kalerkantho


কর্ণফুলী ও ইছামতির ভাঙন রোধে ৮০০ কোটি টাকার তিন প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কর্ণফুলী ও ইছামতির ভাঙন রোধে ৮০০ কোটি টাকার তিন প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভাঙনজনিত কারণে স্থানচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা। সংস্থাটির এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই উপজেলার কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার শুধু কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কারণে স্থানচ্যুত হয়েছে। প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন : জিগারুল ইসলাম রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

 

কর্ণফুলী নদীর রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ অংশের দুই তীর এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতি নদীর ভাঙন রোধে ৫০২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এছাড়া কাপ্তাই লেকের ভাঙন রোধে রাঙামাটি শহরের ফিশারিঘাট থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক বাঁধের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য ১২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই লেকের অংশে কর্ণফুলী ও কাচালং নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধে ১৬৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ওই তিন প্রকল্পে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান। প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী।

মন্ত্রী সংসদে জানান, কাপ্তাই লেকের ভাঙন রোধ ও ড্রেজিংয়ে বর্তমানে কোনো প্রকল্প চলমান না থাকলেও এ নিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব সরকারের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং পর্যটননগরী খ্যাত পাহাড় ও হ্রদবেষ্টিত কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি করে নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। পানির স্রোতের এই অঞ্চলের কিছু অংশ প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে করে পার্বত্য এই জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের বিরাট একটি অংশ চরম দারিদ্র্যতা ও সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় এই ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার অংশে কর্ণফুলী নদী ও ইছামতি নদীর ভাঙন প্রতিরোধে নতুনভাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এর আগে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী তীরে ব্লক বসিয়েছেন।  স্থানীয়রা জানান, লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা কালস্রোতের সমান্তরাল প্রবহমান কর্ণফুলী নদী গ্রাম জনপদের

যুগ-যুগান্তরের কত ভাঙা-গড়া, উত্থান-পতন, মানুষের হাসি-কান্না ও আনন্দ-বেদনার নীরব সাক্ষী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধমনী কর্ণফুলী এখন দুই তীরেই ভাঙছে। নাব্যতা হারিয়ে প্রশস্ত হচ্ছে নদীর সীমানা, সংকুচিত হচ্ছে নদীতীরের জনপদ। দেশের প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্মিত কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর থেকেই কর্ণফুলীতে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে।

জানা গেছে, কাপ্তাই বাঁধের নিচে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয় রাঙ্গুনিয়া। উপজেলার চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, সরফভাটা, শিলক, কোদালা বেতাগী ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় দুই তীর থেকেই ভাঙছে কর্ণফুলী নদী। নদী গর্ভে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে এসব এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও চলাচলের রাস্তা। তলিয়ে গেছে শত শত একর কৃষিজমি। হারিয়ে যাচ্ছে স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বালির বস্তা আর গাছের ঝাঁটি দিয়েও স্থানীয় লোকজন ঠেকাতে পারেনি নদীর ভাঙন। ফলে ভাঙন আতঙ্ক বুকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছে নদী পাড়ের মানুষেরা।

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভাঙনজনিত কারণে স্থানচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসার এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই উপজেলার কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার শুধু কর্ণফুলী নদীর ভাঙনের কারণে স্থানচ্যুত হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কর্ণফুলী নদীর ও ইছামতি নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্লক বসানো হয়েছে। কর্ণফুলীর দুই তীরে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ অংশে ভাঙন রোধ এবং রাঙ্গুনিয়ার  আরেক খরস্রোতা নদী ইছামতির ভাঙনের কবল থেকে নদী তীরবর্তী মানুষকে রক্ষা করতে আরো ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। ৫০২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি প্রি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই একনেক সভায় অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।’ পানিসম্পদমন্ত্রী এ তথ্যই সংসদে প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।


মন্তব্য