kalerkantho


বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার পিএসসি (অব.)
নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষক

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি

শিল্পী : শাহাবুদ্দিন

একটি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৭১ সালে। এর আগে স্বাধীনতা আমরা একবার পেয়েছিলাম ১৯৪৭ সালে। সুতরাং ১৯৭১ সালে শুধু স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ ছিল না। স্বাধীনতার পথ ধরে সব ধরনের বঞ্চনা, বৈষম্য আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে মুক্তি অর্জনই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য। ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসকরা ধর্মীয় উগ্রবাদের শিকলে বন্দি করে সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং বাঙালি পরিচয়টিকেই বিলুপ্ত করতে চেয়েছে ধর্মের দোহাই দিয়ে। তার জন্য ১৯৭১ সালের ৯ মাসের যুদ্ধটিকে মুক্তিযুদ্ধ নামে অভিহিত করা হয়। একই কারণে বাহাত্তরের সংবিধানের একেবারে প্রথম তিনটি লাইনে প্রস্তাবনার অংশ হিসেবে লেখা হয়—‘আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।’ উগ্র ধর্মীয় চেতনাপ্রসূত ধর্মীয় রাজনীতি, বাঙালি সংস্কৃতি মুসলমানের সংস্কৃতি নয় এবং একমাত্র সামরিক বাহিনীই পাকিস্তানের রক্ষাকবচ—এই তিন উপাদান ও অভিধাকে অবলম্বন করে ২৩ বছর পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের শৃঙ্খলবদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করেছে। যখনই বাঙালি নিজেদের ন্যায্য অধিকার চেয়েছে, তখনই পাকিস্তানি শাসকরা প্রপাগান্ডা চালিয়েছে এই মর্মে যে বাঙালিরা খাঁটি মুসলমান নয়, বাঙালির সব কিছু হলো হিন্দুয়ানায় ভরপুর এবং এরা সব ভারতের দালাল ও পাকিস্তানের শত্রু। তাই ধর্মীয় রাজনীতি, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অপবাদ এবং সব ধরনের শোষণ ও অধিকারহীনতার কবল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে একাত্তরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ জন্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছায় সংবিধানের মৌলিক নীতি হিসেবে সন্নিবেশিত হয় ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এভাবেই বাঙালি জাতির মুক্তির ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন রচিত হয়। কিন্তু তারপর কী হলো? ১৯৭৫ সালের পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এত বিশাল শক্তিশালী ও সুগভীর ভিত্তিকে ভেঙেচুরে তছনছ করে দিলেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন, সশস্ত্র বিপ্লবের পর কাউন্টার বিপ্লব অবশ্যম্ভাবী।  তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি জাতির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র প্রাপ্তির গৌরব বিনষ্ট করার সাহস কেউ পাবে না। তা ছাড়া জনগণের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা ও নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাসে সম্ভাব্য প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে যে রকম নিষ্ঠুর ও নির্দয় হওয়া প্রয়োজন ছিল, বঙ্গবন্ধু তা হতে পারেননি এবং সেদিকে যাননি। এই সুযোগটিই নিয়েছে প্রতিবিপ্লবী গোষ্ঠী। পার্লামেন্টারি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সুযোগে ১৯৭২ সালে জাসদের সৃষ্টি হয় এবং তারা ত্বরিত গতিতে সশস্ত্র গণবাহিনী গঠন করে। তথাকথিত আরেকটি বিপ্লবের নেশায় ১৯৭৩ সাল থেকেই জাসদের গণবাহিনীর হত্যাকাণ্ডে মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি শুরু হয়। তখন সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রায় ২৫ শতাংশ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল এবং পাকিস্তানের সহযোগী ছিল। এরা বেশির ভাগই ছিল মুসলিম লীগ, জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামিস্ট দলের সমর্থক। স্বাধীনতার পর তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তখন মোট জনসংখ্যার বিরাট এই অংশ সব এসে জাসদের রাজনীতির পতাকাতলে আশ্রয় নেয়। স্বল্প সময়ে এত বিশালসংখ্যক মানুষের সমর্থন পেয়ে জাসদ হয়ে ওঠে বেপরোয়া, যদিও সমর্থকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, ধারণ করেছিল জাসদের ছদ্মবেশ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নেয় জাসদ। শুধু ১৯৭৩ সালেই ৭০টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি লুট হয়। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৯৭৩ সালেই এক হাজার ৮৯৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সাতজন সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে একসঙ্গে ২৭টি পাটের গুদামে আগুন দেওয়া হয়। উপরোক্ত সব হত্যাকাণ্ডের টার্গেট হয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতাকর্মীরা। ওই সময়ের পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে, এসব হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য মানুষ অভিযুক্ত করে জাসদের গণবাহিনীকে। তারপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মহাপ্রলয়কাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রতিবিপ্লবী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নিল। সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও প্রতিবিপ্লবের সিঁড়ি বেয়ে, সেনাবাহিনীর কাঁধে ভর করে রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান। প্রথমে খন্দকার মোশতাক অর্ডিন্যান্স জারি করেন এবং পরে জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত হত্যাকারীদের বিচারের পথ বন্ধ করে দেন। তারপর হত্যাকারীদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি দিলেন। বিশ্বে এমন উদাহরণ বিরল। আর এভাবেই জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল। এখান থেকেই সন্ত্রাসের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার শুরু। এই যে শুরু হলো হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি, যার লিগ্যাসির প্রভাব আমাদের রাজনীতিতে এখনো বিদ্যমান। তারপর জিয়াউর রহমান যে রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু করলেন, তাতে মুক্তিযুদ্ধের দর্শন ও আদর্শ বলতে আর কিছু থাকল না। সব কিছুতে পাকিস্তানীকরণ হয়ে গেল। ফলে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতির পথ আরো প্রশস্ত হলো। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যাঁরা ক্ষমতায় এলেন, তাঁরা পর্যায়ক্রমে সুযোগমতো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শ্রেণির মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের সব অঙ্গন থেকে বিদায় ও বিনাশ করার পথ ধরলেন। এই রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার জন্য জিয়াউর রহমানের আমল এবং পরে ২০০১-০৬ মেয়াদে জামায়াত-বিএনপির আমলে যে রকম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তার নজির বিশ্বে কোথাও নেই। এক লেখায় তার বিবরণ দেওয়া সম্ভব নয়। দেশি-বিদেশি গবেষকদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯-২০টি সামরিক অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টা হয় এবং তার জের ধরে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়, চাকরিচ্যুত হয় আরো কয়েক হাজার। এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠন করলে তার তদন্তে জানা যেত, ওই সব ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে কেন শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন দিতে হলো। হয়তো দেখা যাবে, পাকিস্তানীকরণের রাজনীতিকে নিষ্কণ্টক করার জন্যই সব কিছু করা হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে।

