kalerkantho


প্রতিদ্বন্দ্বী নেই প্রতিভার

জাকির হোসেন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি)   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিদ্বন্দ্বী নেই প্রতিভার

... প্রতিভা চাকমা দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য। গত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন প্রতিভা। আর এক মেয়াদেই উন্নয়ন এবং পরিশ্রম দিয়ে সাধারণ ভোটারের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। এ কারণে চলতি নির্বাচনে প্রতিভার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ‘সাহস’ করেননি কেউ। ফলে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন প্রতিভা চাকমা ...

 

আগামী ২৯ মার্চ খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ৪ নম্বর দীঘিনালা ও ৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ইউনিয়ন দুটিতে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী থেকে শুরু করে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য এবং সাধারণ সদস্য পদের সবকটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। শুধু ব্যতিক্রম বাবুছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ডের নারী সদস্য প্রতিভা চাকমা। ইউনিয়নটিতে গত নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল। সেই নির্বাচনে প্রতিভা চাকমা পেয়েছিলেন ১ হাজার ২৬৫ ভোট। আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ওই সময়ের নারী সদস্য চিত্রা দেওয়ান পেয়েছিলেন মাত্র ৬০০ ভোট। দ্বিগুণের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রতিভা।

দুই সন্তানের জননী প্রতিভা চাকমা। বড় ছেলে আশিষ চাকমা ৯ম শ্রেণিতে, আর ছোট মেয়ে স্বর্ণা চাকমা ৩য় শ্রেণিতে পড়ে।

প্রতিভা জানান, সন্তানদের পড়ালেখা আর জনসেবা নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকলেও সংসারসহ সার্বিক সহযোগিতা করেন তাঁর স্বামী শান্ত কুমার চাকমা। আর স্বামীর এ সহযোগিতার কারণেই তিনি জনগণের এত কাছে পৌঁছতে পেরেছেন।

প্রতিভা আরো জানান, তিনি গত নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার সুবিধা থেকে যাতে কেউ বঞ্চিত না হয় সেদিকে তিনি সার্বক্ষণিক দৃষ্টি দিয়েছেন। আর এবার তিনি এলাকার উন্নয়ন এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নের সময় বয়োজ্যেষ্ঠদের ডেকে মিটিং করে সকলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবেন।

এসএসসি পাস প্রতিভা চাকমার বাড়ি বাবুছড়ার নুনছড়ি মৌজার তরিতকান্তি কার্বারি পাড়ায়। সে পাড়ার বয়োজ্যেষ্ঠ সুভাষ চাকমা (৬৫) জানান, প্রতিভা সুখ-দুঃখের সময় সবার পাশে থেকে এলাকার মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন। এ জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দুয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এরকম শোনা গেলেও সাধারণ ভোটারের কোনো সাড়া না পাওয়ায় কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসেনি।

সংশ্লিষ্ট এলাকার হেডম্যান (৩৩ নম্বর নুনছড়ি) মৌজা প্রধান মুকুল চাকমা বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নসহ সামাজিক কর্মকান্ডে প্রতিভা চাকমা সবসময় সকলের পাশে থেকে এককভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। সে কারণে তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারানোর দুঃসাহস কেউ করেননি।’

প্রতিভার স্বামী শান্ত কুমার চাকমা বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি মানে জনসাধারণের সেবার জন্য নিয়োজিত। তাই পারিবারিক সমস্যা থাকলেও সেগুলো আমি সামলে নিয়ে তাঁকে (প্রতিভাকে) সবসময় জনসাধারণের সমস্যা দেখার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। এমনকি অধিকাংশ সময় সন্তান সামলে বাড়ির রান্নার কাজও আমি সামলে নিয়েছি; কারণ বাড়ির কাজের জন্য যেন সে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না যায়।’

চলতি মেয়াদের জন্যও প্রতিভার প্রতি শান্ত চাকমার পরামর্শ, গত মেয়াদের চেয়েও যেন এবারও দ্বিগুণ উন্নয়ন এবং সামাজিকতা বজায় রেখে কাজ করেন প্রতিভা চাকমা।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা রকর চাকমা জানান, প্রতিভা চাকমার সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। নির্বাচনী বিধি মেনে প্রতিভা চাকমাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।


মন্তব্য