kalerkantho

নজরকাড়া সবজিক্ষেত

উজ্জ্বল বিশ্বাস, বাঁশখালী   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নজরকাড়া সবজিক্ষেত

বাঁশখালীর লট চন্দ্রপুর গ্রাম। সেই গ্রামের পাঁচ একর জমি।

শুধু সবুজ আর সবুজ। গাছে ঝুলে আছে লাউ, বেগুন, পেঁপে, শিম ও ঢেঁড়স। এছাড়া মুলাসহ আর কত কী! মাটির নিচের সবজি গাছ থরে থরে সাজানো।

অন্তত ২০ নারী-পুরুষ শ্রমিক ক্ষেতে নিয়মিত কাজ করছেন। পুরো ক্ষেতের জমি ও উৎপাদিত ফসলের মনোরম দৃশ্য দেখলে মনে হবে কোনো একটা অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো হয়েছে বিশাল মাঠ। সাজানো গোছানো সবজি বাগান যে কারো মন আকৃষ্ট করে সহজেই। কিছুতেই মন চায় না সবজি ক্ষেত ছেড়ে যেতে। কারু শিল্পের মতো সাজানো এই পরিচর্যাময় বাগান দেখে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাও সন্তুষ্ট হয়ে ওই জমির পাঁচ গণ্ডা জমিতে মাল্টা চাষ করিয়ে দিয়েছেন সরকারি অর্থায়নে। আগামী বছর ওই গাছগুলোতে মাল্টা ফলনও হবে বলে জানা গেছে।

সবজি ক্ষেতের ম্যানেজার শ্যামল কান্তি দে বলেন, ‘৫ একর জমিতে নানা জাতের সবজি ও ফসল ফলাতে গত কয়েক বছর ধরে কৃষি গবেষণামূলক রীতি মেনে চাষাবাদ চলছে।

প্রতিবছর এসব চাষাবাদে ৮ লাখ টাকার মতো ব্যয় হলেও সব কিছু বিক্রয় করে ২৫/২৬ লাখ টাকার মতো পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি দৈনিক ২০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করে।

এ সবজি ক্ষেতের মাধ্যমে ২০ জন মানুষের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ৫ একর জমির মধ্যে ২ একর জমিতে লাউ, ১ একর জমিতে বেগুন, অন্যান্য জমিতে পেঁপে, শিম, ঢেঁড়স, মুলাসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। ’

বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আসহাব উদ্দিন কৃষি খামারের মালিক মো. আসহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি বৈচিত্র্যময় সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে চাই। সবজি চাষাবাদ করার পর যখন ফলন দেয় তখন মনে বড় আনন্দ লাগে।

দৈনিক একবার কৃষিখামারে না আসলে আমার ঠিকমতো ঘুম হয় না। শ্রমিকদের পাশাপাশি আমিও ক্ষেতে কাজ করি। আমি সরকারের তালিকাভুক্ত একজন কৃষক। আমার কৃষি কার্ড আছে। এখান থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফসল রীতিমতো চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারস্থ মোহাম্মদিয়া আড়তে বিক্রয় হয়ে থাকে। ’

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের মোহাম্মদিয়া আড়তের মালিক মোহাম্মদ উদ্দিন বলেন, ‘গ্রামীণ পরিবেশে এত বড় কৃষিখামার খুব কমই আছে। এই খামার থেকে একসাথে ট্রাকভর্তি ফসল নিতে পেরে আমার নিজেরও আনন্দ লাগে। কারণ এক জায়গা থেকে ট্রাকভর্তি ফসল খুব কমই পাওয়া যায়। ’

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিনের মতো কৃষি বিপ্লব ঘটানো ব্যক্তি দেশে খুব কমই আছে। তার কৃষিখামারটা দেশের জন্য একটা মডেল। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কৃষিক্ষেত্রে কোনো পরিদর্শনে আসলে আমরা সরাসরি তার খামারেই নিয়ে যাই। তার এই কৃতিত্বের জন্য আমরাও প্রশংসিত হই। আমরা এ বছর নিজেদের উদ্যোগে ৫ গণ্ডা জমিতে মাল্টা চাষও করে দিয়েছি। আগামী বছর এতে ফলন হবে। ’


মন্তব্য