kalerkantho


বাকৃবির তরুণ গবেষকের যুগোপযোগী উদ্ভাবন

মাছের বর্জ্যই মাছের খাদ্য

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাছের বর্জ্যই মাছের খাদ্য

তন্ময় কুমার ঘোষ

স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে পৃথিবীর চতুর্থ বাংলাদেশ। মৎস্য অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৭৮ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ দশমিক ৫০ লাখ টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। মাছের পাশাপাশি খাওয়ার অযোগ্য মাছের বর্জ্যও প্রচুর পরিমাণে উত্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে মাছের বর্জ্য রাস্তার পাশে, ডাস্টবিনে, পুকুরের পানিতে, নদীর পানিতে অথবা সমুদ্রের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এসব বর্জ্য পানি ও পরিবেশকে দূষণ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাছের খাবার তৈরির প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে রপ্তানি করা হয়, যা আমাদের জিডিপির উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্তরায়। কিন্তু সুষ্ঠুভাবে মৎস্যজাত বর্জ্য ব্যবহার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয়ের সুযোগ রয়েছে। গবেষণা করে এই সমস্যা সমাধানে সফল হয়েছেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের গ্র্যাজুয়েট ও তরুণ গবেষক তন্ময় কুমার ঘোষ।

তিনি ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টারের (বিওয়াইএলসি) সহায়তায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্প ‘একুয়ালাইন’ শুরু করেন। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, মাছের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করা। সম্প্রতি তিনি মাছের বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ব্যবহার করে আদর্শ মানের মাছের খাবার তৈরি করেছেন। এতে তিনি ৫০ শতাংশ মাছের বর্জ্য ও ৫০ শতাংশ অন্য প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহার করেছেন। তাঁর তৈরি মাছের খাবারে প্রোটিন ৪৩.২৩ শতাংশ, লিপিড ৫.৮৩ শতাংশ, ফাইবার ৪.৮৩ শতাংশ ও অ্যাশ ১৬.৯৩ শতাংশ । প্রায় ১৫ বার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে এটি তৈরি করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই খাবার তেলাপিয়া মাছের নার্সারি ফিড হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। অ্যাকোয়ারিয়ামে তেলাপিয়া মাছের ওপর পরীক্ষা করে তিনি আশানুরূপ ফল পেয়েছেন। বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) থেকে করা তাঁর প্রডাক্টে অ্যামাইনো এসিড প্রফাইলও পর্যাপ্ত এসেছে। এর পাশাপাশি তিনি বাকৃবির পশুপালন অনুষদের পুষ্টি বিভাগের গবেষণাগারে ‘ইন ভিট্রো এবং ইন ভিভো’ অ্যানালাইসিস করে ‘ক্যাটল ফিড’ হিসেবে তাঁর উৎপাদিত খাদ্যের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন। সেখানেও তিনি আশানুরূপ ফল পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তন্ময়কে তাঁর উৎপাদিত খাবার বাজারজাত শুরু করার কথা বললে জানান, এই পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছের খাবার উৎপাদন সম্ভব। তবে তাঁর একার পক্ষে বর্তমান অবস্থান থেকে এটা বাণিজ্যিকীকরণ করা সম্ভব নয়। ফিশ ফিড কম্পানিগুলো চাইলে খুব সহজেই এটাকে বাণিজ্যিকীকরণে নিয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া সহজলভ্য এই প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করতে মৎস অধিদপ্তরকেও এগিয়ে আসতে হবে।


মন্তব্য