kalerkantho

গরুর খামারে সাফল্য

আসাদুজ্জামান দারা, ফেনী   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গরুর খামারে সাফল্য

পরশুরামে দেশি জাতের গরুর বাণিজ্যিক খামার গড়ে সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল। তিনি হয়ে উঠেছেন একজন আদর্শ খামারি।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে পৌরসভার গুথুমা গ্রামে করলিয়া পুকুরপাড়ে নিজ মালিকানাধীন প্রায় পাঁচ একর জায়গার উপর শখের বসে গড়ে তোলেন দেশীয় গরুর বাণিজ্যিক খামার। এটি পরশুরাম উপজেলার প্রথম দেশি জাতের গরুর বাণিজ্যিক খামার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।  

খামারের দায়িত্বে থাকা মো. দুলাল জানান, রাত-দিন গরুগুলোকে পরিচর্যা করতে হয়।

প্রতিদিন ভূসি, ঘাস, খৈল ও খড় বাবদ প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেন।

নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল গরুর খামার করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন অর্ধশতাধিক মানুষের। ১৫ জন শ্রমিক মাসিক বেতনে ওই খামারে কাজ করেন। এছাড়া খড়, ঘাস ও গরুর খাদ্য সরবরাহের জন্য প্রায় ৩০ জন নিয়োজিত রয়েছেন।

খামারে কাজ করা রিয়াজ, এবাদুল, নুর ইসলাম, মানিকসহ কয়েকজন কর্মী বলেন, ‘এ খামারের মাধ্যমে আমাদের মতো অনেক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে গত দুই বছরে এ খামার থেকে প্রায় ২০০ গরু দেড় কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত বেশ কয়েক বছর ধরে শিং, কৈ, পাবদা, মাগুরসহ দেশীয় প্রজাতির মাছচাষ করে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎসচাষি হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ব্যক্তি উদ্যোগে বিশাল গরুর খামার স্থাপন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পৌর মেয়র। এ ধরনের খামারে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

পরশুরাম পৌরসভার মেয়র ও খামারের মালিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল বলেন, ‘সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এসব গরু পালন করা হচ্ছে। শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়,কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য খামার করেছি। এবার একটি ডেইরি ফার্ম করার পরিকল্পনা রয়েছে। ’

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘পৌর মেয়রের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের বাণিজ্যিক খামার জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ’


মন্তব্য