kalerkantho


আনোয়ার হোসেন পিন্টুর শর্টফিল্ম ‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আনোয়ার হোসেন পিন্টুর শর্টফিল্ম ‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’

‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’ ছবির একটি দৃশ্য।

আধুনিক মানুষের দ্রুততর ও জটিল জীবনের সাতকাহন তুলে ধরার জন্য স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। স্বল্প বাজেটে নিজের চলচ্চিত্র বাসনা পূরণের বিকল্প ধারাটি বেছে নিয়েছেন সত্যজিৎ গবেষক ও সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন পিন্টু।

এবারই এককভাবে শর্টফিল্ম নির্মাণে হাত দিয়েছেন তিনি। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তীর ১৪ লাইনের ‘উন্নতিশীল দেশগুলির সমস্যা’ নামের অনুগল্প অনুসরণে তৈরি করছেন শর্টফিল্ম ‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’।

১৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনির মসজিদ সংলগ্ন পাহাড়ি লোকেশনে চিত্রধারণ শুরু হয়। সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছবির মহরত উদ্বোধন করেন দৈনিক পূর্বকোণের নির্বাহী সম্পাদক ডা. ম রমিজ উদ্দিন চৌধুরী। শর্টফিল্ম নির্মাতা আবদুল্লাহ জাফর সমীরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সত্যজিত্চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি কবি স্বপন দত্ত, কবি-সাংবাদিক এজাজ ইউসুফী, থিয়েটার ’৭৩ এর সদস্য অনিল ব্যানার্জি অপু।

এর আগে আনোয়ার হোসেন পিন্টু বাংলাদেশে প্রথম ‘নতুন জীবন’ নামে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণে যৌথ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। চট্টগ্রাম রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির মুখপত্র ‘চলচ্চিত্র চিন্তা’, ‘ইন্টারকাট’, ‘লুক থ্রু’ ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেন। ‘চলচ্চিত্র প্রসঙ্গ’ (১৯৮৫) নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। পরবর্তীকালে তিনি সত্যজিৎ গবেষণায় নিয়োজিত হন।

সত্যজিত্চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালে প্রকাশিত তাঁর সম্পাদিত ‘সত্যজিতের রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থটি একটি মাইলফলক প্রকাশনা হিসেবে উভয় বাংলায় সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়।

‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’ শর্টফিল্মটি চলচ্চিত্রের ধ্রুপদী ধারাতেই নির্মিত হতে যাচ্ছে। শ্যুটিং-এর পুরোটা আউটডোরে সম্পন্ন হয়েছে। ময়লার ভাগাড়, জনবহুল এলাকা, হোটেল, বিপণী বিতান এবং ওয়ার সিমেট্রিতে একটানা শ্যুটিং হয়। বর্তমানে সম্পাদনা, শব্দ সংযোজন এবং আবহসঙ্গীতের কাজ চলছে।

স্বল্পদৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রে তৃতীয় বিশ্বের নিপীড়িত ও শ্রমজীবী মানুষের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। একজন মানুষ ময়লার ভাগাড় থেকে কুড়িয়ে পাওয়া দ্রব্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফুটপাতই তার ঘরবাড়ি। তার মানবেতর জীবনে ম্যাজিকের মতো ঘটনা ঘটে যায়, ভাগাড়ে একটি চোঙা খুঁজে পাওয়ার পর। এই চোঙার একপ্রান্ত দিয়ে কোনো বস্তু ঢোকালে অন্যদিক দিয়ে বের হয়ে আসে অকল্পনীয় সব সামগ্রী। এই ম্যাজিক্যাল চোঙার মধ্য দিয়েই তৃতীয় বিশ্বের সত্যিকার জীবন-যন্ত্রণার ছবি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন চলচ্চিত্রকার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে আজকের মায়ানমার-রোহিঙ্গা প্রসঙ্গসহ নিপীড়িত মানবের কথা বলবে এই চলচ্চিত্র।

চট্টগ্রাম সত্যজিত্চর্চা কেন্দ্রের প্রথম প্রয়াস ‘তৃতীয় বিশ্বের ম্যাজিক’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নান্দিকার থিয়েটার গ্রুপের দলপ্রধান ও অভিনেতা অলক ঘোষ। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন, মৃত্তিকা ঘোষ, শাহরিয়ার, রেজাউল করিম, সাব্বির, শামিম প্রমুখ। প্রধান সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন, আবদুল্লাহ জাফর সমীর। চিত্রগ্রহণে ছিলেন মোরশেদ হিমাদ্রী হিমু ও জাহাঙ্গীর চিশিত।

প্রসঙ্গত, ছবিটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আনোয়ার হোসেন পিন্টু।


মন্তব্য