কিন্তু বিরোধীদের প্রতি এত নির্দয় ও নিষ্ঠুর হয়েও জিয়াউর রহমান নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না। ১৯৮১ সালের ৩০ মে তিনিও নির্মমভাবে নিহত হলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল ও স্ত্রী-পুত্র পরে ক্ষমতায় থাকার পরও একজন সিটিং রাষ্ট্রপতি হত্যার বিচার কেউ চাইল না। এ আরেক রহস্য। হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক লিগ্যাসি থেকে বের হতে হলে এসব রহস্যের জাল উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয় সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ তাঁর পূর্বসূরি জেনারেল জিয়ার ধারাবাহিকতাই শুধু রক্ষা করেননি, আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তানীকরণের অদম্য চেষ্টার অংশ হিসেবে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানসহ সংবিধানে সন্নিবেশ করেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। দুই সামরিক শাসক কর্তৃক একাত্তরের পরাজিত শক্তি মুসলিম লীগ, জামায়াতসহ উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতির আরেকটি ধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের জন্য বিভিন্ন নামে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে; যেমন—জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহ্রীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ইত্যাদি। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপির সঙ্গে মিত্রতার সুযোগে দুজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মন্ত্রী হওয়ায় ওই জঙ্গি সংগঠনগুলো আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য মাঠে নামে। তাদের টার্গেট হন তাঁরাই, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি সংস্কৃতি ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিশ্বাস করেন এবং তার জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটি ধর্মীয় মনোলিথিক রাষ্ট্র বানানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য অন্য ধর্মের যাজক ও ধর্মগুরুদেরও তারা হত্যা করে। উগ্র ধর্মান্ধতায় বিশ্বাস করেন না এমন পীর ও ইসলামী পণ্ডিতদেরও এই জঙ্গিরা হত্যা করে। সুতরাং সশস্ত্র জঙ্গিরা যেসব হত্যাকাণ্ড চালায় তার লক্ষ্যও স্পষ্টতই রাজনৈতিক। এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বিপরীতে রাজনীতি করে এবং ধর্মতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাদের একজন ব্যক্তির গায়ে জঙ্গিদের সামান্য টোকাও লাগেনি। সুতরাং জঙ্গি সংগঠন কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকাশ্যভাবে ধর্মীয় রাজনীতি দায়ী। তাই এগুলোও হত্যাকাণ্ডের রাজনীতির অংশ, যার শুরু ১৯৭৫ সালের পর থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ও নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ওই দিন তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জনসভার ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়াবহ গ্রেনেড আক্রমণ হয়। গুলিস্তানের সেই স্থানে আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আক্রমণকারীদের টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা, যদিও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। তারপর তৎকালীন জামায়াত-বিএনপি সরকার ঘটনাকে ঘিরে জজমিয়া নাটক তৈরি করায় মানুষের মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়, সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ওই গ্রেনেড আক্রমণ চালানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে শেষ করে দেওয়া। এই ঘটনাবিষয়ক মামলা এখনো বিচারাধীন। জনগণের মন জয় করে, সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার আত্মবিশ্বাস যাদের নেই, তারাই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পথ বেছে নেয়। ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহ্য, ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ এবং এর থেকে প্রসূত রাজনৈতিক আদর্শের যে পথ, সেটিকে ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে কখনো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় পরাজিত করা যাবে না। এ সত্য সবাই জানেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতা-নেত্রী ও ব্যক্তিরাই সব সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। একটা সুস্থ, উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে হলে হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে বের হতে হবে। তার জন্য সর্বাগ্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে অস্বীকার করে, অবমাননা করে রাজনীতি করা যায়—এমন কথা বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের ছোট করে রাখে। অথচ এটাই বাংলাদেশে এখনো চলছে। একমাত্র জনগণই এই কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে পারে।


মন্তব্য