এখানকার পাটি বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করে ৪ লক্ষ টাকা। সিলেট, দিনাজপুর, নরসিংদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, টেকনাফ ও রামগড় থেকে প্রায় ১৫ জন এবং মিরসরাইয়ের স্থানীয় ৫০ জন ব্যবসায়ী প্রতিবাজারে ৩-৪ লক্ষ টাকার শীতল পাটি সংগ্রহ করেন। মিঠাছড়া বাজারে অনেকে ৫০ বছর ধরে পাটির ব্যবসা করছেন। অনেকে বংশপরম্পরা এসেছেন এ ব্যবসায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পাটিব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘মিরসরাইয়ের শীতল পাটির চাহিদা অন্য এলাকা থেকে একটু বেশি। কারণ এখানকার পাটির আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণশৈলী অনেক টেকসই। ’

পানবাজার

যোগাযোগ সুবিধা আর উচিত মূল্যের আশায় চট্টগ্রামের পটিয়ার বরজ মালিকেরা নিজেদের বরজের পান বিক্রি করতে ছুটে আসেন এ বাজারে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা চলে পানের পাইকারি বেচাকেনা। বাজার ইজারাদারের তথ্যমতে এখানে প্রতি বাজারে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে বেপারিরা এখানে আসেন পান সংগ্রহ করতে।

পটিয়া উপজেলার পান বরজের মালিক আব্দুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এতদূর থেকে মিঠাছড়া বাজারে উচিত মূল্যের আশায় আমরা মিঠাছড়া আসি। প্রায় দশ বছর ধরে এখানে বরজের পান বিক্রি করছি। ’

ধানবাজার

উপজেলার সবচেয়ে বড় ধানবাজার হিসেবে মিঠাছড়া বাজারের বেশ সুখ্যাতি আছে। এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ধানের বড় বাজার বসে। সপ্তাহে প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকেরা আসে নিজেদের ক্ষেতে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে। সকাল ৬টার নাগাদ শুরু হয়ে বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাতাল মালিকেরা এ বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করেন। বাজার ইজারাদারের তথ্যমতে, এখানে প্রতি বাজারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। ইরি ও বোরো মৌসুমে লেনদেনের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়।

গরুবাজার

বাজার উত্তর-পূর্ব অংশে প্রায় সাড়ে ৩ একর জায়গায় বসে গরুর বাজার। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে গরু-ছাগল বেচাকেনা। দেশের কুমিল্লা, ফেনী, সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এ বাজারে গরু ছাগল সংগ্রহ করতে আসেন। দিনভর কেনা শেষে রাত ১০টার মধ্যে ট্রাক-পিকআপ ভর্তি গরু-ছাগল নিয়ে ফিরে যান।

বাজার ইজারাদার সিন্ডিকেটের সদস্য এম সাইফুল্লাহ দিদার কালের কণ্ঠকে জানান, মূলত গরু-ছাগলের বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর মিঠাছড়া বাজার ইজারা দেয় সরকার। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস প্রতিবছর মাঘ মাসে ইজারা দরপত্র আহ্বান করে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইজারায় অংশ নেন।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর ভ্যাটসহ ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা মূল্যে আমরা বাজারের ইজারা পেয়েছি। আমাদের ইজারা মেয়াদকাল ধরা হয়েছে আগামী বৈশাখ পর্যন্ত। ’


মন্তব্য