kalerkantho

তামাক ছেড়ে সবজিচাষ

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তামাক ছেড়ে সবজিচাষ

চারপাশে যতদূর চোখ যায় শুধুই তামাক আর তামাক। এর মাঝখানে সামান্য জমিতে চোখে পড়ে নানান জাতের সবজি। প্রায় এক একর জমিতে সবজি চাষ করেছেন যিনি তিনিও মূলত তামাকচাষি। তবে এ বছর তামাক কম্পানির সাথে সবজি চাষ নিয়ে ঝগড়ার কারণেই একটু বেশি করেই সবজি চাষ করেছেন বলে দাবি সেই চাষির। সবজি চাষ থেকে মুনাফাও পাচ্ছেন ভালো।

এক সময়ের সবজি চাষে খ্যাত দীঘিনালায় এখন আর সবজি চাষ তেমন চোখে পড়ে না। মাঈনী নদীর তীরবর্তী উর্বরা জমির পুরোটা এখন তামাকের দখলে। একসময় দীঘিনালা থেকে সবজি জেলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। আর এখন সমতল এলাকা থেকে সবজি না আসলে এখানে সবজি মেলে না। তবে হাতেগোনা হঠাৎ দুই/এক চাষির ব্যতিক্রমীভাবে কিছু সবজি চাষ চোখে পড়ে মাঝেমধ্যে। আর অনেক বছর পর সবজি চাষও সেরকম ব্যতিক্রম।

এটি খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মধ্যবেতছড়ি এলাকার মাঈনী নদীর তীরবর্তী জমিতে। আর সেই চাষি হলেন মধ্যবেতছড়ির নুরনবী ওরফে দুদু (৫৫)। দুদু জানান, তিনি অনেক বছর হলো তামাকচাষ করছেন। এবার তামাক চাষ করলেও সাথে কিছু জমিতে সবজি চাষ করার ইচ্ছা ছিল। সে কারণেই তামাকের বীজতলার সাথেই সবজির বীজতলাও করেছিলেন। কিন্তু তামাক কম্পানির কর্মকর্তা সবজির বীজতলা দেখে চটে যান। ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তামাকের পাশাপাশি সবজি চাষ করা যাবে না। এ কথায় ক্ষেপে যান দুদু মিয়াও। তার নামে তামাক কম্পানির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে বলে দেন। তামাকের বীজতলা ভেঙে সবজির বীজতলা বাড়ানো শুরু করেন।

আবারো চিন্তায় পড়ে যান দুদু। তামাক চাষের জন্য অনেক জমি তৈরি করে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। তাই কিছু জমিতে তামাকচাষ করার জন্য তামাকের কিছু বীজতলা নষ্ট না করে রেখে দেন। সিদ্ধান্ত নেন কিছু জমিতে তামাক চাষ করবেন কম্পানির রেজিস্ট্রেশন না নিয়েই। আর চাষের পর সে তামাক কোনো কম্পানি ক্রয় করলে বিক্রি করবেন। আর সবজি চাষ করবেন পুরোদমে। যেই ভাবা সেই কাজ; এখন পুরো এলাকাতে কারো জমিতে সবজি দেখা না গেলেও হাজারো একর তামাক ক্ষেতের মাঝে শুধু দুদু মিয়ার এক একর সবজি ক্ষেত যে কারোই চোখে পরবে। প্রায় সব ধরনের সবজিই চাষ করেছেন দুদু মিয়া। পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন কোনো না কোনো সবজিই বিক্রি করছেন। এ বছর অতিবৃষ্টি এবং অসময়ের বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজি অনেক কম এবং দামও অনেক বেশি। এ কারণে দুদু মিয়া সবজি থেকে ভালোই মুনাফা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর জমিতে সবজির মধ্যে রয়েছে আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বটবটি, টমেটো, বেগুন, লাউ, মুলা করলা। এছাড়াও রয়েছে কয়েক রকমের শাক। পর্যায়ক্রমে বীজতলা থেকে সবজির চারা লাগানোও হচ্ছে আর মৌসুম অনুযায়ী প্রতিদিন বিক্রিও করা হচ্ছে নানা ধরনের সবজি।

দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এম শাহনেয়াজ বলেন, ‘দুদু মিয়ার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এরকম অন্যরাও সবজি চাষ করলে তামাক চাষ অনেক কমে যেত। আর কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে সবজি চাষ করলে তামাকের চেয়ে অনেক বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।’


মন্তব্য