kalerkantho


রবীন্দ্র সংগীত অনুরাধার ধ্যানজ্ঞান

অনুরাধা চৌধুরী অংকিতা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। চার বছর বয়স থেকে পরিবারের হাত ধরে সংগীত ভুবনে পা রাখেন। একটি প্রতিষ্ঠানেই ১৫ বছর ধরে সংগীত শিখেছেন এবং কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন : মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রবীন্দ্র সংগীত অনুরাধার ধ্যানজ্ঞান

অনুরাধা চৌধুরীর জন্ম চট্টগ্রামে। বাবা অজয় কৃষ্ণ চৌধুরী বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্বে আছেন।

মা সুকর্ণা খাস্তগীর পেশায় স্কুলশিক্ষক। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান অনুরাধা। পরিবারের বৌদির হাত ধরে সংগীত জীবন শুরু। নগরীর সাংস্কৃতিক জগতের প্রায় মঞ্চেই তাঁর সংগীত পরিবেশনার সুযোগ হয়। এভাবে নগরী থেকে দেশ, দেশ থেকে পার্শ্ববর্তী দেশের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ করে নেন।

অনুরাধা ২০১১ সালে চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন।

মাত্র চার বছর বয়স থেকে বৌদির হাত ধরে সংগীত জীবন শুরু। বর্তমানে ১৫ বছরের অধিক হল তাঁর গানচর্চা।

চট্টগ্রাম নগরীর ‘সংগীত ভবন’ থেকে শুরু করেন যাত্রা। জানালেন, এখনো সংগীত ভবনে শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি অনেক কিছু রপ্ত করছেন। সংগীতগুরু কাবেরী সেনগুপ্তার কাছ থেকে হাতেখড়ি তাঁর। আজ অবধি সংগীতের নানা আদ্যোপান্ত শিখছেন। তবে অনুরাধার রবীন্দ্র সংগীতটাই বেশি করা হয়।

‘সংগীত ভবনে’ দুজন ভারতীয় পণ্ডিতের কাছ থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতের ওপর তালিম নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। ভারতীয় পণ্ডিত কৌশিক ভট্টাচার্যের কাছ থেকে এক মাস ও পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের কাছ থেকে ১৫ দিন তালিম নিয়েছেন।

২০১১ সালে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজে পড়াকালীন সময়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্ত্রণে ‘বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কলকাতার মোহর কুঞ্জের গিরিশ মঞ্চে অনুষ্ঠান করেন। তারপর ২০১২ সালে সেখানে বিজয় দিবস উপলক্ষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

২০০৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা, ডিসি হিল, সিআরবি ও মুসলিম হলে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও বসন্তবরণসহ নানা অনুষ্ঠানে অংকিতার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া ঢাকার ছায়ানট, শিল্পকলা, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, বইমেলাসহ নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। একাধিকবার বাংলাদেশ বেতারে গান করেছেন। এখন গান থেকে কিছুটা দূরে আছেন এই শিল্পী। তবে কিছু দিনের মধ্যেই আবার আগের মতো সংগীত পরিবেশনায় মনোনিবেশ করবেন।

গান করার জন্য অনুরাধার মা, ঠাকুরমা এবং বাবা পাশে থেকেছেন সবসময়। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন গুরু কাবেরী সেনগুপ্তার কাছ থেকে। বাবা-মা ঠাকুরমা প্রতিনিয়ত সংগীত একাডেমিতে নিয়ে আসা-যাওয়া করেছেন। অংকিতার মা ও ঠাকুরমা দুজনেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ ছিলেন। একটা সময় তাঁরা ভালো গান এবং নৃত্য করতেন। বলা যায়, সাংস্কৃতিক পরিবারে তাঁর জন্ম ও বেড়ে উঠা। মা সুকর্ণা খাস্তগীর শিক্ষকতা করে সংসারে সময় দিয়ে বাকী সময়টা অংকিতার পড়ালেখা ও গানের অনুশীলনেই সময় দিয়েছেন। অবসর সময়ে কিভাবে কাটান জানতে চাইলে অনুরাধা বলেন, ‘উপন্যাস, সাহিত্য ও ছোটগল্পের দেশি-বিদেশি বই পড়ি এবং আড্ডা দিতে ভালোবাসি। ’

সংগীত নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে অনুরাধা চৌধুরী অংকিতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিজের আনন্দ ও ভালো লাগা থেকে গান করা হয়। তাছাড়া পরিবার চায় আমি সংগীতের মধ্যেই থাকি। যদি সুযোগ হয় শান্তিনিকেতন থেকে রবীন্দ্র সংগীতের ওপরে কোর্স করার ইচ্ছা আছে। ’


মন্তব্য